অসংখ্য মুখ
কাশ ফুলের মতো একটা বিলীন গন্ধ ভেসে আসে
মনের আকাশে আজ এই হালকা মেঘ ছায়া দিনে
শরৎ প্রান্তরে বসে কারো কোনো কথাই মনে পড়ে না
তবু অসংখ্য মুখ এসে ভিড় করে এই স্মৃতির দুয়ারে
এ আমার কিসের প্রাপ্তি হে নির্মল নীল আকাশ
কেন বা ঈর্ষা ভুলে আমি আজ একান্ত মেটে সাপ
বলো ফুল বলো আকাশ দূরের উড়ে যাওয়া মেঘ
বলো কি হেতু কি কারণে দুলে উঠে সমস্ত আবেগ!
চিয়ার্স চিয়ার্স
আসুন আমার সুবেশি বন্ধুগণ আজ এই সান্ধ আসরে আপনারা আমার মহামান্য অতিথি পানশালার প্রস্তুতি
শেষ হয়ে গেছে অনেক আগে – অপেক্ষা আপনাদের
পায়ে পায়ে চলে আসুন দিদি সোজা এই দিকে। আপনার ঐ
নীল শাড়িতে কি যে ভালো লাগছে! জানেন তো এখন প্রায় প্রতি রাতে গাজায় মেয়েরা সাজে টকটকে লাল শাড়িতে
আসুন প্রিয় বন্ধু ভ্রাতা ভগ্নিগণ আমাদের ধমনীতে শেষ রক্ত
প্রবাহ থেমে যাওয়ার আগে মিলিত কন্ঠে বলি চিয়ার্স,
চিয়ার্স।
চিতাভস্ম
ডাঙ্গায় তোলা মাছের মতো তড়পাচ্ছে সময়
কখন যে চলে যায় সকল আয়োজন সম্পন্ন
হয়ে আছে – এই উঠে যাবে সাজানো চিতায়
প্রাণ বায়ু বেরোবে সহসা সেই প্রত্যাশায় বসে
থাকি গুটিশুটি এখনো আগুন জ্বলেনি চিতায়।
কথারা বড়ো হবে
কথারা বড়ো হবে উর্বর মস্তিষ্কের শানিত চিন্তারা
নিজস্ব পরিচর্যা শেষে সটান এসেই দাঁড়িয়ে যাবে
রাজপথে গলির মোড়ে তখন হাতে হাতে প্লা কার্ড
ফেস্টুন প্রায় একটা মিছিলের উৎসব নগর গ্রামে
এসব শুরুর ইতিহাস আছে মেধাবী কথারা বড়ো
হতে হতে বহুবার দাঁড়িয়ে ছিলো সঘন অন্ধকারে।
মহামান্য
মহামান্য হওয়ার আয়োজন চলছে
আসুন বসে যান পংতিতে পংতিতে
একে একে আছেন যতো অভ্যাগত
পশ্চাত মুখিন যারা তারাও সুস্বাগত
এ গরীবের ভান্ডারে নিবেদন সামান্য
পংতিতে বসে গেলে নিশ্চিত মহামান।
বিরূপ সময়
কতই ফোটে ফুল গাছে গাছে ফল আর ধরে না
ঋতুর পর ঋতু চলে যায় ফল ফলে না
মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ফুলের বাসনা
বিরূপ সময় ভুলে গেছে পথ মধুকর
হতাশ পশু পাখি সব ক্ষুধার্ত সকল উদর
কোথাও উড়ে না প্রজাপতি নেই মুগ্ধ যাদুকর।
জন্মভূমি
চির সবুজ একটা গ্রহের আরো বেশি সবুজে ঘেরা ঝাউতলী নামের সুশীতল গ্রামে আমার জন্ম। ফলে
আমি শ্যামল শোভাময় তেমন কিছু চাইতেই পারি
আমি আমার প্রাণময় সবুজ গ্রামকে রক্ষা করতে
চাই এবং তা প্রবল ভাবেই চাই এই দেবদারু বন ও বৃক্ষরাজি কিন্তু ডাকাতেরা তা কিছুতেই হতে দেবে না
বলুন মহারাজ একবিংশ শতাব্দীর মহামানব
আপনি বলুন এ কি নয় ঘোরতর কলিকাল – নয়
দুর্বলের প্রতি সবলের চিরকালীন সমান অত্যাচার
কবি না হয়ে আমি যদি কোনো মরুময় রাজ্যে জন্ম গ্রহণ করতাম – তবেই না হয় হয়ে উঠতাম প্রবলতর সহিংস আমিও তো এই বাংলার
চিরসবুজ শ্যামল গায়ে ভূমিষ্ঠ।
একটি খসড়া প্রেমের কবিত
ভাঙ্গার শব্দ মড়মড় হয় বটে
চুকচুক শব্দ কিন্তু ঠিক
বিড়ালের দুধ খাওয়ার
তাছাড়া এমন চুক্ চুক্ শব্দ
আরো কোথাও কোথাও হয়
হতে পারে – নিতান্ত সঠিক
আর এসব কথা তো খুব বেশি
বইয়ে লেখা থাকে না আমিই বা
কি করে জানবো সব অজানারে
আপনারা জানেন তো ভালো
না জানলে জিজ্ঞেস করুন ওই
সদা হাস্যের কুমারী কিশোরীকে
সম্ভবত সেই কিছু একটা লুকাচ্ছে…





কমেন্ট করুনঃ