ম. মানিক
মাইনউদ্দিন মানিক। তার লেখক পরিচয় ম.মানিক। জন্ম এবং বেড়ে উঠা নারায়ণগঞ্জ শহরে। পড়াশোনা নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল এবং সরকারি তোলারাম কলেজে। সেখান থেকেই রাজনৈতিক চেতনা বোধ জেগে উঠে। নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলে দশম শ্রেণীতে পড়ার সময়ই তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সংস্পর্শে আসেন। ৭৯'তে তোলারাম কলেজে প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েই তিনি ছাত্র রাজনীতিতে ওৎপ্রোতভাবে জড়িয়ে পরেন।
স্বৈরশাসক এরশাদ বিরোধী সংগ্রাম ও তার পতনের পুরোটা সময় তিনি ছাত্র রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছেন।
সে সময় আন্দোলনরত অবস্থায় স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের নির্মমতার শিকার হয়ে রাজনীতির শুরুতেই তিনি কারাগারের তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের এক সাহসী আপোষহীন ছাত্রনেতায় পরিনত হন। ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়েই তিনি মার্কসবাদী দর্শন গ্রহন করেন এবং কমিউনিস্ট আন্দোলনে নিজেকে নিয়োজিত করেন। তিনি দীর্ঘ সময় কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য ও পার্টির সার্বক্ষণিক কর্মীর দায়িত্ব পালন করেন।
পাঠাভ্যাস গড়ে ওঠে তার ছেলেবেলা থেকেই। পরিবারের বড়দের সান্নিধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠলেও লেখালেখির কলম ধরবার ইচ্ছে তাঁর কখনও হয়নি বা ছিলো না। কিন্তু সময়ই তার নিজের প্রয়োজনে একজন লেখককে দিয়ে নিজের কথা লেখিয়ে নেয়। এবং নিজের কথা বলিয়ে নেয়। আর তাই ম. মানিকের হাত ধরে উঠে এসেছে তাঁর দু খন্ডে লেখা প্রথম উপন্যাস " যে রাতে পূর্ণিমা ছিলো"। বিগত প্রায় তিনশত বছরের ইতিহাসের ঘটনা প্রবাহের আকর থেকে তিনি তুলে এনেছেন এ উপন্যাসের চরিত্রসমূহ, যা এই জনপদের কথা বলে যায়। বলে যায় মানুষের কথা। জীবনই তাঁর লেখার প্রধান উপজীব্য। গোর্কির ভাষায়, "জীবনের চেয়ে সুন্দর রূপকথা আর কিছু নেই"- এ সত্যের পথ ধরেই তিনি সাহিত্যের জটিল পথে হাঁটা শুরু করেছেন। কতোদূর যেতে পারবেন তিনি তা জানেন না।
শহরের কয়েকজন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন বন্ধুর সহযোগিতায় তিনি গড়ে তুলেছেন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন "বাতায়ন।"
তিনি বাতায়নের সাধারণ সম্পাদক।
সম্প্রতি তিনি প্রয়াত রনজিত কুমারের স্বপ্ন দিয়ে গড়ে ওঠা সংগঠন "শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমির" সভাপতির দায়িত্বে পালন করছেন। "যে রাতে পূর্ণিমা ছিলো" উপন্যাসটির মধ্য দিয়েই তার লেখালেখির জগতে হাতেখড়ি।
পিতা সুরুজ মিয়া, মা শাহাজাদি বেগম। তাদের দশ সন্তানের মধ্যে মাইনউদ্দিন মানিক তৃতীয়।