আন্দোলন সেটা সামাজিক হোক বা রাজনৈতিক কিংবা শিল্পবিষয়ক আকাশ থেকে পড়ে না। আর আন্দোলনটি যখন অভ্যুত্থানে রূপ নেয়, তখন তো সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়। আর সেই মুভমেন্ট আপনি এড়িয়ে যেতে পারবেন না আপনাকে দেখতে হবে, পড়তে হবে দেয়াললিখন, শুনতে হবে স্লোগান, মানুষের কথা। একটা রাজনৈতিক মুভমেন্টের কালচারাল রিপ্রেজেন্টেশন নানামাত্রায় গুরুত্ব বহন করে। প্রতিরোধের, প্রতিবাদের এবং জীবনের খুন, প্রথম শিল্পে ধরা দিতে থাকে এমন কথাবার্তা সেই ষাটের দশকের জাতিবাদী আন্দোলন থেকে শুরু করে নাগরিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামের সময় থেকেই বলা হয়ে আসছে। এই খুন-জখমধরা শিল্প যখন জনপরিসরে হাজির হতে থাকে, তখন তা পলিটিক্যাল মুভমেন্টের ভাষ্য হয়ে ওঠে। এমনটাই ২০২৪ সালের বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার রক্তখচিত জুলাই অভ্যুত্থানে দেখতে পেলাম, শুনতে পেলাম, যা এই আন্দোলনে গতি সঞ্চার করেছে, প্রাণ দিয়েছে, ভাষা দিয়েছে এবং অর্থময়তা তৈরি করে শিল্পকে জ্যান্ত করে তুলেছে।

আমাদের ভাষার লড়াইয়ে জাতিবাদী সংগ্রাম থেকে শুরু করে গত শতকের শেষ দিকের সামরিক-স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শিল্পী-সাহিত্যিকদের গৌরবজনক ভূমিকা ছিল। আগের মুভমেন্ট, আন্দোলন-পরবর্তী সংগ্রামে প্রেরণা জোগায় সত্য; কিন্তু সাম্প্রতিক সংগ্রাম, মুভমেন্টের শিল্প ও ভাষা নিজস্ব হতে হয়। আন্দোলন-সংগ্রামের রাজনৈতিক সাফল্য আর শিল্প আন্দোলন এক নয়। যদিও মানুষ লুঙ্গি পরে ঢাকা ক্লাবে যেতে পারছেন না, আবার হাফপ্যান্ট পরেও ঢুকতে পারছেন না এই দুইয়ের রাজনীতি আলাদা হলেও সংকট এক। উভয়েই ঢাকা ক্লাবে ঢুকতে না পেরে ফুটপাতে বসে চা খাচ্ছেন। আন্দোলনের রাজনৈতিক সাফল্য আর শিল্পভাষ্য হয়ে ওঠার সফলতা আলাদা হলেও কদাচ ফুটপাতে মিলিত হয়ে রাজপথ দখল করে সব অপ্রবেশ্য দুয়ার ভেঙে দিতে পারে সে তো আমরা দেখলামই।
শিল্প আন্দোলনের কথায় পরে আসছি, আগে একটা স্থুল ও সমস্যাজনক আলাপে আসি। সব শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, গায়ক কি আন্দোলন-সংগ্রামে যথোচিত, আশানুরূপ সাড়া দিতে পারেন বা দিতে বাধ্য? হোক সেটা সংগ্রামী কিংবা দরদি কিংবা মরমি ভাষায়। আমরা দীর্ঘদিন একটা দোষারোপের, উইচ হান্টিংয়ের, বিভাজনের এবং শত্রুবধের চর্চার মধ্যে পড়ে আছি। এটা শুধু গত ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট রেজিমের দায় বলে মনে করি না। এর মূল প্রোথিত আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিল্প-চেতনার আরও গভীরে। ফলে ব্যক্তি মানুষের স্বাধীনতা, আর্টিস্টের ইচ্ছা-অনিচ্ছা এবং পরিস্থিতি বিবেচনাতেই আসে না অনেক ক্ষেত্রে। উপরন্তু যে আর্টিস্ট কাজ করছেন, জারি থাকছেন, তার কাজ হাজির থাকার চেয়ে অনেক সময় নির্দিষ্ট শিল্পীর অনুপস্থিতি, কথা বলতে না পারাটা নিয়ে তৈরি হয় ক্যাওস এ যেন এক ‘ঘনঘোর ফ্যাসিবাদ’ (হাসান রোবায়েত) খেলা করে আমাদের মনোজগতে। খুব সুন্দর আর সার্থকভাবে এর জবাব দিয়েছেন র্যাপার ফকির লাল মিয়া। সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে গান নেই কেন, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আপনারা আমার মতো পুরনো র্যাপারের ওপর এত প্রত্যাশা না করে নতুনদের সাপোর্ট করুন। রিটায়ার্ড লোকের স্পট যেমন নতুন কাউকে পূরণ করতে হয়, তেমনি একজন শিল্পীও সব সময় প্রাসঙ্গিক থাকেন না। তিনি একটা সময় পর আর আগের মতো এনার্জি দিতে পারেন না। এই ব্যাপারটা আশা করি সবাই মাথায় রাখবেন…।’

শিল্পীর প্রাসঙ্গিক থাকা না থাকা নিয়ে আরেকটু বলা যায়। আমাদের ভাষাসংগ্রাম, স্বাধীনতাসংগ্রাম, সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনগুলোয় নিশ্চয়ই যেসব গান-কবিতা, দেয়াললিখন হয়েছিল সেসব এবারও ফিরে এসেছিল। কিন্তু তার ন্যারেশন অন্য রাজনৈতিক দ্যোতনায় হাজির হয়েছে বর্তমানের ভাষায়। বিশেষ করে গ্রাফিতিতে ‘রক্তের দাগ এখনো শুকায় নাই’ এর কথা মনে পড়ছে। বাকস্বাধীনতার প্রসঙ্গ উচ্চারিত হয়েছে র্যাপের ছন্দে, হিপহপ বিটে যেখানে প্রাসঙ্গিক থেকেছে ৫২-এর ভাষা আন্দোলন ওরা আমার মুখের কথা কাইড়া নিতে চায়। এমন আরও আরও উদাহরণ তুলে আনা যায়। মূলত এবারের ছাত্র-আন্দোলনে র্যাপার এবং আর্টিস্টরা তাদের ইতিহাস-চেতনাকে উজ্জ্বলভাবে তুলে আনতে পেরেছেন। পুলিশের গুলিতে ছাত্র-জনতা হতাহত হওয়ার প্রতিবাদে ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে’ কণ্ঠে তুলে রাজপথে নেমে আসে ঢাকার কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। পশ্চিমবঙ্গের গীতিকার মোহিনী চৌধুরীর লেখা কালজয়ী এই গান ঢাকার আন্দোলনে প্রেরণা জুগিয়েছে। কাজী নজরুল ইসলামের ‘কারার ঐ লৌহ-কপাট’ ছাত্র-জনতাকে সাহস জুগিয়েছে। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘ধনধান্য পুষ্পভরা’ গানটিও শোনা গিয়েছে।

গ্রাফিতি আর্টিস্টদের ভূমিকা আমাদের এখানকার দেয়াললিখন বা যা চিকা মারা হিসেবে পরিচিত ছিল তার ভাষাই বদলে দিয়েছে, যা একই সঙ্গে রঙ-রেখায় লোকাল, ভাষায় সর্বজনীন। একই সঙ্গে কাব্যগুণসম্পন্ন, প্রতিবাদী, উইটি এবং রাজনৈতিক। কিন্তু আন্দোলনের পরপরই কিছু কিছু গ্রাফিতি ও স্লোগান মুছে ফেলা, নতুন করে আঁকা এবং সাজানো নিয়ে কিছু সমালোচনাও তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত কবি, দার্শনিক ফরহাদ মজহারের সাক্ষাৎকার থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া যাক। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল এই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শিল্পভাষা ও উপস্থাপনায় নতুন কী পেলেন? জবাবে তিনি র্যাপারদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে গ্রাফিতি প্রসঙ্গে বলেন, ‘আপনি গ্রাফিতি মুছছেন কেন আন্দোলনের? প্রত্যেকটা স্লোগান তো এখন হিস্ট্রি, আপনাকে মুছতে বলেছে কে? তার মানে শিল্প সম্পর্কে ধারণা নেই। গ্রাফিতি হচ্ছে সবচেয়ে লিভিং আর্ট। দেখেন ফ্যাসিজম কিন্তু আমাদের অবচেতনে কাজ করে, আমাদের আর্টের ধারণার মধ্যেও ফ্যাসিজম আছে। মানে ওই যে আর্ট হতে হলে সুন্দর কিছু হতে হবে এমন। আরে ভাই, শেখ হাসিনার ফাঁসি চাই, শেখ হাসিনার পতন চাই, ফ্যাসিবাদের পতন চাই; এখানে “শুয়োরের বাচ্চা” বলাটাও তো আর্ট।’ এই সমালোচনার পরও বলা যায়, আন্দোলনের সময় এবং তার আগে থেকে যারা গ্রাফিতি করে আসছেন, তাদের ভূমিকা ছোট হয় না। বরং সেগুলোর তীব্রতা এবং রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতাই প্রকট করে তোলে। এ ক্ষেত্রে শিল্পী রাজীব দত্তের কথাও তুলে ধরা যেতে পারে। তিনি বলেছেন, ‘দেয়ালে লেখা-আঁকা সবটাই “গ্রাফিতি” না। যতটুকু “লেখা-আঁকা”কে মুছে দিয়ে “ভদ্র” বানাইতে হচ্ছে, অইটুকুই “গ্রাফিতি”। বাকিটা ভোঁতা জিনিস।’ কিছুদিন আগ পর্যন্ত শহরের দেয়ালে ইঙ্গিতময়তায় প্রায় বিমূর্ত কবিতার মতো এবং অলিগলিতে বিচ্ছিন্নভাবে নামাঙ্কিত যেসব গ্রাফিতি দেখা যেত, সেখানে এবারের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গ্রাফিতিরও মুক্তি ঘটেছে। ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের ভাষায়, স্ট্রাগালের ভূগোলহীনতার রেখায়।
অবরুদ্ধ সময়ে তখনো ফেটে পড়েনি মানুষ। কিন্তু ফুঁসছে বিভিন্ন স্থানে। সেই গুয়ানতানামো সময় থেকে র্যাপাররা সক্রিয়। সেই বিডিআর বিদ্রোহের সময়ও তারা প্রশ্ন তুলেছিল সেনামৃত্যু নিয়ে। আপটাউন লোকলজ বলেছিল, ‘৩৮টা বছর হইছে, দেশটা কি কামাইছে/ চারপাশে দেখ বাঙালিরা কি কামাইছে/ দেশটার ভবিষ্যতের নাই কোনো খবর’; ‘কিছু কইলে কিছু হইলে পরে লুকাইয়া পারুম না…’। বলতে চাচ্ছি, এমন না যে র্যাপাররা এই ২০২৪-এর জুলাইতেই যে আকাশ থেকে তাদের তীব্র কথা, দেশ-চেতনা নিয়ে হাজির হলো এমনটা নয়। যেমন এই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও চলতি বছরের জুলাইয়ের অনুষঙ্গ নয় শুধু। ভ্যাট আন্দোলন, সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের ভেতর থেকে গড়ে ওঠা এই জুলাই অভ্যুত্থানের যেমন একটা পথরেখা আছে, তেমনি দেশের র্যাপার ও গ্রাফিতি আর্টিস্টদেরও একটা জার্নি এর সঙ্গে জড়িত। ফলে জুলাই কিংবা তার আগে থেকে একদিকে ছাত্র-জনতার মিছিল, স্লোগান যেমন চলছিল, তেমনি দেয়ালের লিখন, রঙ বদলাচ্ছিল। র্যাপারদের কথা বিট ছড়িয়ে পড়ছিল বিক্ষোভের তালে তালে।
এবারের গণ-অভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জের র্যাপার সহোদর সেজান ও হান্নান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠেছেন। গত ১৬ জুলাই প্রকাশিত সেজানের ‘কথা ক’ গানটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে। গানে সেজান প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমার ভাই-বইন মরে রাস্তায়, তর চেষ্টা কইরে? কথা ক।’ ততক্ষণে বন্দুকের সামনে দুই হাত প্রসারিত আবু সাঈদের বিশ্বাসের বুকখানি পুলিশের ছোড়া বুলেটে ঝাঁজরা হয়ে গিয়েছে। গানটি প্রকাশের দায়ে ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পড়তে হয়েছিল সেজানকে। অন্যদিকে হান্নানের ‘আওয়াজ উডা’ গানটি রীতিমতো স্লোগানে পরিণত হয়। আলোচিত গানটি আন্দোলনের শিরোনাম হিসেবেও অনেক আয়োজনে ব্যবহার হয়, গ্রাফিতি তো আছেই।

১৭ জুলাই ‘আওয়াজ উডা’ লিখেছেন হান্নান; সেদিন রেকর্ড করে ১৮ জুলাই ইউটিউবে প্রকাশ করেন। গান প্রকাশের পর ছাত্রলীগ নেতারা হান্নানকে হুমকি দিয়েছেন। তাকে ধরতে বাড়িতে পুলিশও গিয়েছিল। বাধ্য হয়ে হান্নানকে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল। পরে এক আত্মীয়ের জানাজা থেকে ফেরার পথে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১২ দিন কারাগারে ছিলেন এই র্যাপার।
আন্দোলনের মধ্যে অন্তত ৪০টি বাংলা র্যাপ প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিটি ট্র্যাকই আন্দোলনে উদ্দীপনা জুগিয়েছে। যেমন ‘দেশ সংস্কার’, ‘স্বাধীনতার গন্ধ’, ‘ছাত্র’, ‘স্লোগান’, ‘অধিকার’, ‘দেশ কার’, ‘আবু সাঈদ’, ‘রক্ত’, ‘দেশ কারও বাপের না’, ‘জবাব দে’, ‘জয় বাংলা’, ‘কত খাবি’, ‘শকুনের চোখ’। অভ্যুত্থানে বাংলা র্যাপের এক জাগরণ তৈরি হয়েছে, যা তার শ্রোতার গন্ডি অতিক্রম করে সংগ্রামের সর্বজনীন ভাষ্য হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া রক আর্টিস্টরাও শামিল থেকেছেন আন্দোলনে। প্রিন্স মাহমুদের কথায় জেমসের গাওয়া ‘বাংলাদেশ’, ওয়ারফেজের ‘জনস্রোত’, শিল্পী হায়দার হোসেনের ‘স্বাধীনতা’, মাকসুদের ‘আবার যুদ্ধে যেতে হবে’সহ আরও কয়েকটি পুরনো গান আন্দোলনে প্রেরণা জুগিয়েছে। ইথুন বাবুর লেখা ও মৌসুমীর গাওয়া ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’ও নিয়মিত বেজেছে। আন্দোলনে সরব ছিলেন সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান। আন্দোলনের মধ্যে ‘ভয় বাংলায়’ শিরোনামে একটি গানও এনেছেন তিনি। এ ছাড়া, নিখোঁজ কল্পনা চাকমাকে নিয়ে তার একটি গান এ সময় বেশ আলোচিত হয়ে ওঠে। আন্দোলনের মধ্যে কাজী নজরুল ইসলামের ‘এই শিকল পরা ছল’ গেয়েছেন শেখ ইশতিয়াক, শাকিব চৌধুরী, রায়েফ আল হাসান রাফা, প্রবর রিপন ও জামশেদ চৌধুরী। গানের মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্যও জানিয়েছেন তারা। তরুণ গায়িকা পারশা মাহজাবীনের ‘চলো ভুলে যাই’ ভাইরাল হয়েছিল।

কবিদের মধ্যে ইমতিয়াজ মাহমুদ, হাসান রোবায়েত, রওশন আরা মুক্তাসহ অনেকের কথাই উল্লেখ করা যায়। কবিদের কারও কারও পঙ্কতি গ্রাফিতি ও দেয়ালচিত্রে জায়গা করে নেয়। ছাত্র-জনতার এই গণ-অভ্যুত্থানকে ঘিরে শিল্প আয়োজনের বিষয়ে অনেক কথাই হয়তো বলা যায়, বলা হবে, অনেকে অনেকভাবে একে চিহ্নিত করবেন। এ প্রসঙ্গে সুফি সাধক ও আর্টিস্ট, কবি, গল্পকার রনি আহম্মেদ বলেছেন, ‘জেন-জিদের করা দেয়ালচিত্রের এই ট্রেন্ডের মধ্য দিয়ে একটা দেশি শহুরে শিল্পধারা জন্ম হচ্ছে, যাকে “জেড আর্ট মুভমেন্ট” বলা যাবে।’ রনি আহম্মেদ শুধু গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্রের ট্রেন্ডকে চিহ্নিত করে কথাটা বলেছেন। কিন্তু এখানে অনেক দিন পর শিল্পের অনেকগুলো মাধ্যম একটা মিলিত-স্বর ধারণ করে কথা বলে উঠেছে একসঙ্গে, একই সময়ে, বিভিন্ন মাধ্যমে, প্রকারে…। যা অভাবনীয়, অভূতপূর্ব। আমাদের প্রথাগত সাংস্কৃতিক চর্চাকারী, নিয়মতান্ত্রিক পেশাদার প্রতিবাদী শিল্পী-সংগঠনগুলো এখানে ব্যর্থই বলা যায়। ইনডিপেন্ডেন্টলি পলিটিক্যাল স্পর্ধা নিয়ে দাবির কথা জানিয়েছেন তারা। শিল্প-সাহিত্যই রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করে। এখানে সব থেকে উজ্জ্বল হয়ে ধরা পড়েছেন আমাদের র্যাপাররা, আমাদের গ্রাফিতি আর্টিস্টরা। ওনাদের সালাম।





কমেন্ট করুনঃ