লেখকঃ শহীদ আহমেদ মিঠু এর লেখা সমূহ

লেখক পরিচিতি

লেখকের নামঃ শহীদ আহমেদ মিঠু

লেখকের জীবনীঃ

শহীদ আহমেদ মিঠু টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের নিয়ামত পুর গ্রামে সম্ভ্রান্ত ফকির পরিবারে ১৯৬৯ সালের ১০ অক্টোবর জন্ম গ্রহন করেন। মাতা মমতাজ বেগম এবং পিতা মোঃ ছাবেদ আলী ফকির। ১৯৮৬ সালে ধনবাড়ী মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ঢাকা বিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের, অংকন ও চিত্রাংকন বিভাগ থেকে ১৯৯৩ সালে এমএফএ সম্পন্ন করেন। ১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সাথে প্রশিক্ষক হিসেবে যুক্ত হয়ে এখনও কর্মরত আছেন। ২০০৩ সালে বগুড়া আর্ট কলেজে প্রভাষক হিসেবে সংযুক্ত হন, ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটে চলে আসেন। বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন।

উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনীর মধ্যে ১৯৮৭-১৯৯৯ পর্যন্ত চারুকলা অনুষদের সকল প্রদর্শনী সহ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত নবীন শিল্পকর্ম প্রদর্শনী, জাতীয় শিল্পকর্ম প্রদর্শনী, এশিয়ান দ্বিবার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে অংশগ্রহন করেছেন । এছাড়া নারায়ণগঞ্জের ছাপ গ্যালারী আয়োজিত বার্ষিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহন, জাপানে গ্যালারী মেট্রো ‘আর্ট বিয়েনাল ফর এক্সচেঞ্জ অব জাপান, এশিয়ান, আফ্রিকান, ল্যাটিন আমেরিকান (ঔঅঅখঅ), চুয়া গ্যালারীতে , ‘১০ম, ১১শ কনটেম্পোরারি ইয়াং আর্টিস্ট, বাংলাদেশ’ প্রদর্শনী সহ দেশী বিদেশী বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশগ্রহন উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও দেশী বিদেশী সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আয়োজিত শিল্পকলা বিষয়ক বিভিন্ন কর্মশালায় অংশগ্রহন করেছেন।

চাকরীসুত্রে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এর অধীনে এসএসসি, এইচএসসি পরিক্ষা, এনটিসিআরএ আয়োজনে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা এবং জাতীয় বিশ^ বিদ্যালযের চারু ও কারুকলা বিষয়ের প্রশ্ন প্রণেতা ও পরিশোধক হিসেবে কাজ করে আসছেন। এ ছাড়াও এনসিটিবি আয়োজিত পাঠ্যক্রম কার্যক্রমের অধীন প্রাথমিক পর্যায়ে (১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত), এসএসসি এবং এইচএসসির পাঠ্যক্রম বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করে আসছেন।

১৯৮৯ সালে চারুকলার ছাত্রাবস্থায় ‘মন্দিরা’ নামে একটি লোকগানের দল গঠন করে নিজেদের লেখা সুর করা মৌলিক গানসহ সংগৃহিত লোকগান নিয়ে ২০০১ সাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠান করে বেড়ান। মাঝখানে ১৯৯৭ সালে সঞ্জীব চৌধুরীর সাথে ‘দলছুট ব্যান্ড’ গঠন করে গান রচনা করে “আহ্” নামে অ্যালবাম প্রকাশ করেন, যাতে বাপ্পা মজুমদার প্রথমে সংগীত পচিালক এবং পরবর্তীতে সদস্য হিসেবে যুক্ত হন। ঐ সময় ‘কালিক’ নামে নাটকের দলে সেট ডিজাইনার, প্রডাকশন ম্যানেজার এবং অভিনেতা হিসেবে কাজ করেন। চারুকলার বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রার পাশাপাশি যাত্রাপালার প্রচলন করেছিলেন, ১৯৮৯ সালে চারুকলা অনুষদ আয়োজিত বৈশাখ
উৎসব ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ যা এখন ইউনেস্কোর ইনটেনজিবল হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত, এর উদ্যোক্তাদের অন্যতম একজন তিনি। ‘রৌদ্রকরোটি’ নামক সংগঠনের প্রযোজনায়, এম. সাখাওয়াত হোসেন পরিচালিত যাত্রাপালা ‘মীর জাফর’ ঐ সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য কাজ। যার ধারাবাহিকতায় শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ২০১২ সালে মিলন কান্তি দে পরিচালিত ‘ঈশা খান’ যাত্রাপালায় সহকারী পরিচালক এবং ২০১৩ সালে সুলতান সেলিম পরিচালিত শহিদ মুনির চৌধুরী রচিত ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ যাত্রাপালায় নাটকটির যাত্রারূপসহ সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন।

চলচ্চিত্রের সাথে শিল্প নির্দেশক হিসেবে কাজ শুরু করেন আবু সাইয়ীদ পরিচালিত কীত্তন খোলায় সহকারী শিল্প নির্দেশনার মধ্য দিয়ে। এরপর একে একে গিয়াস উদ্দিন সেলিম, তৌকির আহমেদ, গোলাম রাব্বানী বিপ্লব, মোরশেদুল ইসলাম, তারেক মাসুদ সহ বিভিন্ন সনামধন্য চলচ্চিত্র পরিচালকদের সাথে পূর্ণদৈর্ঘ এবং স্বল্পদৈর্ঘ মিলিয়ে ২০টির মতো জনপ্রিয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। তারেক মাসুদ এর ‘রানওয়ে’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক হিসেবে ২০১২ সালে ‘বাচসাস’ চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন।

লেখকের লেখা সমূহ

Scroll to Top