১.
লম্বা স্ট্রেইট সাদা চুল। চুলের মতো শরীরটাকেও যে কোনো ফিলিপিনোর তুলনায় একটু লম্বাই মনে হবে। মাথায় কালো টুপি, তার সাথে গোলগাল চেহারায় রিমলেস চশমার নিচে প্রায়শ ঝিলিক দেয়া মৃদু হাসি মাখা মুখ। সর্বদা শীতল কণ্ঠে আপন মনে গুনগুন গান। আর সেই গুনগুন আর হাসির হাওয়া ছড়িয়ে দিয়ে আমাকে, বীথিকে প্রথম সাক্ষাতে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন ফিলিপাইনের প্রতিবাদী কবি, শিল্পী জেস সান্তিয়াগো। এর পরের চারটা দিন কম্বোডিয়ার নোম পেনের সেই হোটেল লবিতে অনেক অনেক গল্প আর গানে ‘প্রাণে প্রাণ’ মিলেছিলো আমাদের। জেস সান্তিয়াগো আমাদের প্রথম পরিচয়েই এমন আপন করে নিলেন যে পরের কয়টা দিন আমাদের মনেই হয়নি আমরা পরস্পর সদ্য পরিচিত, মনেই হয়নি পরস্পর আমরা ভিন দেশের বাসিন্দা। টের পেলাম এমনি করে কাছে টেনে নিয়ে মানচিত্রের দূরত্ব ঘুচিয়ে ফেলবার, অপরিচিতকে আত্মার আত্মীয় বানাবার একটা গভীর চুপচাপ শক্তি রয়েছে ফিলিপাইনের গণমানুষের শিল্পী, কবি, ‘এএমপিথ্রি’র স্বপ্নদ্রষ্টা জেস সান্তিয়াগোর। আর সেই শক্তির কারণেই হয়তো সাউথ-ইস্ট এশিয়ার এতোগুলো দেশের শিল্পী নিয়ে স্বপ্ন দেখার সাহস করেছিলেন এএমপিথ্রি’র মতো একটা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলবার।
সাউথ-ইস্ট এশিয়ার দেশে দেশে যারা স্থানীয় জনতার লড়াই সংগ্রামে যুক্ত থেকে নতুন দিনের গান বাঁধছেন, গাইছেন, তেমন শিল্পী-গানের দল নিয়ে ২০১০ সাল থেকে যাত্রা শুরু করেছিলো ‘এশিয়ান মিউজিক ফর পিপলস, পিস এন্ড প্রোগ্রেস’ সংক্ষেপে অসঢ়৩। ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, জাপানসহ আরো বেশ কিছু দেশের প্রতিনিধিত্বমূলক গানের দল যুক্ত আছে এই ফোরামের সাথে। ২০২২ এর নভেম্বরে আমরা ‘সমগীত’ ডাক পাই বন্ধু রাইয়ান ও মাহার মাধ্যমে এবং আমি আর বীথি ঘোষ রওনা দিই ‘অসঢ়৩’র বাৎসরিক সম্মেলনে অংশ নিতে কম্বোডিয়ার, নোম পেনের উদ্দেশে।
২.
ম্যানিলার সতেরো কিলোমিটার উত্তরে, বুলাকান প্রদেশের সমুদ্র তীরের ছোট্ট শহর ওবান্দো। সেই শহরের দরিদ্র মা বাবার ঘরে জন্ম জেস এর। পুরো নাম জিসাস মেন্যুয়েল সান্তিয়াগো বা জেস সান্তিয়াগো। ওবান্দোর আরো অনেক শিশুর মতো ছোটবেলায় দারিদ্রের সাথে লড়াই করতে হয়েছে তাকেও। জেলে আর কৃষকদের মাঝে বেড়ে উঠছিলো যে ছেলেটি, তার পাবলিক স্কুলে পড়বার আকাঙ্খা পূরণ হচ্ছিলো না বাবার আর্থিক সামর্থ্যরে অভাবে। একদিন সে বেরিয়ে পড়লো রাস্তায়। হাতে নিয়ে কেনডিড বানানা, খেলনা মাকড়সা, কমিকস অথবা সংবাদপত্র। বিক্রির টাকা দিয়ে চালাতে শুরু করলো নিজের স্কুল পড়ার খরচ। আর স্কুল পেরিয়ে কলেজে উঠে জুটিয়ে নিলো পার্টটাইম জব। কখনো হোটেল বয়, দারোয়ান, কখনো বা লাইব্রেরির বুককিপার কিংবা কোনো অফিসের কেরানি। উঠতি জীবনের এইসব নানাবিধ অভিজ্ঞতা জেস এর কবিতা, গানে যেমন প্রভাব ফেলেছিলো তারও চেয়ে তীব্র, চিরস্থায়ী দাগ ফেলেছিলো স্বৈরশাসক মার্কোসের সত্তর দশক। রাষ্ট্রীয়, প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং ধনী-দ্ররিদ্রের বৈষম্য চরম সীমানা ছাড়িয়ে ছিলো তখন। ’৭২ থেকে ’৮৬ মার্কোসের শাসনামলে গুম, খুন এবং নির্যাতনের শিকার হন অসংখ্য ফিলিপিনিজ। এমন কি প্রবাসে নির্বাসিত বিরোধীদলীয় জনপ্রিয় নেতা বেনিগনো অ্যাকুইনো ’৮৩ এর আগস্টের এক বিকালে দেশে ফিরে এলে তাকে বিমান থেকে নামার পরপরই গুলি করে হত্যা করা হয়। বিমান বন্দরের এতো পুলিশ পাহারার মাঝে বেনিগনো’র এই ‘গুপ্তহত্যা’ জনগণ মেনে নিতে পারেনি। ফিলিপানের জনগণ গণতন্ত্র উদ্ধারের আন্দোলনে স্বোচ্চার হয়ে ওঠেন। যার ফলশ্রুতিতে মার্কোস আগাম নির্বাচন দিতে বাধ্য হন। মার্কোসের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন বেনিগনো’র স্ত্রী কোরি। নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ উঠলেও মার্কোস নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। আর তাতে ফিলিপাইনের জনগণ ‘জনশক্তি’ বিপ্লবের ডাক দেন এবং মার্কোস আন্দোলনের চারদিনের মাথায় সপরিবারে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এমনই এক উত্তাল সময়ের গর্ভে বেড়ে ওঠেন কবি জেস সান্তিয়াগো।
জেস ফিলিপাইনের প্রতিবাদী কবি ও সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে ভীষণ শ্রদ্ধাভাজন। তার কবিতা ও গানে প্রতিফলিত হয়েছে ফিলিপাইনের সামাজিক, রাজনৈতিক বাস্তবতার চিত্র। মার্কোসের শাসন আমল থেকে আজ অবধি বিভিন্ন প্রতিবাদী সমাবেশ কর্মকাণ্ডে তিনি একজন অবিচল দৃঢ়চেতা শিল্পী সংগঠক। তিনি অনুবাদ ও নিয়মিত পত্রিকায় সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কলাম লিখছেন। তার কবিতা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। যার মধ্যে গ্লোবাল গ্রুপ এলায়্যান্স ফর দ্যা রেসপনসিবল এবং ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড এর ক্যারাভান ম্যাগাজিন অন্যতম। তিনি ফিলিপাইনের ভাষা ইনস্টিউটের ১৯৭৮ ও ৭৯ সালে পরপর ২ বছর “পোয়েট অফ দ্যা ইয়ার” নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফিলিপাইনের পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট তাকে গণমুখী সঙ্গীত আন্দোলনের জন্য “ মাদার অফ কান্ট্রি” পুরস্কারে ভূষিত করে। তিনি “তুলা ঞঁষধ (শিল্পী ও সংগঠক), এশিয়ান কালচারাল ফোরাম অফ ডেভেলপমেন্ট, এশিয়া-প্যাসিফিক রিজিউনাল কনসালটেশন অন পিপলস কালচার এবং ফিলিপাইনের ন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ রাইটারস-এর সদস্য ছিলেন। তিনি ফিলিপিনো ভাষায় লুসুন এর ডায়েরি অব অ্যা ম্যাডম্যান, আর্থার মিলার এর ডেথ অব অ্যা সেলসম্যান এবং লাতিন আমেরিকান এবং আফ্রো-এশিয়া লেখকদের বেশ কিছু কবিতা, গান অনুবাদ করেছেন। গায়ক ও সুরকার হিসেবে এখন পর্যন্ত ৩টি এ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। প্রথমটি “হালিনা (১৯৯১)”, ২য় টি “ওবান্দো (১৯৯৩)”, এবং ৩য় টি “পুসো এট ইসিপ (২০০৮)”।
`Let my guitar speak
Witness to the measure of our pain
The voice of our hope bathed in blood
My guitar is a swallow
Free as the wind from the east
But assassins stalk the earth
And birds are killed like men…..’
(Let my guitar speak-Jess Santiago)
সান্তিয়াগো বিশ্বাস করেন গান এবং অন্যান্য শিল্প মাধ্যম সামাজিক-রাজনৈতিক সমস্যা মোকাবেলার একটি উপায় এবং তাকে জনগণের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। আর এই গানের জগতে তার প্রবেশের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘আমার লেখালেখি শুরু ছড়া, কবিতা দিয়ে। ৭০ দশকে আমি চেষ্টা করি গান লেখার। কারণ কবিতা প্রকাশ তখন কঠিন ছিলো। তখন রেডিওতেও সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গান করা অসম্ভব ছিলো। তখন আমি নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করি, কেন গান লেখা শুরু করছি না? গানতো মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে অনেক দ্রুত। কেউ যদি একটা গান লিখে তার পর মুহূর্তেই সেটা তার প্রতিবেশী কিংবা বন্ধুদের সাথে শেয়ার করা সম্ভব। আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম, গান করবো। একটা গিটার হাওলাদ করে অল্প কিছু কর্ড শিখে ফেললাম। তখন আমার এমনকি সেই কর্ডগুলোর নামধাম কিছুই জানা ছিলো না। শুধু যা ছিলো তা হলো নির্লজ্জতা আর বেপোরোয়া সাহস। হা হা হা। আমি মিউজিক সম্বন্ধে কিছুই জানতাম না। আমি শুধু আমার সময়ের সাড়াটুকু দিতে চেয়েছিলাম।’
`Lina was a beautiful girl
Worked the night shift in a textile factory
Joined the union, joined the strike
A riot broke out, Lina disappeared
When last seen, she was naked and dead….’
(Halina- Jess Santiago)
ষাটের দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবাদী ধারার শিল্পীরা যেমন জনপ্রিয় লোকগানের সুর, প্রকাশ ভঙ্গিকে বেছে নিয়েছিলেন, জেসের গান সেই ধারা দ্বারাই অনুপ্রাণিত বলে আমার মনে হয়েছে। তিনি তার গানে সহজ সুরের চলনে মূলত মানুষের নিপীড়নের, নাগরিক অধিকারের গল্প-কথকতাকে হৃদয়গ্রাহী করে তুলতেই প্রধানত মনোযোগী হয়ে ওঠেন। সত্তর দশকে ফিলিপাইনের স্বৈরশাসনামলে সামন্তবাদ, পুঁজিবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়াজাত জনগণের দুর্দশার চিত্র উঠে এসেছে তার গানে। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যায় তার ‘হালিনা’ গানটির কথা। টেক্সাইল কারখানার শ্রমিক লিনা সামরিক শাসনামলে শ্রমিক ইউনিয়নের ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করেন। ধর্মঘট চলাকালীন জান্তা সরকার দ্বারা সংঘটিত দাঙ্গা শেষে লিনার নগ্ন দেহ আবিষ্কারের ঘটনা নাটকীয়ভাবে বর্ণনা করেন জেস তার ‘হালিনা’ গানে। আবার ‘পেদ্রো পিলপিল’ গানে উঠে এসেছে এক কৃষকের বঞ্চনার গল্প। পেদ্রো পিলপিল ফিলিপাইনের এক পরিশ্রমী কৃষক। যার কৃষি জমিটুকু ছাড়া আর কিছুই নেই সম্বল। একদিন হঠাৎ কিছু মানুষ যখন এসে তার ফসলসহ সমুদয় জমি কেড়ে নিতে চায়, সে প্রতিবাদ করেছিলো এবং সেই প্রতিবাদের কারণে পেদ্রোকে গুলি খেয়ে মরতে হয়েছিলো। লিনা এবং পেদ্রো ফিলিপাইনের সমাজের অতিপরিচিত-পুরোনো সমস্যাগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে। কিন্তু ‘অ্যালিং মারিয়া’ গানের প্রেক্ষাপট হাল আমলের উন্নয়ন দর্শনের জুলুমের বয়ান। ফিলিপাইনের মেট্রো ম্যানিলাকে ‘উন্নয়নের’ চোখে হতে হবে চকচকে তিলোত্তমা নগরী। ফলে এখানেতো বস্তি রাখা চলে না। পর্যটকদের দৃষ্টি সীমানা থেকে ‘অসুন্দর’ দারিদ্র্যতাকে আড়ালের প্রচারণার কারণে রাতারাতি গৃহহীন হয়ে পড়েছে ‘অ্যালিং মারিয়া’র মতো অসংখ্য পরিবার।
Aling Maria’s family lived
Beside a mountain of garbage
One day, their shack was bulldozed
Because tourists were coming
A family lost their home…
এই দৃশ্যাবলীর সাথে আমাদের বাংলাদেশের কি কোনো মিল নেই? আছে নিশ্চয়ই। সাইথ-ইস্ট এশিয়ার দেশে দেশে নিপীড়নের গল্পগুলো যেনো একই। ফলে সান্তিয়াগো যখন ফিলিপাইনের জনতার কথা তার গানে গেয়ে ওঠেন তখন সে গান আমাদেরও গান হয়ে যায়। তেমনি করে বাংলাদেশের জনতার লড়াইয়ের গান সংহতি প্রকাশ করে ফিলিপাইনের জনতার সংগ্রামের সাথে। আর এই সংহতি, লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ সংগ্রামের সুর রচনার স্বপ্নইতো দেখেন জেস সান্তিয়াগো।
জেস তার গানে যে দৃশ্য চিত্রায়ণ করেন সেগুলো তার ব্যক্তিগত, পরিচিত অভিজ্ঞতা থেকেই নেয়া। সেই সকল চিত্রকল্প মূলত ফিলিপাইনের রাজনৈতিক, সামাজিক নিপীড়নেরই প্রতিফলন। শ্রোতাও সেই চিত্রকল্পের সাথে মোটেও অপরিচিত নন। জেস শুধু শ্রোতার অভিজ্ঞতার আবেগকে আরো গভীরভাবে উস্কে দেন, নাড়িয়ে দেন। যখন ফিলিপাইনের সংবাদপত্র শুধু সরকারি বয়ানকেই হাজির করছিলো, জনতার আর্তনাদকে আড়াল করে, তখন সান্তিয়াগোর গান যেন জনতার মুখপাত্র হয়ে উঠেছিলো।
ফিলিপাইনের জনতার সেই দ্রোহ-ভালোবাসা বয়ানের শিল্পী জেস সান্তিয়াগো বাংলাদেশে এসেছেন সমগীতের আমন্ত্রণে। তাকে জানাই আন্তরিক অভিবাদন। লেখা শেষ করবো তার লেখা There’s a village in the making’ গানের অংশবিশেষ ভাবানুবাদের মধ্য দিয়ে। এই গান রচনা করেছিলেন Alliance for a Responsible and United World এর জন্য। যে গানে তিনি United World এর প্রতীকে ব্যবহার করছেন ‘ Village’কে। তিনি বলছেন, ‘.. It is the basic socio-political unit. Every person-every living thing for that matter– comes from a village, one way or another. Also, `village’ means the soil, the land. Even as we let our dreams run wild, we must keep our feet firmly planted on the ground.’
একটি গ্রাম তৈরি হচ্ছে
গ্রামহারা মানুষের জন্য
অবহেলা যাদের ফুসফুসের বাতাসের মতো সঙ্গী
কেউ করেনি যাদের আর্শীবাদ
তবু যারা বেঁচে থাকে
একটি গ্রাম তৈরি হচ্ছে তাদেরই জন্য।
যাদের আকাশ থেকে রঙধনু হারিয়ে যাবার পর
আবার আবার নতুন স্বপ্ন এঁকে যায় ধূসর দুনিয়ায়।
বাইনারি অথবা ইসারা ভাষায়-
কারো কথা ভেসে আসে নিঃশব্দ ইথারে
আজো তবু হৃদয়ের ভাষা জানি আপন মাতৃভাষা সবার-
সে ভাষার গানে গানে তৈরি হচ্ছে একটি গ্রাম
তোমার আমার জন্য
যারা নিরাশার সাইরেনের তলে
এখনো স্বীকার করিনি জীবনের চাষাবাদ তুলে দিতে।
তৈরি হচ্ছে একটি গ্রাম
বাতাসের বুকে অন্ধ জেলখানার কপাট ভাঙার আওয়াজ তুলে
আমাদের সাহসে-সংগ্রামে
লিঙ্গ-বর্ণ-ভেদরেখা মুছে,
মুছে ফেলে কর্তৃত্ববাদের হেডম
তৈরি হচ্ছে আমাদের গ্রাম
বন্ধু এসো তবে গলায় গলায়
গেয়ে যাই সেই গ্রামেরই গান।





কমেন্ট করুনঃ