ধাবমান কথা
শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির জেরা না করে সময়ের জটিল পাঠ অসম্ভব। মত ও মননের গঠন ভেদেই কেউ সশস্ত্র, কেউ নিরস্ত্র হয়ে পড়েন। বহুপক্ষীয় উছিলায় গঠিত মানসিকতা ধরতে হলে শুধু কালো কালো অক্ষরই নয়, দুই শব্দের মাঝখানে ফাঁকা জায়গাটুকুও পড়া দরকার। তাই পই পই করে মনমগজের জেরা প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ায় তৃণ থেকে রাজাসন বিনা প্রশ্নে নয়। এমনটাই মনে করে ধাবমান।
লেখকের সঙ্গে জনপদের একটা বোঝাপড়া থাকে। এটি পাঠকের সঙ্গেও। একে অপরকে ব্যক্ত হওয়ার সুযোগটুকু দেবে, এর জন্য লড়াই জারি রাখবে, প্রাণপ্রকৃতির সবটা রা করে উঠবে এমন বাসনা আমাদের।
ধাবমান লিটল ম্যাগাজিন মুদ্রণ আকারে প্রথম প্রকাশ হয়েছিলো নব্বই দশকের মাঝামাঝি রনজিত কুমারের (আবীর বর্ষণ) সম্পাদনায়। এরপর রনজিত কুমার আবীর পরশ নামে সম্পাদনা করেন। তার জীবদ্দশায়ই নবম সংখ্যা থেকে কাজল কাননের সম্পাদনায় ধাবমান প্রকাশ হচ্ছে। এ পর্যন্ত দশটি সংখ্যা প্রকাশ হয়েছে। ১১তম সংখ্যার কাজ চলছে। এ সময়টুকুর মধ্যে দুনিয়া অনেক ক্ষেত্রে বদলে গেছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট বা অনলাইন একটা জেল্লা ধারণ করেছে। একটা নয়া বাস্তবতাও দৃশ্যমান। তাই এ সময়ে ধাবমানের উপলব্ধি- অনলাইন দুনিয়ায় তার একটা ভূমিকা থাকতে পারে।
আমরা বহুমতীয় একটা মোকদ্দমা চালিয়ে যেতে চাই। লেখক অবশ্যই তার স্বাধীন মত লিখবেন। আমরা সব মতকে সম্মান দেখাবো। তবে সব মত প্রকাশের নিশ্চয়তা দেবো না। কারণ আমাদেরও মত আছে, পক্ষ আছে। আমরা কোন্ পক্ষে, সেটি পরিষ্কার হবে আমাদের কাজের মধ্য দিয়ে।
বর্তমান সঙ্গীন বাস্তবতায় ছিদ্রান্বেষী না হয়ে উপায় নেই। ব্যক্তি কিংবা সমষ্টি, লেখক কিংবা পাঠক সকলের জন্যই এই অন্বেষা জরুরি। একটা যুদ্ধত্রস্ত্র ‘সভ্যতা’, মহাকাশ থেকে মাতৃভ্রূণ পর্যন্ত বারুদে পরিণত করেছে। পুঁজিবাদের আগ্রাসী থাবায় দুনিয়াটা একদলা কংক্রিট যেনোবা। এর বুদ্ধিবৃত্তিক প্রকল্প যুদ্ধাস্ত্রের চেয়েও ভয়ঙ্কর। প্রাণপ্রকৃতি বিনাশী, উপনিবেশিক আছর থেকে মনমগজ মুক্ত করার লড়াইটাই হতে পারে নয়া শিল্পের ভাষা।

