জাদুরবাক্সে লুকিয়ে থাকাগান
তোমারে কে দেবে শুশ্রুষা?
কপালে হাত রেখে কে তোমার মাপবে জ্বরের তাপ?
তুমি ছাড়া কার কাছে আর রাখবে জমা অভিমান, আহ্লাদ?
দারুণ কোমল শরৎবাড়ির দাওয়ায়, ঘাসে
যেভাবে আসে একপেশে গরীব প্রেমিকের মতন নিশ্চুপে
সেইভাবে তুমি নিজেরই কপালে খেয়ো চুমু,
ঝকমকে উজ্জ্বল রোদেলা দিন দেখে
আহ্লাদী প্রণয়ীর মতন নিজেকে বলো,
চলো আজ অফিস কামাই করি
ঘুরতে যাই নদীর ধারে;
তারপর ফিরতি পথে নিজেকে দিও কিনে
এক তোড়া দোলনচাপা উপহার।
তোমার পায়ের পাতায় খাবে চুমু
কল্লোলবতী দারুণ সিন্ধুতট,
তোমারে পাঠাবে চিঠি মাঠের পরে নামতে থাকা রোদ,
তোমারে শোনাবে গান
বুকের ভেতর জাদুর বাক্সে লুকিয়ে থাকা
ভর সন্ধ্যার অকৃত্রিম গ্রাম।
তুমি নিজেরে রেখো নিজের কাছাকাছি
দিও তোমার কোমল পরশখানি নিজেওে আগে;
তুমি আর ব্রহ্মাণ্ড একই সুরে বাঁধাগান
তোমারে একলা করে, কোথায় আছে তেমন সংসার!
কূটাভাস
জীবন তোমাকে দিয়েছে বাদুড়ের চোখের মতন সংবেদনশীলতা,
দিয়েছে প্রখর চৈত্রের সূর্যতাপে জ্বলা অনন্ত এক নিদাঘ দুপুর।
কী ভেবে আবুল হাসান লিখেছিলেন,
“অতটুকু চায়নি বালিকা !
অত শোভা, অত স্বাধীনতা !
চেয়েছিলো আরো কিছু কম”;
সে হিসেব তুমি বুঝবে না
প্রেমে ও কামে, ক্ষুধা ও তৃষ্ণায়
ভালোবাসা ও মায়া, কলহ ও বিবাদে
মাখো-মাখো জীবন কাটানো সংসারী মানুষ।
দলা-পাকানো শামুকের ডিমের মতন
একে অন্যকে জড়িয়ে-মড়িয়ে
থাকে যে জীবন
তার মাঝে আছে রক্তজবার মতন মোহনীয়তা।
এ জন্ম অমূল্য নিধি প্রেমে ও চুমোয়;
এ জীবন বোকাখঞ্জর
কাটে পলে পলে
প্রখর সূর্যসম
বাদুড়ের চোখের মতন
সংবেদনশীল তোমার হৃদয়।
একটি ঘুঘুর ডাকে
প্রেমনয়,
বিরহের বন্ধনে বাঁধা পড়ে গেলে
মানুষ কেমন যেনো
বিষন্ন তোতা হয়ে যায়;
ভর দুপুরে অকস্মাৎ
একটি ঘুঘুর ডাকে
মানুষ কেমন যেনো
ভেঙে হয় খানখান।
এই দুপুরে
সোনার কানপাশার মতন
ঝিকমিক করছে রোদ্দুর
নারকেলের পাতায় পাতায়
হাওয়া লেগে ছড়াচ্ছে সুর;
এ সময়,
এমন স্পর্শকাতর লগ্নে
মানুষকে খুনের নেশায়
হায়! ঘুঘু ডেকে যায়।





কমেন্ট করুনঃ