বেশ কয়েকটি কারণে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের সমান্তরালে নারায়ণগঞ্জের ভাষা আন্দোলনও ঢাকার জাতীয় আন্দোলনকে ছাপিয়ে গিয়েছিল। ঢাকার সেই ঐতিহাসিক জাতীয় আন্দোলনে কোনো মহিলা রাজবন্দীর সন্ধান পাওয়া যায়না। একমাত্র মহিলা যে রাজবন্দীর সাক্ষাত পাওয়া যায় তিনি হলেন নারায়ণগঞ্জের মমতাজ বেগম। অর্থাৎ এভাবেও বলা যেতে পারে যে, তখন ঢাকার মেয়েদের তুলনায় নারায়ণগঞ্জের মেয়েরা চিন্তা-চেতনায় অগ্রসর ছিল। ঢাকায় গঠিত সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের কমিটিতেও নারায়ণগঞ্জের দুজন নেতার নাম দেখতে পাওয়া যায়। এতেও নারায়ণগঞ্জের নেতাদের অগ্রসর ভূমিকার প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া, বুদ্ধিবৃত্তির ক্ষেত্রেও নারায়ণগঞ্জ ছিল অগ্রসর। পাকিস্থান রাষ্ট্রে রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার যুক্তি তুলে ধরে বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ড. এনামুল হক যে ঐতিহাসিক প্রবন্ধ লিখেছিলেন সেটিও নারায়ণগঞ্জের বিজলী প্রেস থেকে প্রকাশিত নারায়ণগঞ্জের সাময়িকী ‘কৃষ্টি’-তে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এছাড়া, নারায়ণগঞ্জের ভাষা আন্দোলনেই স্কুল ছাত্রী এবং পাটকল শ্রমিকেরা ব্যাপকভাবে শরিক হয়েছিলো। ঢাকা ও অন্যান্য জেলার তুলনায় নারায়ণগঞ্জ থেকে ভাষাসংগ্রামীদের কারাবরণও ছিল সর্বাধিক। ভাষা আন্দোলন নিয়ে যেসব গবেষণাধর্মী বই-পুস্তক রচিত হয়েছে তার প্রত্যেকটিতে ঢাকার পরেই নারায়ণঞ্জের ভাষা আন্দোলনের কথা বেশ গর্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব গর্বিত ইতিহাস থেকে মনি-মুক্তা খুঁজতে আমাদের সে ইতিহাসে ডুব দিতে হবে।
প্রথম পর্যায় : ১৯৪৮ থেকে ১৯৫১
ঢাকার মতো নারায়ণগঞ্জেও ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত একইসাথে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ থেকে। সেক্রেটারিয়েট কর্মচারীদের দাবির সাথে একাত্ম হয়ে ছাত্ররা এ আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। সেদিন ছিল জাতীয়ভাবে ঘোষিত রাষ্ট্রভাষা দিবস। এদিন নারায়ণগঞ্জে হরতাল পালিত হয়। ভাষাসৈনিক গোলাম মোরশেদ ফারুকীসহ কয়েকজন ভাষাসৈনিক এ হরতাল পালনের কথা তাঁদের স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেন। ঐদিন বঙ্গবন্ধু সড়কের খালি জায়গায় মিটিং করা হয়, বর্তমানে যেখানে বলাকা পেট্রোল পাম্প অবস্থিত। পাবলিক সভা ও হরতাল অনুষ্ঠিত হয়। ঐদিন মিটিং-এ উপস্থিত ছিলেন গোলাম মোরশেদ ফারুকী, শফি হোসেন খান, খানপুরের নাজির হোসেন মোক্তার প্রমুখ। এদিন ভাষাসংগ্রাম কমিটিও গঠিত হয়। সকালে বাংলা ভাষা আন্দোলনের সমর্থনকারী ছাত্রকর্মীরা স্থানীয় রেশনিং অফিসের সামনে রাজপথে শুয়ে পড়েন। তাঁরা কর্মচারীদের অফিসে প্রবেশে বাধা দেন। বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাত্র-জনতা। রাজপথ মুখরিত হয়ে ওঠে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগানে। ব্রিটিশ কায়দায় দমকলবাহিনী দিয়ে পানি ছিটিয়ে, ছাত্র-জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ছাত্র-জনতার প্রতিবাদের মুখে পুলিশ পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল বের হয়। রাষ্ট্রভাষা দিবসেই সংগ্রামী জনতার বিক্ষোভের সামনে মাথা নোয়াতে হয় পুলিশ বাহিনীকে। ১২ মার্চ পূর্ব বাংলা মুসলিম লীগ ও তমদ্দুন মজলিসের যুক্ত রাষ্ট্রভাষা সাব-কমিটির ঘোষণানুযায়ী নারায়ণগঞ্জেও হরতাল পালিত হয়, এ সংবাদ ১৩ মার্চ কলকাতার আনন্দ বাজার পত্রিকার রিপোর্ট থেকে পাওয়া যায়।
নারায়ণগঞ্জের অন্যতম ভাষাসৈনিক খাজা জহিরুল হক উল্লেখ করেন, ‘বিরোধীদল থেকে যাতে নির্বাচন না করতে পারি সেজন্য প্রশাসন থেকে ঊইউঙ, ১৯৪৯ (ঊষবপঃরাব ইড়ফু উরংয়ঁধষরভরপধঃরড়হ ঙৎফবৎ) জারি করা হয়। এই অগণতান্ত্রিক আদেশের বিরুদ্ধে মামলা করে জিতে আমরা নির্বাচন করি। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ থেকে আমাদের মধ্যে যে যোগসূত্র তৈরি হয় তা থেকেই সূত্রপাত হয় মমতাজ বেগমকে ছাড়িয়ে আনার আন্দোলন। এই আন্দোলনই বৃহত্তর ভাষা আন্দোলনে পরিণত হয় সারাদেশব্যাপী।
নারায়ণগঞ্জের অন্যতম ভাষাসৈনিক খাজা মহিউদ্দিন বলেন, ‘১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে মুহম্মদ আলী জিন্নাহ প্রথম ও শেষবারের মতো ঢাকায় আগমন করেন। ২১ মার্চ মুহম্মদ আলী জিন্নাহ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ও ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ঘোষণা দেন ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের ছাত্র-জনতাসহ আব্দুল মতিন, এম.এম আহসান, তাজউদ্দিন আহম্মদ, অলি আহাদ এবং টাঙ্গাইলের তুখোড় ছাত্রনেতা শামসুল হকের নেতৃত্বে আমরা ‘নো’, ‘নো’ প্রতিবাদের ভাষায় আকাশ-বাতাস মুখরিত করে বলি, ‘বাংলাই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। তখন তড়িঘড়ি করে জিন্নাহ সাহেব তার বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করেন। ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিনও একই সুরে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা দিলে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের ছাত্র-জনতার সাথে আমিও এর জোর প্রতিবাদ করি।’
চূড়ান্ত পর্যায় : ১৯৫১ থেকে ১৯৫২এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত
ঢাকায় যখন বার লাইব্রেরি হলে ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২-তে মৌলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে কাজী গোলাম মাহবুব-কে আহ্বায়ক করে ২৮ সদস্য বিশিষ্ট সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ গঠিত হয়, তখন সে কমিটিতে নারায়ণগঞ্জেরও দুজন নেতার নাম পাওয়া যায়।৫ তাঁরা হলেন, আলমাস আলী ও আবদুল আওয়াল। তাঁরা তখন যথাক্রমে নারায়ণগঞ্জ মুসলিম আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এতে বোঝা যায়, তৎকালীন জাতীয় আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের নেতাদেরও বেশ ভূমিকা ছিল। এ কারণে জাতীয় কমিটিতে নারায়ণগঞ্জের নেতাদেরও তাঁরা রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন। প্রখ্যাত উপন্যাসিক আনিসুল হক-এর ‘ওরা ভোর এনেছিল’ উপন্যাসে এই আলমাস আলীর অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখিত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের এই বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে ঢাকার পরে ১৯৫২ সালে নারায়ণগঞ্জে ভাষা আন্দোলনের অভিঘাত খুব তীব্রতা লাভ করেছিল, যা অনেকাংশে জাতীয় রাজনীতির তাৎপর্যকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। গবেষণার সুবিধার্থে এখানে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের কমিটি উল্লেখ করছি। ১. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি, পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ, ২. আবুল হাশিম – খেলাফতে রাব্বানী পার্টি, ৩.শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক, পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ, ৪. আবদুল গফুর সম্পাদক, সাপ্তাহিক সৈনিক, ৫. আবুল কাসেম তমদ্দুন মজলিস, ৬.আতাউর রহমান খান আওয়ামী মুসলিম লীগ, ৭. কামরুদ্দিন আহমদ প্রতিষ্ঠাতা, গণ আজাদী লীগ, ৮. খয়রাত হোসেন সদস্য, পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদ, ৯. আনোয়ারা খাতুন সদস্য, পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদ, ১০. আলমাস আলী নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী মুসলিম লীগ, ১১.আবদুল আওয়াল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী মুসলিম লীগ, ১২. সৈয়দ আবদুর রহিম সভাপতি, রিকশা ইউনিয়ন, ১৩. মোহাম্মদ তোয়াহা সহ সভাপতি, পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগ, ১৪. অলি আহাদ সাধারণ সম্পাদক, পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগ, ১৫. শামসুল হক চৌধুরী ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ, ১৬. খালেক নেওয়াজ খান সাধারণ সম্পাদক, পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ, ১৭. কাজী গোলাম মাহবুব আহ্বায়ক, সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ, ১৮. মীর্জা গোলাম হাফিজ সিভিল লিবার্টি কমিটি, ১৯. মজিবুল হক সহ সভাপতি, সলিমুল্লাহ হল ছাত্র সংসদ, ২০. হেদায়েত হোসেন চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক, সলিমুল্লাহ হল ছাত্র সংসদ, ২১. শামসুল আলম সহ সভাপতি, ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্র সংসদ, ২২. আনোয়ারুল হক খান সাধারণ সম্পাদক, ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্র সংসদ, ২৩. গোলাম মাওলা সহ সভাপতি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদ, ২৪. সৈয়দ নূরুল আলম-পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ, ২৫. নূরুল হুদা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ২৬. শওকত আলী পূর্ববঙ্গ কর্মীশিবির, ২৭.আবদুল মতিন আহ্বায়ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ, ২৮. আখতারউদ্দিন আহমদ নিখিল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ।
দৈনিক আজাদ পত্রিকা থেকে জানা যায়, ১৯৫২ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জেও বাংলাভাষার দাবিতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা ধর্মঘট পালন করে এবং শোভাযাত্রা সহকারে সমগ্র শহর প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রা শেষে স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রীগণ রহমতুল্লাহ ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে এক সভায় সমবেত হয়ে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষারূপে গ্রহণের দাবি করে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেন।
১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম থেকেই নারায়ণগঞ্জে আবার রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন সংগঠিত হতে থাকে। ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকেই মফিজ উদ্দিন আহমদ আহ্বায়ক ও আজগর হোসেন ভূঁইয়াকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে এখানে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। ফেব্রুয়ারি শোভাযাত্রা শেষে রহমত উল্লাহ ক্লাবে এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। শামসুজ্জোহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন বজলুর রহমান, সুলতান মাহমুদ মল্লিক (লিলু মল্লিক), শামসুল হুদা, মোস্তফা সারোয়ার প্রমুখ। এভাবে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে ধারাবাহিকভাবে ছাত্রদের সভা সমাবেশ মিছিল চলতে থাকে।
২১ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ ছিল প্রতিবাদের শহর। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মঘট পালিত হয়। বিভিন্ন এলাকায় বের হয় বিক্ষোভ মিছিল। ঐদিন বিকেলে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। রহমতউল্লাহ ক্লাবে এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অবিভক্ত বাংলার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আবুল হাশিম। বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি আলমাস আলী, মুস্তফা সারোয়ার, মোঃ হাসান বজলুর রহমান প্রমুখ। প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখার সময় ঢাকায় ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণের খবর এসে পৌঁছে। শ্রমিক নেতা শফি হোসেন খান জনসভা সংক্ষিপ্ত করে উপস্থিত জনগণকে নিয়ে ঢাকা যাওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং সমস্ত শহর উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার তাগিদে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় পথসভা করে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করা হয়। ঐদিন রাতেই পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণের জন্যে বর্তমান বঙ্গবন্ধু রোডস্থ একটি বাড়িতে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের গোপন বৈঠক বসে। সম্ভবত আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত কোন ব্যক্তির বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সভা চলাকালে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ বাড়ি ঘিরে ফেলে। মহকুমা প্রশাসক স্বয়ং পুলিশ দলের নেতৃত্ব দেন। কিন্তু নেতৃবৃন্দ প্রশাসককে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের নিশ্চয়তা দিয়ে সম্ভাব্য গ্রেফতারের হাত থেকে রেহাই পান। বৈঠকের পরের দিন অর্থাৎ ২২ ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরের দিনের কর্মসূচি সফল করার প্রয়োজনে ঐদিন রাতেই শ্রমিক নেতারা শিল্প এলাকায় চলে যান। ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জ মিছিলের শহরে পরিণত হয়। বিকেলে চাষাঢ়া মাঠে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। শহর ছাড়াও আশেপাশের শিল্পাঞ্চল থেকে হাজার হাজার শ্রমিক জনসভায় যোগ দেয়। এ জনসভায় স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মমতাজ বেগমের নেতৃত্বে মহিলাদের একটি দলও শোভাযাত্রা সহকারে অংশ নেন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক নেতা ফয়েজ আহম্মদ। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন শফি হোসেন খান, সোলায়মান এফ. রহমান প্রমুখ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা।
ঢাকাসহ পূর্ব বাংলার বিভিন্ন এলাকায় ভাষা আন্দোলন হলেও নারায়ণগঞ্জে আন্দোলন ছিল কিছুটা ভিন্ন। ভাষা আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের ছাত্রদের পাশাপাশি সর্বসাধারণের অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল নারী সমাজের অংশগ্রহণ। মিছিল, সভা, সমাবেশে মহিলাদের অংশ নেয়া ছাড়াও আন্দোলন চালিয়ে নেয়ার জন্য শহরের গৃহিনীদের স্বেচ্ছায় অর্থনৈতিক সাহায্য করার প্রবণতা এখানে ভাষা আন্দোলন সফল হওয়ার অন্যতম কারণ। মহিলাদের সংগঠিত করে আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন মর্গ্যান বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মমতাজ বেগম। তিনি ফেব্রুয়ারির উত্তাল দিনগুলোতে প্রতিটি সভা-সমাবেশ ও মিছিলের পুরোভাগে ছিলেন।
২৩ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্দোলন ক্রমান্বয়ে জোরালো হয়ে ওঠে। এখানে প্রতিদিনই শহরের বিভিন্ন এলাকায় চলতে থাকে মিছিল, মিটিং ও প্রতিবাদ। ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জে পূর্ণ হরতাল পালিত হয়। দোকানপাট, ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান সারা দিন বন্ধ ছিল। দৈনিক আজাদ-এর ১৯৫২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সংখ্যা থেকে জানা যায় যে, ২৫ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ শিল্প এলাকায় পূর্ণ হরতাল পালিত হয়। যানবাহন ও দোকানপাট সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। মেয়েরাও বিক্ষোভে যোগদান করেন। একই পত্রিকার ২৭ ফেব্রুয়ারি সংখ্যা হতে আরো জানা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বপাড়স্থ সোনাকান্দা স্কুল প্রাঙ্গণে মৌলভী অলিউল্লাহার সভাপতিত্বে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয় (অবশ্য সোমবার উল্লেখিত হলেও তারিখের উল্লেখ নেই)। সভায় বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা, বন্দি ছাত্রদের বিনাশর্তে মুক্তি, সান্ধ্য আইন প্রত্যাহার ও পুলিশী জুলুমের প্রতিকার দাবি করা হয়। একই পত্রিকার একই সংখ্যায় আরো একটি সংবাদ পরিবেশিত হয়। এতে বলা হয় যে, নারায়ণগঞ্জ সিটি মোছলেম লীগ কার্যকরী কমিটির এক জরুরি অধিবেশনে দুই মিনিট নীরবে দন্ডায়মান হয়ে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়। সভায় গৃহীত এক প্রস্তাবে বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের জন্য তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তিদের বরখাস্ত ও বন্দি ছাত্রদের মুক্তি দাবি করা হয়। পুলিশের গুলিতে যাঁরা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে একটি প্রস্তাবও সভায় গ্রহণ করা হয়।
ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহের নারায়ণগঞ্জের ঘটনাবলি বিচলিত করে তোলে মুসলিম লীগ সরকারকে। এ সময় জনতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে এক মারাত্মক সংঘর্ষ ঘটে। এ সম্পর্কে দৈনিক আজাদের ১ মার্চ সংখ্যায় দীর্ঘ শিরোনামে সংবাদ পরিবেশিত হয়। সংবাদটির প্রথমাংশে বলা হয়, ২৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় চাষাঢ়া স্টেশনের নিকট পুলিশ ও বিÿোভ প্রদর্শনকারী জনতার মধ্যে সংঘর্ষের ফলে ২০ জন পুলিশসহ প্রায় ৪ ব্যক্তি আহত হয়। ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত করে স্থানীয় পুলিশ নারায়ণগঞ্জের এমএলএ ওসমান আলী ও অপর কয়েক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। এদিন পুলিশ চাষাড়াস্থ বায়তুল আমানে ঢুকে শামসুজ্জোহার স্ত্রী নাগিনা জোহাকেও লাঞ্ছিত করে।১৩ ঘটনার বিবরণ যেভাবে দেয়া হয়েছে, তা থেকে জানা যায়, ঐদিন সকালে স্থানীয় পুলিশ নারায়ণগঞ্জ মর্গান বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিÿয়িত্রী মমতাজ বেগমকে চাষাড়াস্থ আন্দোলনের কেন্দ্র ‘বায়তুল আমান’-এ মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে গ্রেফতার করে। এর প্রতিবাদে মর্গান স্কুলের ছাত্রীরা ক্লাশ বর্জন করে বেরিয়ে আসে রাজপথে এবং ঘেরাও করে রাজপথ। এ মিছিলে দশম শ্রেণীর ছাত্রী আয়েশা জালালের সঙ্গে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী মণিমালাও যোগ দিয়েছিলেন। তিনি বাবুরাইল নিবাসী। তিনি পারিবারিক সূত্রে ঢাকায় গুলিতে আহত এক ব্যক্তির রক্তাক্ত শার্ট নিয়ে মিছিলে যোগ দিলে মিছিল আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সুধীজন পাঠাগার স¤প্রতি এ ভাষাসৈনিককে সংবর্ধনা প্রদান করেছে। এ তথ্য পাওয়া যায় নারায়ণগঞ্জের লেখক শাহেদ আলী মজনু-র কাছ থেকে। যাহোক, মমতাজ বেগমকে গ্রেফতারের খবর পেয়ে অন্যান্য শিÿা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরাও ফেটে পড়ে বিক্ষভে। তাঁরা মমতাজ বেগমের মুক্তির দাবিতে মিছিল বের করেন। খবর পান রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারাও। শ্রমিক নেতা শফি হোসেন খান শিল্প এলাকায় খবর পাঠান। ছুটে আসে শ্রমিকরা। কয়েক ঘন্টার মধ্যে হাজার খানেক লোক কোর্ট ঘেরাও করে ফেলে। বিনাশর্তে শিÿয়িত্রীর মুক্তি দাবি করেন এবং ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ ইত্যাদি ধ্বনি দিতে থাকে। মহকুমা প্রশাসক ইমতিয়ারজী তখন বাইরে এসে ছাত্র-জনতাকে বলেন যে, মমতাজ বেগমকে স্কুলের তহবিল তসরুফের দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সাথে তাঁর গ্রেফতারের কোনরূপ সম্পর্ক নেই। কিন্তু জনতা সে কথা বিশ্বাস না করে বলতে থাকে, নারায়ণগঞ্জ রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কর্মী ছিলেন বলেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। সুতরাং তাঁকে বিনাশর্তে মুক্তি না দিলে তাঁরা কোর্ট প্রাঙ্গণ ছেড়ে যাবে না। পুলিশ তখন মৃদু লাঠিচার্জ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে।১৪ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় মহকুমা প্রশাসক মমতাজ বেগমকে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। এ উদ্দেশ্যে পুলিশ তাঁকে ভ্যানে তোলার চেষ্টা করলে জনতা বাধা দেয়, তাঁকে নিয়ে শুরু হয় পুলিশ-জনতার টানা-হেঁচড়া। বিকেলে পুলিশ মিসেস মমতাজ বেগমকে নিয়ে ঢাকা রওনা হলে জনতা চাষাড়া স্টেশনের নিকটে তাদের গমন পথে বাধা দেয়। ইতোমধ্যে ইপিআর চলে আসে ঘটনাস্থলে। এসেই তারা নির্বিচারে রাইফেলের বাঁট দিয়ে ছাত্র-জনতাকে পেটাতে শুরু করে। তাদের হাত থেকে ছাত্রী-মহিলারাও রেহাই পায়নি। ঐদিন গ্রেফতার হন ছাত্রী ইলা বকশী ও বেনু ধর। নিরস্ত্র জনতা ইপিআর-এর প্রতি ইট-পাটকেল নিÿেপ করে। এভাবে প্রায় ঘন্টাব্যাপী জনতা-পুলিশ-ইপিআর সংঘর্ষ চলে। এ পর্যায়ে ছাত্র-জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালের দুজন ডাক্তার ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা করেন এবং নয়জনের আঘাত গুরুতর বিবেচিত হওয়ায় তাদেরকে হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এই নয় ব্যক্তির মধ্যে কোনো পুলিশের লোক ছিল না। পুলিশ পরে স্থানীয় এমএলএ ওসমান আলীর বাড়ি তলøাশি করে এবং ওসমান আলীসহ কয়েক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। হাসপাতালে স্থানান্তরিত আহতরা হলেন : নিজামুদ্দিন ভূঁইয়া (২০), মোহাম্মদ রফিকুলøা (১৮), বশির আহমদ (২৫), মোহাম্মদ ইউসুফ (২৫), সদুরুদ্দিন (১৭), আবদুস সাত্তার (১২), কফিলুদ্দিন (১২), মোহাম্মদ ইউসুফ (৩০) এবং অপর এক মূক-বধির ব্যক্তি। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে মোহাম্মদ ইউসুফের অবস্থা ছিল খুবই আশঙ্কাজনক।১৫
রাতে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নারায়ণগঞ্জে এসে গ্রেফতারকৃতদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে নারায়ণগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। রাতে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়। ভাষা আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের বাসায় হামলা চালানো হয়। নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করতে পুলিশ বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ঐ রাতে গ্রেফতার হন মোস্তফা সারোয়ার, শফি হোসেন খান, বেনু (ছাত্রী), কমরুদ্দিন, দবির, ওসমান আলী, শামসুজ্জোহা, জামিল, লুৎফর রহমান, মোসলেমউদ্দিন প্রমুখ। নারায়ণগঞ্জে ৭ মার্চ পর্যন্ত সান্ধ্য আইন বলবৎ থাকে।
১ মার্চ কারফিউ চলাকালে নারায়ণগঞ্জের কালির বাজার এলাকায় টহল দেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন পুলিশ কনস্টেবল নিহত ও একজন আনসার আহত হয়। নিহত পুলিশের নাম সৈয়দ জোবায়েদ এবং আনসারের নাম খলিল আহমদ। এ প্রসঙ্গে দৈনিক আজাদের ২ মার্চ সন্ধ্যায় একটি সংবাদ পরিবেশিত হয়। পত্রিকার ভাষ্যে জানা যায়, পূর্ব বাংলা সরকার এ সম্পর্কে দুঃখ প্রকাশ করে এক ইশতেহারে জানায় যে, গুলি লাগার সঙ্গে সঙ্গেই কনস্টেবলের মৃত্যু হয়। আনসারকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে তদন্ত চালানো হয়। সরকার নিহত ব্যক্তির শোক সন্তপ্ত পরিবার এবং আহত ব্যক্তির প্রতি সমবেদনা জানায়। পূর্ব বাংলার প্রধানমন্ত্রী নূরুল আমিন নিহত ব্যক্তির শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি এবং আহত ব্যক্তির প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে জনগণকে প্রদেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী এ সম্পর্কে ঐদিন রাতে (১লা মার্চ) বিবৃতি দেন, যা ২ মার্চ দৈনিক আজাদে প্রকাশিত হয় গুলির আঘাতে নারায়ণগঞ্জে পাহারারত একজন কনস্টেবল নিহত ও একজন আনসার অদ্যরাতে আহত করা হইয়াছে জানিয়া আমি ব্যথিত হইয়াছি। আমি এই নিহত ব্যক্তির শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানাইতেছি। মৃত্যুবরণ করিয়া কনস্টেবল কর্তব্যপরায়ণতার মহান দৃষ্টান্ত রাখিয়া গেল। আমার বিশ্বাস, তদৃষ্টে জনগণের বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার দৃঢ়তা আরও বৃদ্ধি পাইবে। ভাষার প্রশ্নের আবরণের নীচে যে একটি রাষ্ট্রধ্বংসী কুপ্রয়াস চলিয়া আসিয়াছে তাহা ক্রমশঃ বাহির হইয়া পড়িতেছে। এমতাবস্থায় আমি সমুদয় পাকিস্তানীকে দেশের বৃহত্তর স্বার্থের খাতিরে প্রদেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কাজে সহায়তা করার আহ্বান জানাইতেছি।
২ মার্চ নিহতের পরিবারের জন্য দশ হাজার টাকা, আহতের জন্যে দু’হাজার টাকা অনুদান ঘোষণা করা হয়। ১ মার্চের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকার ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে। এছাড়া ২৯ ফেব্রুয়ারির ঘটনার জেরও অব্যাহত থাকে। এ মর্মে দৈনিক আজাদ-এর ২ মার্চ সংখ্যায় একটি খবর পরিবেশিত হয়। তাতে বলা হয়, মমতাজ বেগমের গ্রেফতারের সূত্রে ১ মার্চ যে ঘটনা ঘটে, তা সম্পর্কে ২ মার্চ পর্যন্ত দু’জন মহিলাসহ মোট ১১৪ ব্যক্তি গ্রেফতার হয়। শহরের অবস্থা শান্ত ছিল। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাসমূহ এবং শহরের বাইরে চাষাড়া স্টেশন হতে পঞ্চবটি গ্রাম পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রোডে সশস্ত্র পুলিশ পাহারা মোতায়েন করা হয়।
খবরে আরো বলা হয়, ঐদিন (২ মার্চ) সকালে চাষাঢ়া স্টেশনের নিকট জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে মৃদু লাঠিচার্জ করতে হয়, ফলে ৬ ব্যক্তি সামান্য আহত হয়। পরে হাসপাতালে তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।১৭
গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীদের নির্যাতন চালানো হয়। ১৯৫২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের জাতীয় সম্মেলনে উত্থাপিত ২২ দফা প্রস্তাবে নারায়ণগঞ্জের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য হাইকোর্টের ২ জন বিচারপতি ও ২ জন জনপ্রতিনিধি সমন্বয়ে কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়।১৮ পরে পুলিশ রিপোর্ট ও পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে দেখা যায়, পুলিশ কনস্টেবলের গায়ে বিদ্ধ গুলির মার্কা ই.পি.আর বাহিনীর। এ হত্যা মামলায় আটককৃত নেতা-কর্মীরা ভাষা আন্দোলনের দেড়-দু বছর পর একে একে জেল থেকে বেরিয়ে আসেন।
ভারতবর্ষে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন ও বিদেশি পণ্য বর্জনের আহ্বানের কারণে এ উপমহাদেশে বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশকে কিছু কল-কারখানা গড়ে উঠতে থাকে। তার ঢেউ নারায়ণগঞ্জেও এসে লাগে। এ কারণে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল এলাকার পাশাপাশি ঢাকেশ্বরী কটন মিল, লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিল, চিত্তরঞ্জন কটন মিল, লতিফ বাওয়ানী মিল, ইস্পাহানী মিল, কাঞ্চন জুট মিল, আদমজী জুটমিল প্রভৃতি গড়ে উঠে। আর মিলের অনিবার্য অনুষঙ্গ হিসেবে এখানে শ্রমিকের প্রাচুর্য দেখতে পাওয়া যায়। আর একই সময়ে সোভিয়েত রাশিয়ায় শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে বলশেভিক বিপ্লবের সফলতায় এ এলাকায় শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে বিপ্লব সম্পন্ন করার অভিপ্রায়ে শ্রমিকদের রাজনৈতিক চেতনার মান উন্নীত করতে শ্রমিক আন্দোলনে হাতেখড়ি নিতে এখানে ছুটে আসেন কমরেড অনীল মুখার্জী। তার শ্রমিক আন্দোলনের হাতেখড়ি পুস্তকে তৎকালীন শ্রমিকদের নিয়ে নানাকাজের বিবরণ খুব সুন্দরভাবে পাওয়া যায়। এভাবে শ্রমিকদের চেতনার মান এখানে একটু উঁচুতারে বাঁধা ছিলো। এছাড়া, নারায়ণগঞ্জ একটি উলেøখযোগ্য নদী বন্দর বিধায় এখানে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছিল। এর ফলে এখানে সামন্ত সমাজের গর্ভ থেকে উত্থিত হচ্ছিলো প্রাথমিক পুঁজি সংকলনকারী ব্যক্তিবর্গ। তঁদের কর্মকান্ডে দেখা দিচ্ছিলো প্রগতিশীল পেটি-বুর্জোয়া বা বুর্জোয়া আলোর ঝিলিক। সে ঝিলিকে হয়তো নারায়ণগঞ্জের দিগন্ত পুরোটা আলোকিত হতে পারেনি কিন্তু যেটুকু পথের দিশা সে দেখিয়েছিলো তা-ও বা কম কিসে।
২.
ভাষা আন্দোলনের প্রভাবে নারায়ণগঞ্জের পত্র-পত্রিকা, সাহিত্য সংগঠন ও কৃষ্টি পত্রিকা
ভাষা আন্দোলনের প্রভাবে রচিত হতে থাকা সাহিত্যের ঢেউ নারায়ণগঞ্জেও এসে লাগে। ১৯৫২ নালে ভাষা আন্দোলনের পর নারায়ণগঞ্জে ১৯৫৩/৫৪ সালে স্থাপিত হয় নারায়ণগঞ্জ সাহিত্য মজলিস। এর সভাপতি ছিলেন ফজলে রাব্বি এবং সম্পাদক ছিলেন রেজাউর রহমান। এ সংগঠন নিয়মিত সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পালন করে। কিছুদিন সক্রিয় থেকে সংগঠনটি বন্ধ হয়ে যায়।
১৯৫২ সালেই নারায়ণগঞ্জে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা লেখক সংঘ-এর নারায়ণগঞ্জ শাখা। এর সভাপতি ধীরেন্দ্র নাথ ভৌমিক এবং সম্পাদক এম এ হাফিজ। ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় অফিসের পক্ষে কনভেনার ছিলেন সিরাজুল হক। এই সংস্থা দুই বছর স্থায়ী ছিল। পরে পাক বাংলা সাহিত্য মজলিস-এ রূপান্তরিত হয়। এই সংস্থারও সভাপতি ছিলেন ধীরেন্দ্র নাথ ভৌমিক এবং সম্পাদক সিরাজুল হক।
পরবর্তীতে পাক বাংলা সাহিত্য মজলিস ভেঙ্গে পাক সাহিত্য চক্র গঠিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে স্থায়ী হয়। এর সভাপতি ছিলেন ভূপেষ ঘোষ ও সম্পাদক সিরাজুল হক। ভূপেষ ঘোষের মৃত্যুর পর এস এ হামিদ এই সংস্থার সভাপতি হন। এই সংস্থা নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক কর্মে বিশেষ উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরবর্তী মিল এলাকায় পর্যন্ত অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করে। ১৯৬৯ সালে এই সংস্থার পক্ষ হতে বৃহদাকার কালের পাতা সাহিত্য সংকলন প্রকাশিত হয়। এটি সুধী মহলে সমাদৃত হয়। এই সংস্থার অন্যতম সম্পাদক অসুস্থ হয়ে পড়লে সংস্থাটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তবে অনেক বছর পর এ শতাব্দীর প্রারম্ভে এ সংস্থার সম্পাদক সিরাজুল হক-এর ছেলে বিশিষ্ট কবি মুজিবুল হক কবীর নতুন আঙ্গিকে কালের পাতা নামেই সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করে আসছেন।
১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সাহিত্য সংসদ। তারা নিয়মিত সাহিত্য সভা ও বিভিন্ন দিবস পালন করতো।
১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জে এ যাবৎ প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য সংগঠনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ও প্রভাব বিস্তারী সাহিত্য সংগঠন সাহিত্য বিতান। এসময় সাহিত্য বিতানের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জের প্রগতিশীল ও সৃজনশীল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ধারার বিকাশ ঘটে। প্রাণ প্রাচুর্যে ভরপুর তরুণ সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিঃস্বার্থ ও অক্লান্ত পরিশ্রমে নারায়ণগঞ্জে সেসময় একটা সুস্থ ও আধুনিক সাংস্কৃতিক আবহাওয়া সৃষ্টি হয়। নিয়মিত সাহিত্য সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সাহিত্য প্রকাশনা ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সকল অঞ্চলের তরুণ-তরুণীদের মিলিত প্রয়াসে সাহিত্য বিতান দেশের সর্বত্র আস্থা ও প্রশংসা লাভ করে। নারায়ণগঞ্জের সকল অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে শতাধিক আড়ম্বরপূর্ণ সাহিত্য সভা, পহেলা বৈশাখ, রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী, মাইকেল-বিদ্যাসাগর-জীবনানন্দ জয়ন্তী, একুশে ফেব্রæয়ারী ছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন সাহিত্য বিতানকে খ্যাতির শিখরে পৌঁছায়। এ সময় অনুষ্ঠিত এ সকল অনুষ্ঠানে দেশের বরেণ্য প্রবীণ-নবীন শিল্পী-সাহিত্যিকগণ অংশগ্রহণ করে অনুষ্ঠানসমূহের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। এদের মধ্যে উলেøখযোগ্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হলেন ডা. কাজী মোতাহার হোসেন, শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, হায়াৎ মামুদ, জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, ডা. মনিরুজ্জামান, ডা. রফিকুল ইসলাম, হাসান হাফিজুর রহমান, শশাংক পাল, আবুল হাসান, ড. হুমায়ুন আজাদ, মালেকা আজীম খান, খালিদ হোসেন, সন্তোষ গুপ্ত, অঞ্জলী মুখোপাধ্যায়, লতিফা হিলালী, বেগম বজলুর রশিদ, ফজলে নিজামী, শফিকুল ইসলাম, ওয়াহিদুল হক প্রমুখ।
সাহিত্য বিতানের কর্মধারাকে কেন্দ্র করে তরুণ একদল কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিকের আবির্ভাব উলেøখযোগ্য। বিশেষতঃ ১৯৪৭ সালের পর নারায়ণগঞ্জের এই ক্ষেত্রে এতো উদ্দীপনা আগে দেখা যায়নি এবং সাংস্কৃতিক ধারার আধুনিকায়ন ঘটে সাহিত্য বিতানের মাধ্যমে। সাহিত্য বিতানের এ সময়ে বিভিন্ন কর্মকান্ডকে যারা সক্রিয় সহায়তা দান করেন তাদের কয়েকজনের নাম উলেøখের দাবি রাখে। এরা হচ্ছেনÑ এম এ মান্নান, সেলিম সারোয়ার, আমজাদ হোসেন, শাহেদ আলী মজনু, বুলবুল চৌধুরী, শরফুল আজিজ, মুজিবর রহমান বাদল, মমতাজ আহমেদ, শমসের আহমেদ, হাবিবুর রহমান খান, রফিকুল ইসলাম, মুহম্মদ শাহজাহান, মু. নূরউদ্দিন, মোঃ ওবায়েদউল্লাহ, মোসফেক আহমেদ কমল (১), কাজী মাহমুদ জসীম, আঃ খালেক, শরীফ সারোয়ার, ফজলুল বারী, আহমেদ শামসুদ্দিন, মোহাম্মদ ইসহাক, কফিলউদ্দিন আহমেদ, কাইয়ুম চৌধুরী, সাগর ইবনে ইমাম, রনজিৎ মজুমদার, আবুল কালাম আজাদ, হোসনে আরা, সুফিয়া নিয়ামত, নাজমা রহমান, জাহেদা বেগম শাম্মী, মাহফুজা বেগম, কাজী মহুয়া, মৃদুলা প্রমুখ।সমস্বর নামে সাহিত্য সংকলনের দুটি সংখ্যা এ সংস্থা হতে প্রকাশিত হয়েছিল।
১৯৬৪ পরবর্তীকালে সাহিত্য বিতানে আরও নিবেদিত প্রাণ সংস্কৃতিসেবীদের সংযোগ ঘটে এবং সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে নারায়ণগঞ্জের সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। এদের মধ্যে আজিজুল হক, তমিজউদ্দিন রিজভী, আনোয়ার আশরাফ, মুহিতুল ইসলাম রনজু, শামসুল হক আলী নূর, রনজিৎ নিয়োগী, শাহিন আমজাদ, করুণাময় গোস্বামী, ফয়েজ আহমেদ, মোঃ জাহাঙ্গীর, শফিকুল ইসলাম সনদ, শফি মাহমুদ, আঃ আউয়াল, মাসুদ আহমেদ, কাজী মাহমুদ সেলিম, মফিজুল ইসলাম সারু, সোহরাব হোসেন, আনছার আলী, আঃ রহমান, শাহ তবিবউল্লাহ, মীনা, ডেইজী, নূপুর, রেশমা, শামীমা, হোসনে আরা, রওশন রোখসানা, হিমাংশু কিশোর চক্রবর্তীর নামে উল্লেখযোগ্য।
ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য ও বাংলা ভাষার সাহিত্য-সংস্কৃতিকে উর্ধে তুলে ধরার জন্য সাহিত্য বিতানের কর্মকান্ড নারায়ণগঞ্জে বেশ প্রভাব সৃষ্টি করে।
১৯৬৯ সালের গোড়ার দিকে উচ্চারণ সাহিত্য চক্র গঠিত হয়। ডা. মোহাম্মদ আবদুর রশিদ ছিলেন এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। সাহিত্য আলোচনা, সংকলন প্রকাশ ও মুক্ত সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তাদের সুন্দর ভূমিকা ছিল।
১৯৭৭ সালে নারায়ণগঞ্জ শহরের ওপারে বন্দর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান অক্ষর ।অফিস আদালতে বাংলা প্রচলন : পরিভাষা ও পাঠাভ্যাস সমীক্ষার শিরোনামে একটি জরিপ কাজ পরিচালনা ও প্রকাশনা ছিল এই সংগঠনের উলেøখযোগ্য কার্যক্রম। তাদের দাবি অনুসারে এটি সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে দেশে বাংলাভাষা প্রচলন বিষয়ক সর্বপ্রথম প্রকাশিত সমীক্ষণ। মহান ভাষা আন্দোলনের স্মারক হিসেবে তারা একটি শহীদ কার্ড প্রকাশ করেন। এছাড়া নিয়মিত সাহিত্য সভা, সাহিত্য সংকলন প্রকাশ প্রভৃতি ছিল এদের কর্মসূচির অন্তর্গত। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ফজলুল বারী। সহযোগী হিসেবে ছিলেন রেজাউল করিম বিক্রমপুরী, পিয়ার আলী, বাকিবিল্লাহ, হালিম আজাদ, সামসুল আরেফিন, ইউসুফ আলী এটম, সুভাষ দেব, জান্নাতুল ফেরদৌস, বজলুর রায়হান, জালালউদ্দিন, মোয়াজ্জেম হোসেন সরকার, নজরুল ইসলাম মিন্টু প্রমুখ। উলেøখ থাকে যে, ১৯৮০ সালে অক্ষর সংকলনে অমর হোক ৮ই ফাল্গুন শিরোনামে একটি কবিতা প্রকাশিত হতে দেখা যায়। এতে ২১ শে ফেব্রুয়ারি তারিখের সমান্তরালে ৮ই ফাল্গুন তারিখটি প্রতিষ্ঠা করার একটি প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়।
নারায়ণগেঞ্জ বাংলাসাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিকাশ করার লক্ষ্যে স্বাধীনতার পরে ১৯৭৮ সালে সাহিত্য সংগঠন পলাশ ভূমিকা পালন করে। ছোট কাগজের পত্রিকা ড্যাফোডিল ও আশির দশকে নারায়ণগঞ্জের সাহিত্য জগতকে সমৃদ্ধ করতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১৯৮১ সালে কতিপয় তরুণ সাহিত্য কর্মী প্রতিষ্ঠা করে প্যাপিরাস। এই সংগঠনের উদ্যোগে ১৯৮৪ সালে স্থানীয় জিয়া হলে নারায়ণগঞ্জে প্রথম দর্শনীর বিনিময়ে ছড়া পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হয়। এই সংগঠন প্রতিষ্ঠার সাথে যুক্ত ছিলেন খালেদ হোসাইন, রহমতুল বারী, মহিউদ্দিন আকবর, শামীম আহমদ, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ উলেøখযোগ্য।
এছাড়া, বিংশ শতাব্দীর সত্তর দশকে নারায়ণগঞ্জের ওয়াহিদ রেজা সম্পাদিত ও রফিউর রাব্বির প্রচ্ছদ অঙ্কিত শ্লোগান সাহিত্য পত্রিকাটি মুক্তধারা কর্তৃক প্রথম পুরস্কার অর্জন করে। আশির দশকে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত রফিউর রাব্বি-র সম্পাদনা ও প্রচ্ছদে ভূষিত আরেকটি যুদ্ধের জন্য ছোটকাগজটি পরপর দুবার (১৯৮০ ও ১৯৮১) জাতীয়ভাবে চিত্তরঞ্জন সাহা-র মুক্তধারা কর্তৃক প্রচ্ছদ ও অঙ্গসজ্জার জন্য প্রথম পুরস্কার অর্জন করে। উল্লেখ থাকে যে, মুক্তধারা তখন জাতীয়ভাবে চারটি ক্ষেত্রে পুরস্কার প্রদান করতো এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার প্রদান করতো। ১৯৮৩ সালে শাপলা সংকলনটিও জাতীয়ভাবে মুক্তধারা কর্তৃক পুরস্কৃত হয়। ১৯৮৪ সালে মাহবুব কামরান সম্পাদিত একটি ছোটকাগজও মুক্তধারা কর্তৃক পুরস্কৃত হয়। ১৯৮৫ সালে নিরঞ্জন রায় সম্পাদিত ও রফিউর রাব্বির প্রচ্ছদ অঙ্কিত ডাক দিয়ে যায় সাহিত্য সংকলনটি পুরস্কৃত হয়। ১৯৮৬ সালে অশোক গুহ সম্পাদিত দারুচিনি নামের ছোটকাগজটি মুক্তধারা কর্তৃক প্রথম পুরস্কার অর্জন করে।২২ এসব পুরস্কার নারায়ণগঞ্জের সাহিত্যপ্রেমী ও ভাষাপ্রেমী তরুণদের চলার পথে উৎসাহ সঞ্চার করে। নারায়ণগঞ্জের মতো একটি মফস্বল শহর থেকে এভাবে পরপর কয়েকবার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করায় বলা যায় নারায়ণগঞ্জে তখন সৃষ্টিশীলতার বান ডেকেছিল এবং তা জাতীয় মান অর্জন করেছিল।
ভাষা আন্দোলনের প্রভাবে তৎপরবর্তীকালে নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন সময়ে আরও যেসব সংকলন বা সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে, যেসবের নামেই ভাষা আন্দোলনের প্রভাব বিকাশিত হয়েছে, সেসব হলোÑবেদনায় অবগাহী (সম্পাদক- শাহেদ আলী মজনু, ১৯৬৯), অক্ষত পলাশ (সম্পাদক- কাজী শাহাদাত হোসেন, ১৯৭০), রক্ত পলাশ (সম্পাদক- এ.কে.এম আবদুল মোতালিব, ফরিদা মহিউদ্দিন, ১৯৭০), রক্তাক্ত ফাল্গুন (সম্পাদক- হারাধন পোদ্দার, ১৯৭০), দুঃখিনী বর্ণমালা (সম্পাদক- মোমতাজ হোসেন, ১৯৭০), যে ফাল্গুনে হারিয়ে গেছে (সম্পাদনা- শহিদুর রহমান, ১৯৭১), ক্রন্দসী ফাল্গুন (সম্পাদক- ছালাম ঢালী, ১৯৭২), সুধী (সম্পাদক- মোহাম্মদ ইসহাক ও অন্যান্য, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ যাবৎ), বনফুল (সম্পাদকমন্ডলী, ১৯৮৫), দারুচিনি (সম্পাদকমন্ডলী, ১৯৮৪), প্রথম কদম ফুল (সম্পাদক- আমজাদ হোসেন, ১৯৭২), বিদ্রোহী বাংলা (সম্পাদক- জাফরউল্লাহ সিকদার, ১৯৭১), কৃষ্ণচূড়া (সম্পাদক- আক্তার হোসেন, ১৯৭২), একুশের কৃষ্ণচূড়া (সম্পাদক- গৌরী রানী ধর, ১৯৭৩), বিধস্ত বাংলা (সম্পাদক- শরীফ হারুনুর রশিদ, ১৯৭২), আহত ফাল্গুন (সম্পাদক- সৈয়দউদ্দিন আহাম্মদ, ১৯৭১), মনোনীল মনিহার (সম্পাদক- মফিজুল ইসলাম সারু), (নীলোৎপল, সম্পাদক-মোশারফ হোসেন মাখন), সূর্যাবর্ত (সম্পাদক- আব্দুস সালাম খোকন) প্রমুখ।
ভাষা আন্দোলনের ফলে বাংলা ভাষা নিয়ে কাজ করার জন্য এখনও নারায়ণগঞ্জে বিংশ শতাব্দীর আশি-নব্বই দশক থেকে সক্রিয় আছে ড্যাফোডিল প্রগতি সাহিত্য সংসদ, ধাবমান সাহিত্য আন্দোলন, বন্দর এলাকার সাহিত্য বিকাশ আন্দোলন, বিরাং সাহিত্য আন্দোলন, নারায়ণগঞ্জ কবিতা পরিষদ, বাংলাদেশ কবি পরিষদ, নারায়ণগঞ্জ শাখা, ছোটকাগজ শতদ্রæ, ছোটকাগজ ওঙ্কার ইত্যাদি।
কৃষ্টি পত্রিকার কথা
ভাষা আন্দোলনে সর্বাধিক প্রভাব বিস্তারী সাহিত্য পত্রিকার মধ্যে কৃষ্টি উলেøখযোগ্য। ড. ইসরাইল খানের সাময়িকপত্র : পাকিস্তান পর্ব গ্রন্থ থেকে জানা যায়, এটি ভাষা আন্দোলনের পূর্বেই ১৯৪৭ সালে নভেম্বর (কার্তিক) মাসে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের বিজলী প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। এটি সম্পাদনা করেছিলেন সিতাংশু হালদারসহ চারজন। এটিতেই ড. মুহম্মদ এনামুল হক-এর পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা কেন? শীর্ষক একটি উলেøখযোগ্য প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। এতে তিনি বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে সর্বপ্রথম পূর্ব পাকিস্তানের ভাষা বাংলা না হইলে এটির সূত্র ধরেই পূর্ব বাংলা স্বাধীন হইয়া যাইবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। ২৪ পরবর্তীতে যেটি অÿরে অÿরে ফলে গিয়েছিল। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি ও এম. আর. মাহবুব সম্পাদিত ভাষাসংগ্রামী মমতাজ বেগম স্মারকগ্রন্থে তাঁর ভাষাসৈনিক মমতাজ বেগম ও নারায়ণগঞ্জের ভাষা-আন্দোলন শীর্ষক প্রবন্ধে বরিশালের এক ভাষাসৈনিক মোশারফ হোসেন নান্নুর স্মৃতিচারণের উপর ভিত্তি করে সম্ভবত ঐ পত্রিকাটির নাম স্ফলিঙ্গ বলে জানাচ্ছেন। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে এটির নাম হবে কৃষ্টি । আশা করছি, সত্যের আতশকাঁচে ফেলে ইতিহাসের মনোযোগী শিক্ষার্থীরা একদিন সঠিক তথ্য ঠিকই বের করে আনবে।
৩.
মমতাজ বেগম : এক অনন্যসাধারণ বিপ্লবীর নাম
নারায়ণগঞ্জে ভাষা আন্দোলনে মমতাজ বেগম এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন। তখনকার রক্ষণশীল সমাজে একজন বয়স্ক নারীরই যেখানে রাস্তায় বের হওয়া ছিল কঠিন ব্যাপার, সেখানে তিনি যৌবন বয়সেই নিজে আন্দোলনে সম্পৃক্ত তো হয়েছিলেনই, অধিকন্তু তাঁর স্কুলের সমস্ত ছাত্রীদেরও তিনি এ আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে পেরেছিলেন। নারায়ণগঞ্জের ভাষাসৈনিক গফুর চৌধুরী জানাচ্ছেন, নারায়ণগঞ্জের কোনো আন্দোলনে মমতাজ বেগমই সর্বপ্রথম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। কাজেই মমতাজ বেগমের বিপ্লবী জীবন নারায়ণগঞ্জের নারী আন্দোলনেরও এক উজ্জ্বল অধ্যায়।
২১ ফেব্রুয়ারির মিছিলে তিনি ছাত্রীদের নিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। এমনকি ২২, ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে সপ্তাহজুড়ে যে সমস্ত কর্মসূচি ছিল তিনি প্রত্যেকটিতে ছাত্রীদের নিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি আদমজীর শ্রমিকসহ ভাষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখার ব্যবস্থা করেছেন। ১৯৫২ সালটি ছিল লীপ-ইয়ারের বছর। তাই এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাস ছিল ২৯ দিনের। নারায়ণগঞ্জের ভাষা আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণে মুসলিম লীগ সরকার ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ২৯ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ভাষা আন্দোলনের কেন্দ্র বায়তুল আমান-এ যাওয়ার পথে তাঁকে গ্রেফতার করলে নারায়ণগঞ্জ শহর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের হাজার হাজার জনতা, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, আদমজী পাটকলের শ্রমিকেরা এ গ্রেফতারের প্রতিবাদে তাঁর মুক্তির দাবি করে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। সরকার একা তাঁকে গ্রেফতার করতে গিয়ে ঢাকা থেকে বিশেষ রিজার্ভ বাহিনী নিয়ে এসে আন্দোলনরত প্রায় দেড়শত লোককে বন্দী করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিক্ষেপ করে। তারপরও আন্দোলন দমাতে না পেরে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে সরকার অন্তর্ঘাতমূলক কাজ হিসেবে পুলিশের এক কনস্টেবলকে গুপ্তঘাতকের মাধ্যমে গুলি করে হত্যা করে। একজন আনসার সদস্যকে আহত করে।
মমতাজ বেগম বন্দীদের নির্মম অত্যাচারের প্রতিবাদে জেলখানায়ও অনশনের মাধ্যমে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। এমনকি সরকারের প্ররোচনায় তাঁর স্বামী আব্দুল মান্নাফ মুচলেকার মাধ্যমে তাঁকে মুক্ত করতে পরামর্শ দিলে তিনি ঘৃণাভরে তা প্রত্যাখ্যান করেন। এক পর্যায়ে স্বামী তাঁকে তালাক দেয়ার হুমকি দিলেও তিনি নতি স্বীকার করেননি। দেড় বছর জেল খেটে তিনি সবার পরে জেল থেকে বের হতে পারেন। এ সময়ে তাঁর স্কুলের চাকুরিটিও চলে যায়। ইতিমধ্যে স্বামীও তাঁকে তালাক দেয়। তিনি আর্থিক কষ্টে পড়েন। তবু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি।
মমতাজ বেগমকে গ্রেফতার স¤পর্কে রাজনীতিবিদ ভাষাসংগ্রামী অলি আহাদ বলেছেন, অধুনা পথেঘাটে অগ্নিকন্যা দাবি ভূষিত বহু নেত্রীর নাম শোনা যায়; কিন্তু তাঁরা কেউ কি মিসেস মমতাজ বেগমের ন্যায় অগ্নি অতিক্রম করে জনতার চেতনায় স্বামী ত্যাগ ও কর্মোদ্যম দ্বারা এবং জানমাল ইজ্জতের পূর্ণ ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনের আগুন ছড়াতে কখনও সক্ষম হয়েছিল? ২৫ ঢাকায় জাতীয় আন্দোলনেও তখন ভাষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে এমন দৃঢ় মনোভাবের সন্ধান পাওয়া যায়নি। কেন জানি, ভাষা আন্দোলনের জাতীয় নেতৃবৃন্দও তাঁর যথাযথ মর্যাদা প্রদান করেনি। এক পর্যায়ে শেষ বয়সে তাঁকে কপর্দকশূন্য হয়ে নীরবে নিভৃতে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে।
তাঁর পিতা রায় বাহাদুর মহিমচন্দ্র রায় কোলকাতা হাইকোর্টের একজন বিচারক ছিলেন। কিন্তু পিতা তাঁকে কন্যা হিসেবে উত্তরাধিকারীর মর্যাদা না দিয়ে একজন দত্তক পুত্রকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করলে তিনি পিতার সাথে সম্পর্ক ছেদ করেন। এ প্রতিবাদী ভূমিকা তিনি আজীবন লালন করেছেন। আসলে তাঁর প্রতিবাদী জীবনকে পিতার সম্পত্তিতে কন্যার অধিকার বিষয়ক চপেটাঘাত হিসেবেও আখ্যায়িত করা যায়। জন্মেছিলেন ১৯২৩ সালের ২০ মে; ৫৭ শিবপুর, হাওড়া, কোলকাতায়। তখন নাম ছিল কল্যাণী রায় চৌধুরী, ডাক নাম মিনু। তাঁর মামা ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক প্রমথনাথ বিশি। মা মাখনমতি দেবী ছিলেন শিক্ষক। শৈশবে একটি প্রগতিশীল উদার পরিবেশে লালিত-পালিত হয়েছিলেন বিধায় তিনি ধর্মীয় কূপমন্ডুকতার আবদ্ধ না থেকে নিজ শৈশব ধর্ম ত্যাগ করে প্রেমের মহিমায় একজন মুসলমানকে বিয়ে করতেও দ্বিধা করেননি। এই প্রতিবাদী চেতনার ধারায় সিক্ত হয়ে তিনি পরিণত বয়সে কমিউনিস্টদের সাথে সংযোগ রক্ষা করে চলেছেন। উলেøখ থাকে যে, পাকিস্তান আমলে কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ছিল বিধায় তাদের গোপনে কাজ করতে হতো। এই কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের সাথে তিনি আদমজী মিলের পাটকল শ্রমিকদের মাঝেও কাজ করেছেন। ২৬ প্রেরণা পেয়েছেন এই বিপ্লবীদের থেকেও । কিন্তু বাংলাভাষার আন্দোলন করতে গিয়ে কারাবরণ করায় প্রেম করে বিয়ে-করা স্বামীও তাঁকে ভুল বুঝেছে। জেল থেকে বেরিয়ে তিনি প্রচন্ড আর্থিক কষ্টে ভুগেন। যাঁদের পাশে থেকে তিনি আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার মনোবল পেয়েছিলেন, জেল থেকে বেরোনোর পর তাঁদের কাছ থেকে সেই পরিমাণ সাদর অভ্যর্থনা না পাওয়ায় তিনি ধীরে ধীরে দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে যান। ১৯৬৭ সালের ৩০ মার্চ তিনি নীরবে মৃত্যুবরণ করেন। পত্রিকার পাতায় এ মৃত্যুসংবাদ প্রকাশিত হয়নি। কোথাও কোনো শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়নি। একমাত্র কন্যা সাহানা বেগম খুকুই শুধু মায়ের স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরেছিলেন। তিনি তার মাকে একজন স্নেহময়ী মা হিসেবে উলেøখ করেছেন। এই মেয়ের উদ্যোগেই ভাষাসংগ্রামী মমতাজ বেগম স্মারকগ্রন্থটি প্রকাশিত হতে পেরেছিল। এ স্মারকগ্রন্থ প্রকাশকালে তাঁর ছবির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে নারায়ণগঞ্জের শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমীর বর্তমান সভাপতি আবদুর রহমান অনেক কষ্টে মমতাজ বেগমের এম.এড ব্যাচের ছাত্রীদের সহযোগিতায় একটি গ্রæপ ছবি জোগাড় করে দিয়েছিলেন। মমতাজ বেগমের আর কোন ছবি পাওয়া যায়নি। এ গ্রæপ ছবি থেকে বড় করে কিছুটা অস্পষ্ট যে ছবি স্মারকগ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে সেটিই মহিয়সী মমতাজ বেগমের একমাত্র ছবি। এ গ্রন্থটি প্রকাশের সূত্র ধরে অবশেষে সরকার তাঁকে ২০১২ সালে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান মরণোত্তর একুশে পদক এ ভূষিত করেছে। নারায়ণগঞ্জবাসী তাঁর স্মৃতি স্মরণে ভাষাসংগ্রামী মমতাজ বেগম নামে মর্গ্যান স্কুলের পাশের রাস্তাটির নামকরণ করেছে। নারায়ণগঞ্জবাসী এরকম একজন ভাষাসৈনিকের জন্ম দিতে পেরে গর্ব বোধ করছে। তাঁর পথ ধরে আরও অনেক সংগ্রামীর জন্ম এ মাটি থেকে হবে নিশ্চয়ই।
৪.
তাঁকে নিয়ে নাটক রচিত হতে পারতো, জীবনীগ্রন্থ প্রকাশিত হতে পারতো। তাঁর জীবনীর উপর ভিত্তি করে ডকুমেন্টারি বা চলচ্চিত্র নির্মিত হতে পারতো। নিদেনপক্ষে কবিতা বা গল্প রচিত হতে পারতো। কেউ কেউ হয়তো তা করেছেও। কিন্তু আমাদের সংরক্ষনহীন মনোভাবের কারণে তা সঠিকভাবে প্রামাণ্যীকরণ হয়নি। হয়তো ভবিষ্যতের কোনো গবেষক তাঁকে নিয়ে কি কি লেখা তখন প্রকাশিত হয়েছিল তা তুলে আনবে। বর্তমান নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় পৌর শহিদ মিনারও একটি আন্দোলনের ফসল। নারায়ণগঞ্জের সংস্কৃতিকর্মীরা সেটি আন্দোলন করে আদায় করে নিয়েছিলেন। পরোক্ষভাবে সেটি উত্তরসূরী হিসেবে মমতাজ বেগমের আন্দোলনেরই ধারাবাহিকতা বলা যেতে পারে। সে শহিদ মিনারে একদিন হাজারো জনতার উপস্থিতিতে ভাষাসেনানী মমতাজ বেগমের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবেÑ এ আশা করছি। সে মূল্যায়ন থেকে জনতা ভাষা আন্দোলনেরই পরিণত রূপ যে মুক্তিযুদ্ধ সেটি স্বীকার করবে। আর সে মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত কাজকে এগিয়ে নেয়ার ব্রতকে হৃদয়ে ধারণ করবে। অসমাপ্ত এ কাজকে এগিয়ে নেয়ার এ সন্ধিক্ষণে মমতাজ বেগম-এর মতো মানুষ খুব দরকার, খুবই দরকার।
তথ্যসূত্র :
১. ভাষা আন্দোলনের আঞ্চলিক ইতিহাস- সম্পাদনা- আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন (রুমন রেজার প্রবন্ধ)
২. ঐ
৩. নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘উন্মেষ’ প্রদত্ত ভাষাসৈনিকদের সম্মাননা উপলক্ষে প্রকাশিত আবর্তন সংকলন থেকে
৪. ঐ
৫. যে আগুন ছড়িয়ে গেল সবখানেÑ নূরুল ইসলাম (পৃ. ২৫৯)
৬. ঐ
৭. ভাষা-আন্দোলন : ইতিহাস ও উত্তরপ্রভাব Ñ আহমদ রফিক (পৃ. ৩০০)
৮. ঐ
৯. ভাষা আন্দোলনের আঞ্চলিক ইতিহাস- সম্পাদনা- আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন (রুমন রেজার প্রবন্ধ)
১০. ভাষা আন্দোলন : ইতিহাস ও তাৎপর্যÑ আবদুল মতিন. আহমদ রফিক
১১. ভাষা আন্দোলনের আঞ্চলিক ইতিহাস- সম্পাদনা- আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন (রুমন রেজার প্রবন্ধ)
১২. ঐ
১৩. চোখের দেখা প্রাণের কথা গ্রন্থের লেখক শাহেদ আলী মজনু’র সাক্ষাৎকার
১৪. ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসÑবশীর আল হেলাল (পৃ. ৫১১)
১৫. ভাষা-আন্দোলন : ইতিহাস ও উত্তরপ্রভাব Ñ আহমদ রফিক (পৃ. ২৯৯)
১৬. ভাষা আন্দোলনের আঞ্চলিক ইতিহাস- সম্পাদনা- আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন (রুমন রেজার প্রবন্ধ)
১৭. ঐ
১৮. পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি Ñ বদরুদ্দীন উমর (পৃ. ৩১৬)
১৯. সাক্ষাৎকারÑ কবি মুজিবুল হক কবীর
২০. নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসÑ সম্পাদনা পরিষদ, সুধীজন পাঠাগার কর্তৃক প্রকাশিত, ১৯৮৫
২১. সাক্ষাৎকার Ñ কবি বজলুর রায়হান
২২. সাক্ষাৎকার Ñ রফিউর রাব্বি
২৩. নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসÑ সম্পাদনা পরিষদ, সুধীজন পাঠাগার কর্তৃক প্রকাশিত, ১৯৮৫
২৪. সাময়িকপত্র : পাকিস্তানপর্ব Ñ ড. ইসরাইল খান
২৫. ভাষাসংগ্রামী মমতাজ বেগমÑ সম্পাদনা : এম.আর. মাহবুব
২৬. ভাষাসংগ্রামী মমতাজ বেগমÑ সম্পাদনা : এম.আর. মাহবুব
২৭. সাক্ষাৎকারÑ আবদুর রহমান
রনজিত কুমার : সমন্বয়কারী, শিক্ষা কর্মসূচি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, ঢাকা
বশে কয়কেটি কারণে ঐতহিাসকি ভাষা আন্দোলনরে সমান্তরালে নারায়ণগঞ্জরে ভাষা আন্দোলনও ঢাকার জাতীয় আন্দোলনকে ছাপয়িে গয়িছেলি। ঢাকার সইে ঐতহিাসকি জাতীয় আন্দোলনে কোনো মহলিা রাজবন্দীর সন্ধান পাওয়া যায়না। একমাত্র মহলিা যে রাজবন্দীর সাক্ষাত পাওয়া যায় তনিি হলনে নারায়ণগঞ্জরে মমতাজ বগেম। র্অথাৎ এভাবওে বলা যতেে পারে য,ে তখন ঢাকার ময়েদেরে তুলনায় নারায়ণগঞ্জরে ময়েরো চন্তিা-চতেনায় অগ্রসর ছলি। ঢাকায় গঠতি র্সবদলীয় রাষ্ট্রভাষা র্কমপরষিদরে কমটিতিওে নারায়ণগঞ্জরে দুজন নতোর নাম দখেতে পাওয়া যায়। এতওে নারায়ণগঞ্জরে নতোদরে অগ্রসর ভূমকিার প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া, বুদ্ধবিৃত্তরি ক্ষত্রেওে নারায়ণগঞ্জ ছলি অগ্রসর। পাকস্থিান রাষ্ট্রে রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার যুক্তি তুলে ধরে বশিষ্টি বুদ্ধজিীবী ড. এনামুল হক যে ঐতহিাসকি প্রবন্ধ লখিছেলিনে সটেওি নারায়ণগঞ্জরে বজিলী প্রসে থকেে প্রকাশতি নারায়ণগঞ্জরে সাময়কিী ‘কৃষ্ট’ি-তে প্রথম প্রকাশতি হয়ছেলি। এছাড়া, নারায়ণগঞ্জরে ভাষা আন্দোলনইে স্কুল ছাত্রী এবং পাটকল শ্রমকিরো ব্যাপকভাবে শরকি হয়ছেলিো। ঢাকা ও অন্যান্য জলোর তুলনায় নারায়ণগঞ্জ থকেে ভাষাসংগ্রামীদরে কারাবরণও ছলি র্সবাধকি। ভাষা আন্দোলন নয়িে যসেব গবষেণার্ধমী বই-পুস্তক রচতি হয়ছেে তার প্রত্যকেটতিে ঢাকার পরইে নারায়ণঞ্জরে ভাষা আন্দোলনরে কথা বশে র্গবরে সাথে উলøেখ করা হয়ছে।ে এসব র্গবতি ইতহিাস থকেে মন-িমুক্তা খুঁজতে আমাদরে সে ইতহিাসে ডুব দতিে হব।ে
প্রথম র্পযায় : ১৯৪৮ থকেে ১৯৫১
ঢাকার মতো নারায়ণগঞ্জওে ভাষা আন্দোলনরে সূত্রপাত একইসাথে ১৯৪৮ সালরে ১১ র্মাচ থকে।ে সক্রেটোরয়িটে র্কমচারীদরে দাবরি সাথে একাত্ম হয়ে ছাত্ররা এ আন্দোলন গড়ে তুলছেলি। সদেনি ছলি জাতীয়ভাবে ঘোষতি রাষ্ট্রভাষা দবিস। এদনি নারায়ণগঞ্জে হরতাল পালতি হয়। ভাষাসনৈকি গোলাম মোরশদে ফারুকীসহ কয়কেজন ভাষাসনৈকি এ হরতাল পালনরে কথা তাঁদরে স্মৃতচিারণে উল্লখে করনে। ঐদনি বঙ্গবন্ধু সড়করে খালি জায়গায় মটিংি করা হয়, র্বতমানে যখোনে বলাকা পট্রেোল পাম্প অবস্থতি। পাবলকি সভা ও হরতাল অনুষ্ঠতি হয়। ঐদনি মটিংি-এ উপস্থতি ছলিনে গোলাম মোরশদে ফারুকী, শফি হোসনে খান, খানপুররে নাজরি হোসনে মোক্তার প্রমুখ। এদনি ভাষাসংগ্রাম কমটিওি গঠতি হয়। সকালে বাংলা ভাষা আন্দোলনরে সর্মথনকারী ছাত্রর্কমীরা স্থানীয় রশেনংি অফসিরে সামনে রাজপথে শুয়ে পড়নে। তাঁরা র্কমচারীদরে অফসিে প্রবশেে বাধা দনে। বক্ষিোভে ফটেে পড়নে ছাত্র-জনতা। রাজপথ মুখরতি হয়ে ওঠে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগান।ে ব্রটিশি কায়দায় দমকলবাহনিী দয়িে পানি ছটিয়ি,ে ছাত্র-জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চষ্টো করা হলে উত্তজেনা আরও বড়েে যায়। ছাত্র-জনতার প্রতবিাদরে মুখে পুলশি পছিয়িে যতেে বাধ্য হয়। ঘটনার প্রতবিাদে মছিলি বরে হয়। রাষ্ট্রভাষা দবিসইে সংগ্রামী জনতার বক্ষিোভরে সামনে মাথা নোয়াতে হয় পুলশি বাহনিীক।ে ১২ র্মাচ র্পূব বাংলা মুসলমি লীগ ও তমদ্দুন মজলসিরে যুক্ত রাষ্ট্রভাষা সাব-কমটিরি ঘোষণানুযায়ী নারায়ণগঞ্জওে হরতাল পালতি হয়, এ সংবাদ ১৩ র্মাচ কলকাতার আনন্দ বাজার পত্রকিার রপর্িোট থকেে পাওয়া যায়।
নারায়ণগঞ্জরে অন্যতম ভাষাসনৈকি খাজা জহরিুল হক উল্লখে করনে, ‘বরিোধীদল থকেে যাতে নর্বিাচন না করতে পারি সজেন্য প্রশাসন থকেে ঊইউঙ, ১৯৪৯ (ঊষবপঃরাব ইড়ফু উরংয়ঁধষরভরপধঃরড়হ ঙৎফবৎ) জারি করা হয়। এই অগণতান্ত্রকি আদশেরে বরিুদ্ধে মামলা করে জতিে আমরা নর্বিাচন কর।ি এই অন্যায়রে প্রতবিাদ থকেে আমাদরে মধ্যে যে যোগসূত্র তরৈি হয় তা থকেইে সূত্রপাত হয় মমতাজ বগেমকে ছাড়য়িে আনার আন্দোলন। এই আন্দোলনই বৃহত্তর ভাষা আন্দোলনে পরণিত হয় সারাদশেব্যাপী।
নারায়ণগঞ্জরে অন্যতম ভাষাসনৈকি খাজা মহউিদ্দনি বলনে, ‘১৯৪৮ সালরে র্মাচ মাসে মুহম্মদ আলী জন্নিাহ প্রথম ও শষেবাররে মতো ঢাকায় আগমন করনে। ২১ র্মাচ মুহম্মদ আলী জন্নিাহ রসের্কোস ময়দানে (র্বতমান সোহরাওর্য়াদী উদ্যান) ও ২৪ র্মাচ ঢাকা বশ্বিবদ্যিালয়রে র্কাজন হলে ঘোষণা দনে ‘র্উদুই হবে পাকস্তিানরে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জরে ছাত্র-জনতাসহ আব্দুল মতনি, এম.এম আহসান, তাজউদ্দনি আহম্মদ, অলি আহাদ এবং টাঙ্গাইলরে তুখোড় ছাত্রনতো শামসুল হকরে নতেৃত্বে আমরা ‘নো’, ‘নো’ প্রতবিাদরে ভাষায় আকাশ-বাতাস মুখরতি করে বল,ি ‘বাংলাই হবে পাকস্তিানরে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। তখন তড়ঘিড়ি করে জন্নিাহ সাহবে তার বক্তব্য সংক্ষপ্তি করনে। ১৯৫২ সালরে ২৭ জানুয়ারি খাজা নাজমিুদ্দনিও একই সুরে র্উদুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা দলি,ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জরে ছাত্র-জনতার সাথে আমওি এর জোর প্রতবিাদ কর।ি’
চূড়ান্ত র্পযায় : ১৯৫১ থকেে ১৯৫২এর ফব্রেুয়ারি র্পযন্ত
ঢাকায় যখন বার লাইব্ররেি হলে ৩১ জানুয়ার,ি ১৯৫২-তে মৌলানা ভাসানীর সভাপতত্বিে কাজী গোলাম মাহবুব-কে আহ্বায়ক করে ২৮ সদস্য বশিষ্টি র্সবদলীয় রাষ্ট্রভাষা র্কমপরষিদ গঠতি হয়, তখন সে কমটিতিে নারায়ণগঞ্জরেও দুজন নতোর নাম পাওয়া যায়।৫ তাঁরা হলনে, আলমাস আলী ও আবদুল আওয়াল। তাঁরা তখন যথাক্রমে নারায়ণগঞ্জ মুসলমি আওয়ামী লীগরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হসিবেে দায়ত্বি পালন করতনে। এতে বোঝা যায়, তৎকালীন জাতীয় আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জরে নতোদরেও বশে ভূমকিা ছলি। এ কারণে জাতীয় কমটিতিে নারায়ণগঞ্জরে নতোদরেও তাঁরা রাখতে বাধ্য হয়ছেলিনে। প্রখ্যাত উপন্যাসকি আনসিুল হক-এর ‘ওরা ভোর এনছেলি’ উপন্যাসে এই আলমাস আলীর অবদানরে কথা বশিষেভাবে উল্লখেতি হয়ছে।ে নারায়ণগঞ্জরে এই বলষ্ঠি নতেৃত্বরে কারণে ঢাকার পরে ১৯৫২ সালে নারায়ণগঞ্জে ভাষা আন্দোলনরে অভঘিাত খুব তীব্রতা লাভ করছেলি, যা অনকোংশে জাতীয় রাজনীতরি তাৎর্পযকওে ছাপয়িে গয়িছে।ে গবষেণার সুবধর্িাথে এখানে র্সবদলীয় রাষ্ট্রভাষা র্কমপরষিদরে কমটিি উল্লখে করছ।ি ১. মওলানা আবদুল হামদি খান ভাসানী সভাপত,ি র্পূব পাকস্তিান আওয়ামী মুসলমি লীগ, ২. আবুল হাশমি – খলোফতে রাব্বানী র্পাট,ি ৩.শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক, র্পূব পাকস্তিান আওয়ামী মুসলমি লীগ, ৪. আবদুল গফুর সম্পাদক, সাপ্তাহকি সনৈকি, ৫. আবুল কাসমে তমদ্দুন মজলসি, ৬.আতাউর রহমান খান আওয়ামী মুসলমি লীগ, ৭. কামরুদ্দনি আহমদ প্রতষ্ঠিাতা, গণ আজাদী লীগ, ৮. খয়রাত হোসনে সদস্য, র্পূববঙ্গ আইন পরষিদ, ৯. আনোয়ারা খাতুন সদস্য, র্পূববঙ্গ আইন পরষিদ, ১০. আলমাস আলী নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী মুসলমি লীগ, ১১.আবদুল আওয়াল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী মুসলমি লীগ, ১২. সয়ৈদ আবদুর রহমি সভাপত,ি রকিশা ইউনয়িন, ১৩. মোহাম্মদ তোয়াহা সহ সভাপত,ি র্পূব পাকস্তিান যুবলীগ, ১৪. অলি আহাদ সাধারণ সম্পাদক, র্পূব পাকস্তিান যুবলীগ, ১৫. শামসুল হক চৌধুরী ভারপ্রাপ্ত সভাপত,ি র্পূব পাকস্তিান মুসলমি ছাত্রলীগ, ১৬. খালকে নওেয়াজ খান সাধারণ সম্পাদক, র্পূব পাকস্তিান মুসলমি ছাত্রলীগ, ১৭. কাজী গোলাম মাহবুব আহ্বায়ক, র্সবদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরষিদ, ১৮. র্মীজা গোলাম হাফজি সভিলি লবর্িাটি কমটি,ি ১৯. মজবিুল হক সহ সভাপত,ি সলমিুল্লাহ হল ছাত্র সংসদ, ২০. হদোয়তে হোসনে চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক, সলমিুল্লাহ হল ছাত্র সংসদ, ২১. শামসুল আলম সহ সভাপত,ি ফজলুল হক মুসলমি হল ছাত্র সংসদ, ২২. আনোয়ারুল হক খান সাধারণ সম্পাদক, ফজলুল হক মুসলমি হল ছাত্র সংসদ, ২৩. গোলাম মাওলা সহ সভাপত,ি ঢাকা মডেকিলে কলজে ছাত্র সংসদ, ২৪. সয়ৈদ নূরুল আলম-র্পূব পাকস্তিান মুসলমি ছাত্রলীগ, ২৫. নূরুল হুদা ইঞ্জনিয়িারংি কলজে, ২৬. শওকত আলী র্পূববঙ্গ র্কমীশবিরি, ২৭.আবদুল মতনি আহ্বায়ক, ঢাকা বশ্বিবদ্যিালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরষিদ, ২৮. আখতারউদ্দনি আহমদ নখিলি র্পূব পাকস্তিান মুসলমি ছাত্রলীগ।
দনৈকি আজাদ পত্রকিা থকেে জানা যায়, ১৯৫২ সালরে ৪ঠা ফব্রেুয়ারি নারায়ণগঞ্জওে বাংলাভাষার দাবতিে বভিন্নি স্কুল-কলজেরে ছাত্র-ছাত্রীরা র্ধমঘট পালন করে এবং শোভাযাত্রা সহকারে সমগ্র শহর প্রদক্ষণি কর।ে শোভাযাত্রা শষেে স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রীগণ রহমতুল্লাহ ইনস্টটিউিট প্রাঙ্গণে এক সভায় সমবতে হয়ে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষারূপে গ্রহণরে দাবি করে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করনে।
১৯৫২ সালরে ফব্রেুয়ারি মাসরে প্রথম থকেইে নারায়ণগঞ্জে আবার রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন সংগঠতি হতে থাক।ে ফব্রেুয়াররি প্রথম দকিইে মফজি উদ্দনি আহমদ আহ্বায়ক ও আজগর হোসনে ভূঁইয়াকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে এখানে র্সবদলীয় সংগ্রাম পরষিদ গঠন করা হয়। ফব্রেুয়ারি শোভাযাত্রা শষেে রহমত উল্লাহ ক্লাবে এক সমাবশেরে আয়োজন করা হয়। শামসুজ্জোহার সভাপতত্বিে অনুষ্ঠতি সভায় বক্তব্য রাখনে বজলুর রহমান, সুলতান মাহমুদ মল্লকি (ললিু মল্লকি), শামসুল হুদা, মোস্তফা সারোয়ার প্রমুখ। এভাবে ২০ ফব্রেুয়ারি র্পযন্ত নারায়ণগঞ্জে ধারাবাহকিভাবে ছাত্রদরে সভা সমাবশে মছিলি চলতে থাক।ে
২১ ফব্রেুয়ারি নারায়ণগঞ্জ ছলি প্রতবিাদরে শহর। সকল শক্ষিা প্রতষ্ঠিানে স্বতঃর্স্ফূত র্ধমঘট পালতি হয়। বভিন্নি এলাকায় বরে হয় বক্ষিোভ মছিলি। ঐদনি বকিলেে সমাবশেরে আয়োজন করা হয়। রহমতউল্লাহ ক্লাবে এ সমাবশেে প্রধান অতথিি হসিবেে উপস্থতি ছলিনে অবভিক্ত বাংলার বশিষ্টি রাজনীতবিদি আবুল হাশমি। বক্তব্য রাখনে অনুষ্ঠানরে সভাপতি আলমাস আলী, মুস্তফা সারোয়ার, মোঃ হাসান বজলুর রহমান প্রমুখ। প্রধান অতথিি বক্তব্য রাখার সময় ঢাকায় ছাত্রদরে উপর গুলর্বিষণরে খবর এসে পৗেঁছ।ে শ্রমকি নতো শফি হোসনে খান জনসভা সংক্ষপ্তি করে উপস্থতি জনগণকে নয়িে ঢাকা যাওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করনে। জনগণ বক্ষিোভে ফটেে পড়ে এবং সমস্ত শহর উত্তপ্ত হয়ে উঠ।ে পরস্থিতিি নয়িন্ত্রণে আনার তাগদিে রাজনতৈকি নতেৃবৃন্দ সদ্ধিান্ত পরর্বিতন করনে। শহররে বভিন্নি এলাকায় পথসভা করে উত্তজেতি জনতাকে শান্ত করা হয়। ঐদনি রাতইে পরর্বতী র্কমপন্থা নর্ধিারণরে জন্যে র্বতমান বঙ্গবন্ধু রোডস্থ একটি বাড়তিে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরষিদরে গোপন বঠৈক বস।ে সম্ভবত আন্দোলনরে সাথে সম্পৃক্ত কোন ব্যক্তরি বশ্বিাসঘাতকতার কারণে সভা চলাকালে গোপন সূত্রে খবর পয়েে পুলশি বাড়ি ঘরিে ফলে।ে মহকুমা প্রশাসক স্বয়ং পুলশি দলরে নতেৃত্ব দনে। কন্তিু নতেৃবৃন্দ প্রশাসককে শান্তপর্িূণ আন্দোলনরে নশ্চিয়তা দয়িে সম্ভাব্য গ্রফেতাররে হাত থকেে রহোই পান। বঠৈকরে পররে দনি র্অথাৎ ২২ ফব্রেুয়ারি শান্তপর্িূণ শোভাযাত্রা ও সমাবশেরে আয়োজনরে সদ্ধিান্ত গৃহীত হয়। পররে দনিরে র্কমসূচি সফল করার প্রয়োজনে ঐদনি রাতইে শ্রমকি নতোরা শল্পি এলাকায় চলে যান। ২২ ফব্রেুয়ারি সকাল থকেইে নারায়ণগঞ্জ মছিলিরে শহরে পরণিত হয়। বকিলেে চাষাঢ়া মাঠে এক জনসভা অনুষ্ঠতি হয়। শহর ছাড়াও আশপোশরে শল্পিাঞ্চল থকেে হাজার হাজার শ্রমকি জনসভায় যোগ দয়ে। এ জনসভায় স্কুলরে প্রধান শক্ষিকিা মমতাজ বগেমরে নতেৃত্বে মহলিাদরে একটি দলও শোভাযাত্রা সহকারে অংশ ননে। জনসভায় সভাপতত্বি করনে শ্রমকি নতো ফয়জে আহম্মদ। বক্তাদরে মধ্যে ছলিনে শফি হোসনে খান, সোলায়মান এফ. রহমান প্রমুখ কয়কেজন রাজনতৈকি নতো।
ঢাকাসহ র্পূব বাংলার বভিন্নি এলাকায় ভাষা আন্দোলন হলওে নারায়ণগঞ্জে আন্দোলন ছলি কছিুটা ভন্নি। ভাষা আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জরে ছাত্রদরে পাশাপাশি র্সবসাধারণরে অংশগ্রহণ ছলি লক্ষণীয়। তবে সবচয়েে গুরুত্বর্পূণ ছলি নারী সমাজরে অংশগ্রহণ। মছিলি, সভা, সমাবশেে মহলিাদরে অংশ নয়ো ছাড়াও আন্দোলন চালয়িে নয়োর জন্য শহররে গৃহনিীদরে স্বচ্ছোয় র্অথনতৈকি সাহায্য করার প্রবণতা এখানে ভাষা আন্দোলন সফল হওয়ার অন্যতম কারণ। মহলিাদরে সংগঠতি করে আন্দোলনরে সাথে সম্পৃক্ত করার ক্ষত্রেে অগ্রণী ভূমকিা পালন করনে র্মগ্যান বালকিা বদ্যিালয়রে প্রধান শক্ষিকিা মমতাজ বগেম। তনিি ফব্রেুয়াররি উত্তাল দনিগুলোতে প্রতটিি সভা-সমাবশে ও মছিলিরে পুরোভাগে ছলিনে।
২৩ থকেে ২৮ ফব্রেুয়ারি আন্দোলন ক্রমান্বয়ে জোরালো হয়ে ওঠ।ে এখানে প্রতদিনিই শহররে বভিন্নি এলাকায় চলতে থাকে মছিলি, মটিংি ও প্রতবিাদ। ২৩ ফব্রেুয়ারি নারায়ণগঞ্জে র্পূণ হরতাল পালতি হয়। দোকানপাট, ব্যবসা ও শল্পি প্রতষ্ঠিান সারা দনি বন্ধ ছলি। দনৈকি আজাদ-এর ১৯৫২ সালরে ২৬ ফব্রেুয়ারি সংখ্যা থকেে জানা যায় য,ে ২৫ ফব্রেুয়ারি নারায়ণগঞ্জ শল্পি এলাকায় র্পূণ হরতাল পালতি হয়। যানবাহন ও দোকানপাট সর্ম্পূণ বন্ধ থাক।ে ময়েরোও বক্ষিোভে যোগদান করনে। একই পত্রকিার ২৭ ফব্রেুয়ারি সংখ্যা হতে আরো জানা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর র্পূবপাড়স্থ সোনাকান্দা স্কুল প্রাঙ্গণে মৌলভী অলউিল্লাহার সভাপতত্বিে এক জনসভা অনুষ্ঠতি হয় (অবশ্য সোমবার উল্লখেতি হলওে তারখিরে উল্লখে নইে)। সভায় বাংলাকে পাকস্তিানরে রাষ্ট্রভাষা, বন্দি ছাত্রদরে বনিার্শতে মুক্ত,ি সান্ধ্য আইন প্রত্যাহার ও পুলশিী জুলুমরে প্রতকিার দাবি করা হয়। একই পত্রকিার একই সংখ্যায় আরো একটি সংবাদ পরবিশেতি হয়। এতে বলা হয় য,ে নারায়ণগঞ্জ সটিি মোছলমে লীগ র্কাযকরী কমটিরি এক জরুরি অধবিশেনে দুই মনিটি নীরবে দন্ডায়মান হয়ে শহীদদরে প্রতি সম্মান প্রর্দশন করা হয়। সভায় গৃহীত এক প্রস্তাবে র্ববরোচতি হত্যাকান্ডরে জন্য তদন্ত সাপক্ষেে দায়ী ব্যক্তদিরে বরখাস্ত ও বন্দি ছাত্রদরে মুক্তি দাবি করা হয়। পুলশিরে গুলতিে যাঁরা শহীদ হয়ছেনে তাদরে আত্মার মাগফরোত কামনা করে একটি প্রস্তাবও সভায় গ্রহণ করা হয়।
ফব্রেুয়াররি শষে সপ্তাহরে নারায়ণগঞ্জরে ঘটনাবলি বচিলতি করে তোলে মুসলমি লীগ সরকারক।ে এ সময় জনতা ও নরিাপত্তা বাহনিীর মধ্যে এক মারাত্মক সংর্ঘষ ঘট।ে এ সর্ম্পকে দনৈকি আজাদরে ১ র্মাচ সংখ্যায় র্দীঘ শরিোনামে সংবাদ পরবিশেতি হয়। সংবাদটরি প্রথমাংশে বলা হয়, ২৯ ফব্রেুয়ারি সন্ধ্যায় চাষাঢ়া স্টশেনরে নকিট পুলশি ও বক্ষিোভ প্রর্দশনকারী জনতার মধ্যে সংর্ঘষরে ফলে ২০ জন পুলশিসহ প্রায় ৪ ব্যক্তি আহত হয়। ঘটনা সর্ম্পকে তদন্ত করে স্থানীয় পুলশি নারায়ণগঞ্জরে এমএলএ ওসমান আলী ও অপর কয়কে ব্যক্তকিে গ্রফেতার কর।ে এদনি পুলশি চাষাড়াস্থ বায়তুল আমানে ঢুকে শামসুজ্জোহার স্ত্রী নাগনিা জোহাকওে লাঞ্ছতি কর।ে১৩ ঘটনার ববিরণ যভোবে দয়ো হয়ছে,ে তা থকেে জানা যায়, ঐদনি সকালে স্থানীয় পুলশি নারায়ণগঞ্জ র্মগান বালকিা বদ্যিালয়রে প্রধান শক্ষিয়ত্রিী মমতাজ বগেমকে চাষাড়াস্থ আন্দোলনরে কন্দ্রে ‘বায়তুল আমান’-এ মছিলি নয়িে যাওয়ার পথে গ্রফেতার কর।ে এর প্রতবিাদে র্মগান স্কুলরে ছাত্রীরা ক্লাশ র্বজন করে বরেয়িে আসে রাজপথে এবং ঘরোও করে রাজপথ। এ মছিলিে দশম শ্রণেীর ছাত্রী আয়শো জালালরে সঙ্গে সপ্তম শ্রণেীর ছাত্রী মণমিালাও যোগ দয়িছেলিনে। তনিি বাবুরাইল নবিাসী। তনিি পারবিারকি সূত্রে ঢাকায় গুলতিে আহত এক ব্যক্তরি রক্তাক্ত র্শাট নয়িে মছিলিে যোগ দলিে মছিলি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠ।ে সুধীজন পাঠাগার স¤প্রতি এ ভাষাসনৈকিকে সংর্বধনা প্রদান করছে।ে এ তথ্য পাওয়া যায় নারায়ণগঞ্জরে লখেক শাহদে আলী মজনু-র কাছ থকে।ে যাহোক, মমতাজ বগেমকে গ্রফেতাররে খবর পয়েে অন্যান্য শক্ষিা প্রতষ্ঠিানরে ছাত্রছাত্রীরাও ফটেে পড়ে বক্ষিোভ।ে তাঁরা মমতাজ বগেমরে মুক্তরি দাবতিে মছিলি বরে করনে। খবর পান রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরষিদরে নতোরাও। শ্রমকি নতো শফি হোসনে খান শল্পি এলাকায় খবর পাঠান। ছুটে আসে শ্রমকিরা। কয়কে ঘন্টার মধ্যে হাজার খানকে লোক র্কোট ঘরোও করে ফলে।ে বনিার্শতে শক্ষিয়ত্রিীর মুক্তি দাবি করনে এবং ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ ইত্যাদি ধ্বনি দতিে থাক।ে মহকুমা প্রশাসক ইমতয়িারজী তখন বাইরে এসে ছাত্র-জনতাকে বলনে য,ে মমতাজ বগেমকে স্কুলরে তহবলি তসরুফরে দায়ে গ্রফেতার করা হয়ছে,ে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনরে সাথে তাঁর গ্রফেতাররে কোনরূপ সর্ম্পক নইে। কন্তিু জনতা সে কথা বশ্বিাস না করে বলতে থাক,ে নারায়ণগঞ্জ রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনরে অন্যতম প্রধান র্কমী ছলিনে বলইে পুলশি তাঁকে গ্রফেতার করছে।ে সুতরাং তাঁকে বনিার্শতে মুক্তি না দলিে তাঁরা র্কোট প্রাঙ্গণ ছড়েে যাবে না। পুলশি তখন মৃদু লাঠচর্িাজ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ কর।ে১৪ পরস্থিতিি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় মহকুমা প্রশাসক মমতাজ বগেমকে ঢাকায় পাঠানোর সদ্ধিান্ত ননে। এ উদ্দশ্যেে পুলশি তাঁকে ভ্যানে তোলার চষ্টো করলে জনতা বাধা দয়ে, তাঁকে নয়িে শুরু হয় পুলশি-জনতার টানা-হঁেচড়া। বকিলেে পুলশি মসিসে মমতাজ বগেমকে নয়িে ঢাকা রওনা হলে জনতা চাষাড়া স্টশেনরে নকিটে তাদরে গমন পথে বাধা দয়ে। ইতোমধ্যে ইপআির চলে আসে ঘটনাস্থল।ে এসইে তারা নর্বিচিারে রাইফলেরে বাঁট দয়িে ছাত্র-জনতাকে পটোতে শুরু কর।ে তাদরে হাত থকেে ছাত্রী-মহলিারাও রহোই পায়ন।ি ঐদনি গ্রফেতার হন ছাত্রী ইলা বকশী ও বনেু ধর। নরিস্ত্র জনতা ইপআির-এর প্রতি ইট-পাটকলে নক্ষিপে কর।ে এভাবে প্রায় ঘন্টাব্যাপী জনতা-পুলশি-ইপআির সংর্ঘষ চল।ে এ র্পযায়ে ছাত্র-জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালরে দুজন ডাক্তার ঘটনাস্থলে গয়িে আহত ব্যক্তদিরে প্রাথমকি চকিৎিসা করনে এবং নয়জনরে আঘাত গুরুতর ববিচেতি হওয়ায় তাদরেকে হাসপাতালে প্ররেণ করনে। এই নয় ব্যক্তরি মধ্যে কোনো পুলশিরে লোক ছলি না। পুলশি পরে স্থানীয় এমএলএ ওসমান আলীর বাড়ি তলøাশি করে এবং ওসমান আলীসহ কয়কে ব্যক্তকিে গ্রফেতার কর।ে হাসপাতালে স্থানান্তরতি আহতরা হলনে : নজিামুদ্দনি ভূঁইয়া (২০), মোহাম্মদ রফকিুলøা (১৮), বশরি আহমদ (২৫), মোহাম্মদ ইউসুফ (২৫), সদুরুদ্দনি (১৭), আবদুস সাত্তার (১২), কফলিুদ্দনি (১২), মোহাম্মদ ইউসুফ (৩০) এবং অপর এক মূক-বধরি ব্যক্ত।ি আহত ব্যক্তদিরে মধ্যে মোহাম্মদ ইউসুফরে অবস্থা ছলি খুবই আশঙ্কাজনক।১৫
রাতে ঢাকা জলো ম্যাজস্ট্রিটে নারায়ণগঞ্জে এসে গ্রফেতারকৃতদরে ঢাকায় নয়িে যাওয়ার নর্দিশে দনে। ২৯ ফব্রেুয়ারি রাতে নারায়ণগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। রাতে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়। ভাষা আন্দোলনরে নতো-র্কমীদরে বাসায় হামলা চালানো হয়। নতো-র্কমীদরে গ্রফেতার করতে পুলশি বপেরোয়া হয়ে ওঠ।ে ঐ রাতে গ্রফেতার হন মোস্তফা সারোয়ার, শফি হোসনে খান, বনেু (ছাত্রী), কমরুদ্দনি, দবরি, ওসমান আলী, শামসুজ্জোহা, জামলি, লুৎফর রহমান, মোসলমেউদ্দনি প্রমুখ। নারায়ণগঞ্জে ৭ র্মাচ র্পযন্ত সান্ধ্য আইন বলবৎ থাক।ে
১ র্মাচ কারফউি চলাকালে নারায়ণগঞ্জরে কালরি বাজার এলাকায় টহল দওেয়ার সময় গুলবিদ্ধি হয়ে একজন পুলশি কনস্টবেল নহিত ও একজন আনসার আহত হয়। নহিত পুলশিরে নাম সয়ৈদ জোবায়দে এবং আনসাররে নাম খললি আহমদ। এ প্রসঙ্গে দনৈকি আজাদরে ২ র্মাচ সন্ধ্যায় একটি সংবাদ পরবিশেতি হয়। পত্রকিার ভাষ্যে জানা যায়, র্পূব বাংলা সরকার এ সর্ম্পকে দুঃখ প্রকাশ করে এক ইশতহোরে জানায় য,ে গুলি লাগার সঙ্গে সঙ্গইে কনস্টবেলরে মৃত্যু হয়। আনসারকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ বষিয়ে তদন্ত চালানো হয়। সরকার নহিত ব্যক্তরি শোক সন্তপ্ত পরবিার এবং আহত ব্যক্তরি প্রতি সমবদেনা জানায়। র্পূব বাংলার প্রধানমন্ত্রী নূরুল আমনি নহিত ব্যক্তরি শোকসন্তপ্ত পরবিারর্বগরে প্রতি এবং আহত ব্যক্তরি প্রতি সমবদেনা জ্ঞাপন করে জনগণকে প্রদশেে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতষ্ঠিায় সহায়তা করতে আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী এ সর্ম্পকে ঐদনি রাতে (১লা র্মাচ) ববিৃতি দনে, যা ২ র্মাচ দনৈকি আজাদে প্রকাশতি হয় গুলরি আঘাতে নারায়ণগঞ্জে পাহারারত একজন কনস্টবেল নহিত ও একজন আনসার অদ্যরাতে আহত করা হইয়াছে জানয়িা আমি ব্যথতি হইয়াছ।ি আমি এই নহিত ব্যক্তরি শোক সন্তপ্ত পরবিারর্বগরে প্রতি সমবদেনা জানাইতছে।ি মৃত্যুবরণ করয়িা কনস্টবেল র্কতব্যপরায়ণতার মহান দৃষ্টান্ত রাখয়িা গলে। আমার বশ্বিাস, তদৃষ্টে জনগণরে বশিৃঙ্খলার বরিুদ্ধে সংগ্রাম করার দৃঢ়তা আরও বৃদ্ধি পাইব।ে ভাষার প্রশ্নরে আবরণরে নীচে যে একটি রাষ্ট্রধ্বংসী কুপ্রয়াস চলয়িা আসয়িাছে তাহা ক্রমশঃ বাহরি হইয়া পড়তিছে।ে এমতাবস্থায় আমি সমুদয় পাকস্তিানীকে দশেরে বৃহত্তর র্স্বাথরে খাতরিে প্রদশেে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতষ্ঠিার কাজে সহায়তা করার আহ্বান জানাইতছে।ি
২ র্মাচ নহিতরে পরবিাররে জন্য দশ হাজার টাকা, আহতরে জন্যে দু’হাজার টাকা অনুদান ঘোষণা করা হয়। ১ র্মাচরে ঘটনাকে কন্দ্রে করে সরকার ব্যাপক ধরপাকড় শুরু কর।ে এছাড়া ২৯ ফব্রেুয়াররি ঘটনার জরেও অব্যাহত থাক।ে এ র্মমে দনৈকি আজাদ-এর ২ র্মাচ সংখ্যায় একটি খবর পরবিশেতি হয়। তাতে বলা হয়, মমতাজ বগেমরে গ্রফেতাররে সূত্রে ১ র্মাচ যে ঘটনা ঘট,ে তা সর্ম্পকে ২ র্মাচ র্পযন্ত দু’জন মহলিাসহ মোট ১১৪ ব্যক্তি গ্রফেতার হয়। শহররে অবস্থা শান্ত ছলি। গুরুত্বর্পূণ রাস্তাসমূহ এবং শহররে বাইরে চাষাড়া স্টশেন হতে পঞ্চবটি গ্রাম র্পযন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রোডে সশস্ত্র পুলশি পাহারা মোতায়নে করা হয়।
খবরে আরো বলা হয়, ঐদনি (২ র্মাচ) সকালে চাষাঢ়া স্টশেনরে নকিট জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলশিকে মৃদু লাঠচর্িাজ করতে হয়, ফলে ৬ ব্যক্তি সামান্য আহত হয়। পরে হাসপাতালে তাদরেকে প্রাথমকি চকিৎিসার পর ছড়েে দওেয়া হয়।১৭
গ্রফেতারকৃত নতো-র্কমীদরে নর্যিাতন চালানো হয়। ১৯৫২ সালরে ২৭ এপ্রলি ঢাকায় র্সবদলীয় সংগ্রাম পরষিদরে জাতীয় সম্মলেনে উত্থাপতি ২২ দফা প্রস্তাবে নারায়ণগঞ্জরে ঘটনার নরিপক্ষে তদন্তরে জন্য হাইর্কোটরে ২ জন বচিারপতি ও ২ জন জনপ্রতনিধিি সমন্বয়ে কমটিি গঠনরে দাবি জানানো হয়।১৮ পরে পুলশি রপর্িোট ও পোস্ট র্মটমে রপর্িোটে দখো যায়, পুলশি কনস্টবেলরে গায়ে বদ্ধি গুলরি র্মাকা ই.প.িআর বাহনিীর। এ হত্যা মামলায় আটককৃত নতো-র্কমীরা ভাষা আন্দোলনরে দড়ে-দু বছর পর একে একে জলে থকেে বরেয়িে আসনে।
ভারতর্বষে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন ও বদিশেি পণ্য র্বজনরে আহ্বানরে কারণে এ উপমহাদশেে বংিশ শতাব্দীর ত্রশিরে দশকে কছিু কল-কারখানা গড়ে উঠতে থাক।ে তার ঢউে নারায়ণগঞ্জওে এসে লাগ।ে এ কারণে নারায়ণগঞ্জরে গোদনাইল এলাকার পাশাপাশি ঢাকশ্বেরী কটন মলি, লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মলি, চত্তিরঞ্জন কটন মলি, লতফি বাওয়ানী মলি, ইস্পাহানী মলি, কাঞ্চন জুট মলি, আদমজী জুটমলি প্রভৃতি গড়ে উঠ।ে আর মলিরে অনবর্িায অনুষঙ্গ হসিবেে এখানে শ্রমকিরে প্রার্চুয দখেতে পাওয়া যায়। আর একই সময়ে সোভয়িতে রাশয়িায় শ্রমকি শ্রণেীর নতেৃত্বে বলশভেকি বপ্লিবরে সফলতায় এ এলাকায় শ্রমকি শ্রণেীর নতেৃত্বে বপ্লিব সম্পন্ন করার অভপ্রিায়ে শ্রমকিদরে রাজনতৈকি চতেনার মান উন্নীত করতে শ্রমকি আন্দোলনে হাতখেড়ি নতিে এখানে ছুটে আসনে কমরডে অনীল মুর্খাজী। তার শ্রমকি আন্দোলনরে হাতখেড়ি পুস্তকে তৎকালীন শ্রমকিদরে নয়িে নানাকাজরে ববিরণ খুব সুন্দরভাবে পাওয়া যায়। এভাবে শ্রমকিদরে চতেনার মান এখানে একটু উঁচুতারে বাঁধা ছলিো। এছাড়া, নারায়ণগঞ্জ একটি উলøেখযোগ্য নদী বন্দর বধিায় এখানে বড় ব্যবসা প্রতষ্ঠিান ও শল্পি-কারখানা গড়ে উঠছেলি। এর ফলে এখানে সামন্ত সমাজরে র্গভ থকেে উত্থতি হচ্ছলিো প্রাথমকি পুঁজি সংকলনকারী ব্যক্তর্বিগ। তঁদরে র্কমকান্ডে দখো দচ্ছিলিো প্রগতশিীল পটে-ির্বুজােয়া বা র্বুজােয়া আলোর ঝলিকি। সে ঝলিকিে হয়তো নারায়ণগঞ্জরে দগিন্ত পুরোটা আলোকতি হতে পারনেি কন্তিু যটেুকু পথরে দশিা সে দখেয়িছেলিো তা-ও বা কম কসি।ে
২.
ভাষা আন্দোলনরে প্রভাবে নারায়ণগঞ্জরে পত্র-পত্রকিা, সাহত্যি সংগঠন ও কৃষ্টি পত্রকিা
ভাষা আন্দোলনরে প্রভাবে রচতি হতে থাকা সাহত্যিরে ঢউে নারায়ণগঞ্জওে এসে লাগ।ে ১৯৫২ নালে ভাষা আন্দোলনরে পর নারায়ণগঞ্জে ১৯৫৩/৫৪ সালে স্থাপতি হয় নারায়ণগঞ্জ সাহত্যি মজলসি। এর সভাপতি ছলিনে ফজলে রাব্বি এবং সম্পাদক ছলিনে রজোউর রহমান। এ সংগঠন নয়িমতি সাহত্যি-সাংস্কৃতকি র্কমসূচি পালন কর।ে কছিুদনি সক্রয়ি থকেে সংগঠনটি বন্ধ হয়ে যায়।
১৯৫২ সালইে নারায়ণগঞ্জে গঠতি হয় র্পূব বাংলা লখেক সংঘ-এর নারায়ণগঞ্জ শাখা। এর সভাপতি ধীরন্দ্রে নাথ ভৌমকি এবং সম্পাদক এম এ হাফজি। ঢাকাস্থ কন্দ্রেীয় অফসিরে পক্ষে কনভনোর ছলিনে সরিাজুল হক। এই সংস্থা দুই বছর স্থায়ী ছলি। পরে পাক বাংলা সাহত্যি মজলসি-এ রূপান্তরতি হয়। এই সংস্থারও সভাপতি ছলিনে ধীরন্দ্রে নাথ ভৌমকি এবং সম্পাদক সরিাজুল হক।
পরর্বতীতে পাক বাংলা সাহত্যি মজলসি ভঙ্গেে পাক সাহত্যি চক্র গঠতি হয় এবং ১৯৭০ সাল র্পযন্ত সক্রয়িভাবে স্থায়ী হয়। এর সভাপতি ছলিনে ভূপষে ঘোষ ও সম্পাদক সরিাজুল হক। ভূপষে ঘোষরে মৃত্যুর পর এস এ হামদি এই সংস্থার সভাপতি হন। এই সংস্থা নারায়ণগঞ্জরে সাংস্কৃতকি র্কমে বশিষে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং নারায়ণগঞ্জ শহর থকেে কয়কে কলিোমটিার দূরর্বতী মলি এলাকায় র্পযন্ত অনুষ্ঠানাদরি আয়োজন কর।ে ১৯৬৯ সালে এই সংস্থার পক্ষ হতে বৃহদাকার কালরে পাতা সাহত্যি সংকলন প্রকাশতি হয়। এটি সুধী মহলে সমাদৃত হয়। এই সংস্থার অন্যতম সম্পাদক অসুস্থ হয়ে পড়লে সংস্থাটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তবে অনকে বছর পর এ শতাব্দীর প্রারম্ভে এ সংস্থার সম্পাদক সরিাজুল হক-এর ছলেে বশিষ্টি কবি মুজবিুল হক কবীর নতুন আঙ্গকিে কালরে পাতা নামইে সাহত্যি পত্রকিা প্রকাশ করে আসছনে।
১৯৫৯ সালে প্রতষ্ঠিতি হয়ছেলি সাহত্যি সংসদ। তারা নয়িমতি সাহত্যি সভা ও বভিন্নি দবিস পালন করতো।
১৯৬৪ সালে প্রতষ্ঠিতি হয় নারায়ণগঞ্জে এ যাবৎ প্রতষ্ঠিতি সাহত্যি সংগঠনগুলোর মধ্যে সবচয়েে আলোড়ন সৃষ্টকিারী ও প্রভাব বস্তিারী সাহত্যি সংগঠন সাহত্যি বতিান। এসময় সাহত্যি বতিানরে উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জরে প্রগতশিীল ও সৃজনশীল সাহত্যি ও সাংস্কৃতকি ধারার বকিাশ ঘট।ে প্রাণ প্রার্চুযে ভরপুর তরুণ সাংস্কৃতকি র্কমীদরে নঃির্স্বাথ ও অক্লান্ত পরশ্রিমে নারায়ণগঞ্জে সসেময় একটা সুস্থ ও আধুনকি সাংস্কৃতকি আবহাওয়া সৃষ্টি হয়। নয়িমতি সাহত্যি সভা, সাংস্কৃতকি অনুষ্ঠান, সাহত্যি প্রকাশনা ও প্রগতশিীল সাংস্কৃতকি দকিনর্দিশেনার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জরে সকল অঞ্চলরে তরুণ-তরুণীদরে মলিতি প্রয়াসে সাহত্যি বতিান দশেরে র্সবত্র আস্থা ও প্রশংসা লাভ কর।ে নারায়ণগঞ্জরে সকল অঞ্চলে র্পযায়ক্রমে শতাধকি আড়ম্বরর্পূণ সাহত্যি সভা, পহলো বশৈাখ, রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী, মাইকলে-বদ্যিাসাগর-জীবনানন্দ জয়ন্তী, একুশে ফব্রেুয়ারী ছাড়াও বভিন্নি সাংস্কৃতকি অনুষ্ঠান আয়োজন সাহত্যি বতিানকে খ্যাতরি শখিরে পৗেঁছায়। এ সময় অনুষ্ঠতি এ সকল অনুষ্ঠানে দশেরে বরণ্যে প্রবীণ-নবীন শল্পিী-সাহত্যিকিগণ অংশগ্রহণ করে অনুষ্ঠানসমূহরে র্মযাদা বৃদ্ধি করনে। এদরে মধ্যে উলøেখযোগ্য বশিষ্টি ব্যক্তত্বি হলনে ডা. কাজী মোতাহার হোসনে, শামসুর রাহমান, সয়ৈদ শামসুল হক, হায়াৎ মামুদ, জ্যোতপ্রিকাশ দত্ত, ডা. মনরিুজ্জামান, ডা. রফকিুল ইসলাম, হাসান হাফজিুর রহমান, শশাংক পাল, আবুল হাসান, ড. হুমায়ুন আজাদ, মালকো আজীম খান, খালদি হোসনে, সন্তোষ গুপ্ত, অঞ্জলী মুখোপাধ্যায়, লতফিা হলিালী, বগেম বজলুর রশদি, ফজলে নজিামী, শফকিুল ইসলাম, ওয়াহদিুল হক প্রমুখ।
সাহত্যি বতিানরে র্কমধারাকে কন্দ্রে করে তরুণ একদল কব-িসাহত্যিকি-সাংবাদকিরে আবর্ভিাব উলøেখযোগ্য। বশিষেতঃ ১৯৪৭ সালরে পর নারায়ণগঞ্জরে এই ক্ষত্রেে এতো উদ্দীপনা আগে দখো যায়নি এবং সাংস্কৃতকি ধারার আধুনকিায়ন ঘটে সাহত্যি বতিানরে মাধ্যম।ে সাহত্যি বতিানরে এ সময়ে বভিন্নি র্কমকান্ডকে যারা সক্রয়ি সহায়তা দান করনে তাদরে কয়কেজনরে নাম উলøেখরে দাবি রাখ।ে এরা হচ্ছনেÑ এম এ মান্নান, সলেমি সারোয়ার, আমজাদ হোসনে, শাহদে আলী মজনু, বুলবুল চৌধুরী, শরফুল আজজি, মুজবির রহমান বাদল, মমতাজ আহমদে, শমসরে আহমদে, হাববিুর রহমান খান, রফকিুল ইসলাম, মুহম্মদ শাহজাহান, মু. নূরউদ্দনি, মোঃ ওবায়দেউল্লাহ, মোসফকে আহমদে কমল (১), কাজী মাহমুদ জসীম, আঃ খালকে, শরীফ সারোয়ার, ফজলুল বারী, আহমদে শামসুদ্দনি, মোহাম্মদ ইসহাক, কফলিউদ্দনি আহমদে, কাইয়ুম চৌধুরী, সাগর ইবনে ইমাম, রনজৎি মজুমদার, আবুল কালাম আজাদ, হোসনে আরা, সুফয়িা নয়িামত, নাজমা রহমান, জাহদো বগেম শাম্মী, মাহফুজা বগেম, কাজী মহুয়া, মৃদুলা প্রমুখ।সমস্বর নামে সাহত্যি সংকলনরে দুটি সংখ্যা এ সংস্থা হতে প্রকাশতি হয়ছেলি।
১৯৬৪ পরর্বতীকালে সাহত্যি বতিানে আরও নবিদেতি প্রাণ সংস্কৃতসিবেীদরে সংযোগ ঘটে এবং সকলরে সম্মলিতি প্রয়াসে নারায়ণগঞ্জরে সংস্কৃতরি বকিাশ ঘট।ে এদরে মধ্যে আজজিুল হক, তমজিউদ্দনি রজিভী, আনোয়ার আশরাফ, মুহতিুল ইসলাম রনজু, শামসুল হক আলী নূর, রনজৎি নয়িোগী, শাহনি আমজাদ, করুণাময় গোস্বামী, ফয়জে আহমদে, মোঃ জাহাঙ্গীর, শফকিুল ইসলাম সনদ, শফি মাহমুদ, আঃ আউয়াল, মাসুদ আহমদে, কাজী মাহমুদ সলেমি, মফজিুল ইসলাম সারু, সোহরাব হোসনে, আনছার আলী, আঃ রহমান, শাহ তববিউল্লাহ, মীনা, ডইেজী, নূপুর, রশেমা, শামীমা, হোসনে আরা, রওশন রোখসানা, হমিাংশু কশিোর চক্রর্বতীর নামে উল্লখেযোগ্য।
ভাষা আন্দোলনরে তাৎর্পয ও বাংলা ভাষার সাহত্যি-সংস্কৃতকিে র্উধে তুলে ধরার জন্য সাহত্যি বতিানরে র্কমকান্ড নারায়ণগঞ্জে বশে প্রভাব সৃষ্টি কর।ে
১৯৬৯ সালরে গোড়ার দকিে উচ্চারণ সাহত্যি চক্র গঠতি হয়। ডা. মোহাম্মদ আবদুর রশদি ছলিনে এ সংগঠনরে প্রতষ্ঠিাতা সভাপত।ি সাহত্যি আলোচনা, সংকলন প্রকাশ ও মুক্ত সাংস্কৃতকি আন্দোলনে তাদরে সুন্দর ভূমকিা ছলি।
১৯৭৭ সালে নারায়ণগঞ্জ শহররে ওপারে বন্দর এলাকায় প্রতষ্ঠিতি হয় সাহত্যি ও সংস্কৃতি বষিয়ক প্রতষ্ঠিান অক্ষর ।অফসি আদালতে বাংলা প্রচলন : পরভিাষা ও পাঠাভ্যাস সমীক্ষার শরিোনামে একটি জরপি কাজ পরচিালনা ও প্রকাশনা ছলি এই সংগঠনরে উলøেখযোগ্য র্কাযক্রম। তাদরে দাবি অনুসারে এটি সরকারি বা বসেরকারি উদ্যোগে দশেে বাংলাভাষা প্রচলন বষিয়ক র্সবপ্রথম প্রকাশতি সমীক্ষণ। মহান ভাষা আন্দোলনরে স্মারক হসিবেে তারা একটি শহীদ র্কাড প্রকাশ করনে। এছাড়া নয়িমতি সাহত্যি সভা, সাহত্যি সংকলন প্রকাশ প্রভৃতি ছলি এদরে র্কমসূচরি অর্ন্তগত। এর প্রতষ্ঠিাতা ছলিনে ফজলুল বারী। সহযোগী হসিবেে ছলিনে রজোউল করমি বক্রিমপুরী, পয়িার আলী, বাকবিল্লিাহ, হালমি আজাদ, সামসুল আরফেনি, ইউসুফ আলী এটম, সুভাষ দবে, জান্নাতুল ফরেদৌস, বজলুর রায়হান, জালালউদ্দনি, মোয়াজ্জমে হোসনে সরকার, নজরুল ইসলাম মন্টিু প্রমুখ। উলøেখ থাকে য,ে ১৯৮০ সালে অক্ষর সংকলনে অমর হোক ৮ই ফাল্গুন শরিোনামে একটি কবতিা প্রকাশতি হতে দখো যায়। এতে ২১ শে ফব্রেুয়ারি তারখিরে সমান্তরালে ৮ই ফাল্গুন তারখিটি প্রতষ্ঠিা করার একটি প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়।
নারায়ণগঞ্জে বাংলাসাহত্যি ও সংস্কৃতকিে বকিাশ করার লক্ষ্যে স্বাধীনতার পরে ১৯৭৮ সালে সাহত্যি সংগঠন পলাশ ভূমকিা পালন কর।ে ছোট কাগজরে পত্রকিা ড্যাফোডলি ও আশরি দশকে নারায়ণগঞ্জরে সাহত্যি জগতকে সমৃদ্ধ করতে বশে গুরুত্বর্পূণ ভূমকিা পালন কর।ে
১৯৮১ সালে কতপিয় তরুণ সাহত্যি র্কমী প্রতষ্ঠিা করে প্যাপরিাস। এই সংগঠনরে উদ্যোগে ১৯৮৪ সালে স্থানীয় জয়িা হলে নারায়ণগঞ্জে প্রথম র্দশনীর বনিমিয়ে ছড়া পাঠরে আসর অনুষ্ঠতি হয়। এই সংগঠন প্রতষ্ঠিার সাথে যুক্ত ছলিনে খালদে হোসাইন, রহমতুল বারী, মহউিদ্দনি আকবর, শামীম আহমদ, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ উলøেখযোগ্য।
এছাড়া, বংিশ শতাব্দীর সত্তর দশকে নারায়ণগঞ্জরে ওয়াহদি রজো সম্পাদতি ও রফউির রাব্বরি প্রচ্ছদ অঙ্কতি শ্লোগান সাহত্যি পত্রকিাটি মুক্তধারা র্কতৃক প্রথম পুরস্কার র্অজন কর।ে আশরি দশকে নারায়ণগঞ্জ থকেে প্রকাশতি রফউির রাব্ব-ির সম্পাদনা ও প্রচ্ছদে ভূষতি আরকেটি যুদ্ধরে জন্য ছোটকাগজটি পরপর দুবার (১৯৮০ ও ১৯৮১) জাতীয়ভাবে চত্তিরঞ্জন সাহা-র মুক্তধারা র্কতৃক প্রচ্ছদ ও অঙ্গসজ্জার জন্য প্রথম পুরস্কার র্অজন কর।ে উল্লখে থাকে য,ে মুক্তধারা তখন জাতীয়ভাবে চারটি ক্ষত্রেে পুরস্কার প্রদান করতো এবং প্রতটিি ক্ষত্রেইে প্রথম, দ্বতিীয় ও তৃতীয় পুরস্কার প্রদান করতো। ১৯৮৩ সালে শাপলা সংকলনটওি জাতীয়ভাবে মুক্তধারা র্কতৃক পুরস্কৃত হয়। ১৯৮৪ সালে মাহবুব কামরান সম্পাদতি একটি ছোটকাগজও মুক্তধারা র্কতৃক পুরস্কৃত হয়। ১৯৮৫ সালে নরিঞ্জন রায় সম্পাদতি ও রফউির রাব্বরি প্রচ্ছদ অঙ্কতি ডাক দয়িে যায় সাহত্যি সংকলনটি পুরস্কৃত হয়। ১৯৮৬ সালে অশোক গুহ সম্পাদতি দারুচনিি নামরে ছোটকাগজটি মুক্তধারা র্কতৃক প্রথম পুরস্কার র্অজন কর।ে২২ এসব পুরস্কার নারায়ণগঞ্জরে সাহত্যিপ্রমেী ও ভাষাপ্রমেী তরুণদরে চলার পথে উৎসাহ সঞ্চার কর।ে নারায়ণগঞ্জরে মতো একটি মফস্বল শহর থকেে এভাবে পরপর কয়কেবার জাতীয় পুরস্কার র্অজন করায় বলা যায় নারায়ণগঞ্জে তখন সৃষ্টশিীলতার বান ডকেছেলি এবং তা জাতীয় মান র্অজন করছেলি।
ভাষা আন্দোলনরে প্রভাবে তৎপরর্বতীকালে নারায়ণগঞ্জে বভিন্নি সময়ে আরও যসেব সংকলন বা সাহত্যি পত্রকিা প্রকাশতি হয়ছে,ে যসেবরে নামইে ভাষা আন্দোলনরে প্রভাব বকিাশতি হয়ছে,ে সসেব হলোÑবদেনায় অবগাহী (সম্পাদক- শাহদে আলী মজনু, ১৯৬৯), অক্ষত পলাশ (সম্পাদক- কাজী শাহাদাত হোসনে, ১৯৭০), রক্ত পলাশ (সম্পাদক- এ.ক.েএম আবদুল মোতালবি, ফরদিা মহউিদ্দনি, ১৯৭০), রক্তাক্ত ফাল্গুন (সম্পাদক- হারাধন পোদ্দার, ১৯৭০), দুঃখনিী র্বণমালা (সম্পাদক- মোমতাজ হোসনে, ১৯৭০), যে ফাল্গুনে হারয়িে গছেে (সম্পাদনা- শহদিুর রহমান, ১৯৭১), ক্রন্দসী ফাল্গুন (সম্পাদক- ছালাম ঢালী, ১৯৭২), সুধী (সম্পাদক- মোহাম্মদ ইসহাক ও অন্যান্য, প্রতষ্ঠিার পর থকেে এ যাবৎ), বনফুল (সম্পাদকমন্ডলী, ১৯৮৫), দারুচনিি (সম্পাদকমন্ডলী, ১৯৮৪), প্রথম কদম ফুল (সম্পাদক- আমজাদ হোসনে, ১৯৭২), বদ্রিোহী বাংলা (সম্পাদক- জাফরউল্লাহ সকিদার, ১৯৭১), কৃষ্ণচূড়া (সম্পাদক- আক্তার হোসনে, ১৯৭২), একুশরে কৃষ্ণচূড়া (সম্পাদক- গৌরী রানী ধর, ১৯৭৩), বধিস্ত বাংলা (সম্পাদক- শরীফ হারুনুর রশদি, ১৯৭২), আহত ফাল্গুন (সম্পাদক- সয়ৈদউদ্দনি আহাম্মদ, ১৯৭১), মনোনীল মনহিার (সম্পাদক- মফজিুল ইসলাম সারু), (নীলোৎপল, সম্পাদক-মোশারফ হোসনে মাখন), র্সূযার্বত (সম্পাদক- আব্দুস সালাম খোকন) প্রমুখ।
ভাষা আন্দোলনরে ফলে বাংলা ভাষা নয়িে কাজ করার জন্য এখনও নারায়ণগঞ্জে বংিশ শতাব্দীর আশ-িনব্বই দশক থকেে সক্রয়ি আছে ড্যাফোডলি প্রগতি সাহত্যি সংসদ, ধাবমান সাহত্যি আন্দোলন, বন্দর এলাকার সাহত্যি বকিাশ আন্দোলন, বরিাং সাহত্যি আন্দোলন, নারায়ণগঞ্জ কবতিা পরষিদ, বাংলাদশে কবি পরষিদ, নারায়ণগঞ্জ শাখা, ছোটকাগজ শতদ্রু, ছোটকাগজ ওঙ্কার ইত্যাদ।ি
কৃষ্টি পত্রকিার কথা
ভাষা আন্দোলনে র্সবাধকি প্রভাব বস্তিারী সাহত্যি পত্রকিার মধ্যে কৃষ্টি উলøেখযোগ্য। ড. ইসরাইল খানরে সাময়কিপত্র : পাকস্তিান র্পব গ্রন্থ থকেে জানা যায়, এটি ভাষা আন্দোলনরে র্পূবইে ১৯৪৭ সালে নভম্বের (র্কাতকি) মাসে নারায়ণগঞ্জরে বন্দররে বজিলী প্রসে থকেে প্রকাশতি হয়ছেলি। এটি সম্পাদনা করছেলিনে সতিাংশু হালদারসহ চারজন। এটতিইে ড. মুহম্মদ এনামুল হক-এর র্পূব পাকস্তিানরে রাষ্ট্রভাষা বাংলা কনে? র্শীষক একটি উলøেখযোগ্য প্রবন্ধ প্রকাশতি হয়ছেলি। এতে তনিি বুদ্ধজিীবীদরে মধ্যে র্সবপ্রথম র্পূব পাকস্তিানরে ভাষা বাংলা না হইলে এটরি সূত্র ধরইে র্পূব বাংলা স্বাধীন হইয়া যাইবে বলে ভবষ্যিদ্বাণী করছেলিনে। ২৪ পরর্বতীতে যটেি অক্ষরে অক্ষরে ফলে গয়িছেলি। কন্তিু নারায়ণগঞ্জরে সাংস্কৃতকি ব্যক্তত্বি রফউির রাব্বি ও এম. আর. মাহবুব সম্পাদতি ভাষাসংগ্রামী মমতাজ বগেম স্মারকগ্রন্থে তাঁর ভাষাসনৈকি মমতাজ বগেম ও নারায়ণগঞ্জরে ভাষা-আন্দোলন র্শীষক প্রবন্ধে বরশিালরে এক ভাষাসনৈকি মোশারফ হোসনে নান্নুর স্মৃতচিারণরে উপর ভত্তিি করে সম্ভবত ঐ পত্রকিাটরি নাম স্ফলঙ্গি বলে জানাচ্ছনে। কন্তিু গবষেণায় দখো গছেে এটরি নাম হবে কৃষ্টি । আশা করছ,ি সত্যরে আতশকাঁচে ফলেে ইতহিাসরে মনোযোগী শক্ষর্িাথীরা একদনি সঠকি তথ্য ঠকিই বরে করে আনব।ে
৩.
মমতাজ বগেম : এক অনন্যসাধারণ বপ্লিবীর নাম
নারায়ণগঞ্জে ভাষা আন্দোলনে মমতাজ বগেম এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করছেলিনে। তখনকার রক্ষণশীল সমাজে একজন বয়স্ক নারীরই যখোনে রাস্তায় বরে হওয়া ছলি কঠনি ব্যাপার, সখোনে তনিি যৌবন বয়সইে নজিে আন্দোলনে সম্পৃক্ত তো হয়ছেলিনেই, অধকিন্তু তাঁর স্কুলরে সমস্ত ছাত্রীদরেও তনিি এ আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে পরেছেলিনে। নারায়ণগঞ্জরে ভাষাসনৈকি গফুর চৌধুরী জানাচ্ছনে, নারায়ণগঞ্জরে কোনো আন্দোলনে মমতাজ বগেমই র্সবপ্রথম অগ্রণী ভূমকিা পালন করছেলিনে। কাজইে মমতাজ বগেমরে বপ্লিবী জীবন নারায়ণগঞ্জরে নারী আন্দোলনরেও এক উজ্জ্বল অধ্যায়।
২১ ফব্রেুয়াররি মছিলিে তনিি ছাত্রীদরে নয়িে অংশগ্রহণ করছেনে। এমনকি ২২, ২৩ ফব্রেুয়ারি থকেে সপ্তাহজুড়ে যে সমস্ত র্কমসূচি ছলি তনিি প্রত্যকেটতিে ছাত্রীদরে নয়িে অংশগ্রহণ করছেনে। তনিি আদমজীর শ্রমকিসহ ভাষা আন্দোলনরে নতেৃবৃন্দরে সাথে ঘনষ্ঠি যোগাযোগ রাখার ব্যবস্থা করছেনে। ১৯৫২ সালটি ছলি লীপ-ইয়াররে বছর। তাই এ বছররে ফব্রেুয়ারি মাস ছলি ২৯ দনিরে। নারায়ণগঞ্জরে ভাষা আন্দোলনে নারীদরে অংশগ্রহণে মুসলমি লীগ সরকার ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ২৯ ফব্রেুয়ারি তৎকালীন ভাষা আন্দোলনরে কন্দ্রে বায়তুল আমান-এ যাওয়ার পথে তাঁকে গ্রফেতার করলে নারায়ণগঞ্জ শহর উত্তপ্ত হয়ে ওঠ।ে নারায়ণগঞ্জরে র্সবস্তররে হাজার হাজার জনতা, স্কুল-কলজেরে ছাত্র-ছাত্রী, আদমজী পাটকলরে শ্রমকিরো এ গ্রফেতাররে প্রতবিাদে তাঁর মুক্তরি দাবি করে র্দুবার আন্দোলন গড়ে তোল।ে সরকার একা তাঁকে গ্রফেতার করতে গয়িে ঢাকা থকেে বশিষে রজর্িাভ বাহনিী নয়িে এসে আন্দোলনরত প্রায় দড়েশত লোককে বন্দী করে ঢাকা কন্দ্রেীয় কারাগারে নক্ষিপে কর।ে তারপরও আন্দোলন দমাতে না পরেে র্মাচ মাসরে প্রথম সপ্তাহে সরকার অর্ন্তঘাতমূলক কাজ হসিবেে পুলশিরে এক কনস্টবেলকে গুপ্তঘাতকরে মাধ্যমে গুলি করে হত্যা কর।ে একজন আনসার সদস্যকে আহত কর।ে
মমতাজ বগেম বন্দীদরে নর্মিম অত্যাচাররে প্রতবিাদে জলেখানায়ও অনশনরে মাধ্যমে আন্দোলন অব্যাহত রাখনে। এমনকি সরকাররে প্ররোচনায় তাঁর স্বামী আব্দুল মান্নাফ মুচলকোর মাধ্যমে তাঁকে মুক্ত করতে পরার্মশ দলিে তনিি ঘৃণাভরে তা প্রত্যাখ্যান করনে। এক র্পযায়ে স্বামী তাঁকে তালাক দয়োর হুমকি দলিওে তনিি নতি স্বীকার করনেন।ি দড়ে বছর জলে খটেে তনিি সবার পরে জলে থকেে বরে হতে পারনে। এ সময়ে তাঁর স্কুলরে চাকুরটিওি চলে যায়। ইতমিধ্যে স্বামীও তাঁকে তালাক দয়ে। তনিি র্আথকি কষ্টে পড়নে। তবু অন্যায়রে কাছে মাথা নত করনেন।ি
মমতাজ বগেমকে গ্রফেতার স¤র্পকে রাজনীতবিদি ভাষাসংগ্রামী অলি আহাদ বলছেনে, অধুনা পথঘোটে অগ্নকিন্যা দাবি ভূষতি বহু নত্রেীর নাম শোনা যায়; কন্তিু তাঁরা কউে কি মসিসে মমতাজ বগেমরে ন্যায় অগ্নি অতক্রিম করে জনতার চতেনায় স্বামী ত্যাগ ও র্কমােদ্যম দ্বারা এবং জানমাল ইজ্জতরে র্পূণ ঝুঁকি নয়িে আন্দোলনরে আগুন ছড়াতে কখনও সক্ষম হয়ছেলি? ২৫ ঢাকায় জাতীয় আন্দোলনওে তখন ভাষা আন্দোলনরে নতেৃবৃন্দরে মধ্যে এমন দৃঢ় মনোভাবরে সন্ধান পাওয়া যায়ন।ি কনে জান,ি ভাষা আন্দোলনরে জাতীয় নতেৃবৃন্দও তাঁর যথাযথ র্মযাদা প্রদান করনে।ি এক র্পযায়ে শষে বয়সে তাঁকে কর্পদকশূন্য হয়ে নীরবে নভিৃতে মৃত্যুবরণ করতে হয়ছে।ে
তাঁর পতিা রায় বাহাদুর মহমিচন্দ্র রায় কোলকাতা হাইর্কোটরে একজন বচিারক ছলিনে। কন্তিু পতিা তাঁকে কন্যা হসিবেে উত্তরাধকিারীর র্মযাদা না দয়িে একজন দত্তক পুত্রকে উত্তরাধকিারী মনোনীত করলে তনিি পতিার সাথে সর্ম্পক ছদে করনে। এ প্রতবিাদী ভূমকিা তনিি আজীবন লালন করছেনে। আসলে তাঁর প্রতবিাদী জীবনকে পতিার সম্পত্ততিে কন্যার অধকিার বষিয়ক চপটোঘাত হসিবেওে আখ্যায়তি করা যায়। জন্মছেলিনে ১৯২৩ সালরে ২০ ম;ে ৫৭ শবিপুর, হাওড়া, কোলকাতায়। তখন নাম ছলি কল্যাণী রায় চৌধুরী, ডাক নাম মনিু। তাঁর মামা ছলিনে বশিষ্টি সাহত্যিকি প্রমথনাথ বশি।ি মা মাখনমতি দবেী ছলিনে শক্ষিক। শশৈবে একটি প্রগতশিীল উদার পরবিশেে লালতি-পালতি হয়ছেলিনে বধিায় তনিি র্ধমীয় কূপমন্ডুকতার আবদ্ধ না থকেে নজি শশৈব র্ধম ত্যাগ করে প্রমেরে মহমিায় একজন মুসলমানকে বয়িে করতওে দ্বধিা করনেন।ি এই প্রতবিাদী চতেনার ধারায় সক্তি হয়ে তনিি পরণিত বয়সে কমউিনস্টিদরে সাথে সংযোগ রক্ষা করে চলছেনে। উলøেখ থাকে য,ে পাকস্তিান আমলে কমউিনস্টি র্পাটি নষিদ্ধি ছলি বধিায় তাদরে গোপনে কাজ করতে হতো। এই কমউিনস্টি বপ্লিবীদরে সাথে তনিি আদমজী মলিরে পাটকল শ্রমকিদরে মাঝওে কাজ করছেনে। ২৬ প্ররেণা পয়েছেনে এই বপ্লিবীদরে থকেওে । কন্তিু বাংলাভাষার আন্দোলন করতে গয়িে কারাবরণ করায় প্রমে করে বয়ি-েকরা স্বামীও তাঁকে ভুল বুঝছে।ে জলে থকেে বরেয়িে তনিি প্রচন্ড র্আথকি কষ্টে ভুগনে। যাঁদরে পাশে থকেে তনিি আন্দোলনে ঝাঁপয়িে পড়ার মনোবল পয়েছেলিনে, জলে থকেে বরেোনোর পর তাঁদরে কাছ থকেে সইে পরমিাণ সাদর অর্ভ্যথনা না পাওয়ায় তনিি ধীরে ধীরে দৃশ্যপট থকেে হারয়িে যান। ১৯৬৭ সালরে ৩০ র্মাচ তনিি নীরবে মৃত্যুবরণ করনে। পত্রকিার পাতায় এ মৃত্যুসংবাদ প্রকাশতি হয়ন।ি কোথাও কোনো শোকসভা অনুষ্ঠতি হয়ন।ি একমাত্র কন্যা সাহানা বগেম খুকুই শুধু মায়রে স্মৃতকিে আঁকড়ে ধরছেলিনে। তনিি তার মাকে একজন স্নহেময়ী মা হসিবেে উলøেখ করছেনে। এই ময়েরে উদ্যোগইে ভাষাসংগ্রামী মমতাজ বগেম স্মারকগ্রন্থটি প্রকাশতি হতে পরেছেলি। এ স্মারকগ্রন্থ প্রকাশকালে তাঁর ছবরি প্রয়োজনীয়তা দখো দলিে নারায়ণগঞ্জরে শ্রুতি সাংস্কৃতকি একাডমেীর র্বতমান সভাপতি আবদুর রহমান অনকে কষ্টে মমতাজ বগেমরে এম.এড ব্যাচরে ছাত্রীদরে সহযোগতিায় একটি গ্রুপ ছবি জোগাড় করে দয়িছেলিনে। মমতাজ বগেমরে আর কোন ছবি পাওয়া যায়ন।ি এ গ্রুপ ছবি থকেে বড় করে কছিুটা অস্পষ্ট যে ছবি স্মারকগ্রন্থে প্রকাশতি হয়ছেে সটেইি মহয়িসী মমতাজ বগেমরে একমাত্র ছব।ি এ গ্রন্থটি প্রকাশরে সূত্র ধরে অবশষেে সরকার তাঁকে ২০১২ সালে রাষ্ট্রীয় র্সবােচ্চ সম্মান মরণোত্তর একুশে পদক এ ভূষতি করছে।ে নারায়ণগঞ্জবাসী তাঁর স্মৃতি স্মরণে ভাষাসংগ্রামী মমতাজ বগেম নামে র্মগ্যান স্কুলরে পাশরে রাস্তাটরি নামকরণ করছে।ে নারায়ণগঞ্জবাসী এরকম একজন ভাষাসনৈকিরে জন্ম দতিে পরেে র্গব বোধ করছ।ে তাঁর পথ ধরে আরও অনকে সংগ্রামীর জন্ম এ মাটি থকেে হবে নশ্চিয়ই।
৪.
তাঁকে নয়িে নাটক রচতি হতে পারতো, জীবনীগ্রন্থ প্রকাশতি হতে পারতো। তাঁর জীবনীর উপর ভত্তিি করে ডকুমন্টোরি বা চলচ্চত্রি নর্মিতি হতে পারতো। নদিনেপক্ষে কবতিা বা গল্প রচতি হতে পারতো। কউে কউে হয়তো তা করছেওে। কন্তিু আমাদরে সংরক্ষনহীন মনোভাবরে কারণে তা সঠকিভাবে প্রামাণ্যীকরণ হয়ন।ি হয়তো ভবষ্যিতরে কোনো গবষেক তাঁকে নয়িে কি কি লখো তখন প্রকাশতি হয়ছেলি তা তুলে আনব।ে র্বতমান নারায়ণগঞ্জ কন্দ্রেীয় পৌর শহদি মনিারও একটি আন্দোলনরে ফসল। নারায়ণগঞ্জরে সংস্কৃতর্কিমীরা সটেি আন্দোলন করে আদায় করে নয়িছেলিনে। পরোক্ষভাবে সটেি উত্তরসূরী হসিবেে মমতাজ বগেমরে আন্দোলনরেই ধারাবাহকিতা বলা যতেে পার।ে সে শহদি মনিারে একদনি হাজারো জনতার উপস্থতিতিে ভাষাসনোনী মমতাজ বগেমরে যথাযথ মূল্যায়ন করা হবÑে এ আশা করছ।ি সে মূল্যায়ন থকেে জনতা ভাষা আন্দোলনরেই পরণিত রূপ যে মুক্তযিুদ্ধ সটেি স্বীকার করব।ে আর সে মুক্তযিুদ্ধরে অসমাপ্ত কাজকে এগয়িে নয়োর ব্রতকে হৃদয়ে ধারণ করব।ে অসমাপ্ত এ কাজকে এগয়িে নয়োর এ সন্ধক্ষিণে মমতাজ বগেম-এর মতো মানুষ খুব দরকার, খুবই দরকার।
তথ্যসূত্র :
১. ভাষা আন্দোলনরে আঞ্চলকি ইতহিাস- সম্পাদনা- আবু মোহাম্মদ দলেোয়ার হোসনে (রুমন রজোর প্রবন্ধ)
২. ঐ
৩. নারায়ণগঞ্জরে সাংস্কৃতকি সংগঠন ‘উন্মষে’ প্রদত্ত ভাষাসনৈকিদরে সম্মাননা উপলক্ষে প্রকাশতি আর্বতন সংকলন থকেে
৪. ঐ
৫. যে আগুন ছড়য়িে গলে সবখানÑে নূরুল ইসলাম (পৃ. ২৫৯)
৬. ঐ
৭. ভাষা-আন্দোলন : ইতহিাস ও উত্তরপ্রভাব Ñ আহমদ রফকি (পৃ. ৩০০)
৮. ঐ
৯. ভাষা আন্দোলনরে আঞ্চলকি ইতহিাস- সম্পাদনা- আবু মোহাম্মদ দলেোয়ার হোসনে (রুমন রজোর প্রবন্ধ)
১০. ভাষা আন্দোলন : ইতহিাস ও তাৎর্পযÑ আবদুল মতনি. আহমদ রফকি
১১. ভাষা আন্দোলনরে আঞ্চলকি ইতহিাস- সম্পাদনা- আবু মোহাম্মদ দলেোয়ার হোসনে (রুমন রজোর প্রবন্ধ)
১২. ঐ
১৩. চোখরে দখো প্রাণরে কথা গ্রন্থরে লখেক শাহদে আলী মজনু’র সাক্ষাৎকার
১৪. ভাষা আন্দোলনরে ইতহিাসÑবশীর আল হলোল (পৃ. ৫১১)
১৫. ভাষা-আন্দোলন : ইতহিাস ও উত্তরপ্রভাব Ñ আহমদ রফকি (পৃ. ২৯৯)
১৬. ভাষা আন্দোলনরে আঞ্চলকি ইতহিাস- সম্পাদনা- আবু মোহাম্মদ দলেোয়ার হোসনে (রুমন রজোর প্রবন্ধ)
১৭. ঐ
১৮. র্পূব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি Ñ বদরুদ্দীন উমর (পৃ. ৩১৬)
১৯. সাক্ষাৎকারÑ কবি মুজবিুল হক কবীর
২০. নারায়ণগঞ্জরে ইতহিাসÑ সম্পাদনা পরষিদ, সুধীজন পাঠাগার র্কতৃক প্রকাশতি, ১৯৮৫
২১. সাক্ষাৎকার Ñ কবি বজলুর রায়হান
২২. সাক্ষাৎকার Ñ রফউির রাব্বি
২৩. নারায়ণগঞ্জরে ইতহিাসÑ সম্পাদনা পরষিদ, সুধীজন পাঠাগার র্কতৃক প্রকাশতি, ১৯৮৫
২৪. সাময়কিপত্র : পাকস্তিানর্পব Ñ ড. ইসরাইল খান
২৫. ভাষাসংগ্রামী মমতাজ বগেমÑ সম্পাদনা : এম.আর. মাহবুব
২৬. ভাষাসংগ্রামী মমতাজ বগেমÑ সম্পাদনা : এম.আর. মাহবুব
২৭. সাক্ষাৎকারÑ আবদুর রহমান
রনজতি কুমার : সমন্বয়কারী, শক্ষিা র্কমসূচ,ি মুক্তযিুদ্ধ জাদুঘর, ঢাকা





দাদা এক জন অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। মানুষ তৈরির কারিগর দাদার অন্যতম সৃষ্টি এই ধাবমান। জার সবচেয়ে বড় প্রমান ধাবমান এর এত এত নির্লোভ ও নিবেদিত প্রান কর্মীদের একত্রে চলা যা সত্যি আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রেক্ষাপট এ বিরল।
রনজিত দার প্রতি স্রদ্ধা। ধাবমান কে শুভেচ্ছা।
অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকুন। সমর্থন করুন