অপমৃত্যু
গতকালও আমি সংবাদকর্মী ছিলাম
আমার চোখ লাল ছিলো
স্তব্ধতার ভেতর থেকে বের হয়ে আসা এক
একটা শব্দে বুনে দিয়েছি সত্য-মিথ্যার গল্প
ছত্রভঙ্গ মিছিল, প্রেমিকার ছেড়ে যাওয়া ঠোঁট
এসব লিখতে লিখতে গলিত সবুজের সঙ্গে
আড়ি হয়ে গেছে কবে
তবু কেন এমন লাগে
নদী এবং নীলের ভেতর খুঁজে পাই আমার আয়ুকাল
এবং
ভবিষ্যতের অতীত
আবোল-তাবোল ০১
যা দেখছো, আমি নই
যা ভাবছো, অর্ধসত্য
যেভাবে কখনো ভাবোনি…
দুটি মিথ্যাসত্যের চালাচালিতে
হঠাৎ সত্যের আবির্ভাব হয়
সায়ানাইডে ঘাড় থেকে
ঝরে গেছে এক ভূত
বিশ্বাসে, না ভুল বিষে?
লতারা জানে কোথায় জীবন, কোনটা আহরণ
আমি আর বৃক্ষ কৌতূহল ভরে সেই খেলা দেখি
ছিন্ন হৃদয় ছড়িয়ে গেছে বহু ভবনে
ইমারত আইন খুঁজতে খুঁজতে দেখি
মন ছাড়া অবাঞ্ছিত সব
হঠাৎ দেখি কথার মাঝে আমরা নেই
উলট-পালট দৃশ্যগুলো আমির বুকে গোত্তা মারে
নেই চুম্বন, নেই স্পর্শ
তবু তুমি এক নাম
জ্বলজ্বল করো ঘুমের গভীরেও
আর আমি কুড়াই বিষাদিত সব
না জিতলে তুমি, না আমি
জিতলেন যিনি, তিনি এসবের কিছুই জানেন না
আবোল-তাবোল ০২
জ¦লে ওঠা রোদ
কাঁটা হয়ে বিঁধে আছে
তোমার ঘাম ঠোঁটে
ঘুমন্ত সুন্দর তুমি, তবুও
সরলতা হারাও তার বুকে
তুমি যা জানো, জানে না কেউ
জানো না যা, আমি ছাড়া জানে না অন্য
কোন কারণ নেই হৃদয়ের পরিমাপের
তোমার দ্বারে দ্বারে
তবুও বাড়ছে ক্রমশ হৃৎপিন্ডের বানান
এখনও
আগের মতোন…
হাতের মধ্যে নেই শুধু
স্মৃতির মতো সতেজ পুরনো সেই আঙ্গুল
একদিন…
আভিভূত এক সকাল জেগে উঠলে
হঠাৎই বিষ্ময়ে ঘোরমাখা চোখে দেখি
খোলা চুল, চুল খোলা হাস্যোজ্জ্বল পরিচিত
কপালে টিপ, হালকা প্রসাধনী সেই আগের মতোন
হাত বাড়াই, বাড়ে না কিছুই
সুযোগ টেনে টেনে- বেরসিক জেনারেটরে মেলায় সব টান
জানো তো, সব আলো মেলায় না, কিছু কিছু দূরত্বও টানে
সম্পর্ক
সম্পর্ক এক লোভের নাম
লোভে নাকি পাপ হয়
কেউ বুঝে পাপী হয়, কেউ অন্য
অব্যর্থ পাখির কাছে যতই কাকলি করি
শোনে না তবু, তবু বধির ঠিকানাহীন পাঠক
নিরুপায় বাতাসে হাত মেলায়
বাতাস কাঁদেঁ, হাসে, শূন্যে মিলায়
মিলায় না কিছুই
না প্রেম, না ক্ষুধা, জানাশোনা কাঁটা।
দীর্ঘকালের মতো ঠায় দাঁড়িয়ে
চিরস্থায়ী হাসো
ক্ষত নিয়ে স্তব্ধ পাপী আমি।
যার যা দায়
পথের দূরত্ব গুণতে কোনোদিন একসঙ্গে
চলেছে তোমার আমার পা, অথচ দেখো
এখন তোমার ম্যাপ পকেটে নিশ্চিত
করে চলাফেরা করতে হয়
তবুও তুমি আসো, ঘুমাও প্রসঙ্গবিহীন
মৃত্যুর আগে পিপাসা পাওয়ার মতো করুণ
অপেক্ষায় খরচ হয় আমার দিন





কমেন্ট করুনঃ