দুটি অ-কবিতা
১.
মৌসুমি রোদের নির্জনতা খুন করে হুহু বুকের মধ্যেবিষাদ বাজায় ঘুঘুপইখ, ওসব নাকি দলীয়করণ।কয়েকপ্রস্থ কর্পোরেট দেয়ালিকা ছিঁড়ে কার সাথে বসবো একটি বিকেলকার শুদ্ধ ডাকনাম হৃদয়ের রাষ্ট্র নায়ক?
বায়োজাপ্ত হলে সুষম স্বপ্নলোক পার্লামেন্টের বাজেট শেষে যেকোন রাতে কুরিয়েনেয়া যায় শরীরী প্রেসনোট— নোনাস্বাদ!
২.
প্রতিশ্রুতিপত্র জমা হয়অনাবাদী জমির শরীরে ফাঁপে অনাবৃষ্টি ধারালো পৃথিবী কেটে কেটে আমাদের আঘাত করলেকেউ কেউ খুব সহজাতভাবেনিজেকে নিঃশেষ করে অবিকল কর্পুরের মতোএকটি ঘুণপোকা চুপচাপ স্তব্ধ জলচোখে ঘুমায়।
বেঁচে থাকা আর ভালো থাকার ফারাক খুঁজতেখুঁজতে পূর্ণিমা লেগে আসেদ্বিতীয় চোখ ভাবে ‘ব্যক্তিগত’ কিছু নেইগাছ হবার স্বপ্ন, ঘুমের ক্যাসেট, নষ্টস্মৃতি.. পেটেভাতে সহজ বলে ওরা ভালো থাকেওদের ভালো থাকা দেখে—স্টেশনকে ‘কেমন আছো’ জিজ্ঞেস করা হয়নি আর।
কদমফুলবর্ষার বিয়ে। পাত্রপক্ষের দাবি মেয়ে জ্যোৎস্নাফুলকিন্তু ঘরকানা। পুরুষমানুষ— অত রঙঢঙ না হলেওদিব্যি মাসাল্লাহ। অতএব, বৃদ্ধ বাবার বৃদ্ধকালনিলামে তুলে বিক্রি হবে বৃদ্ধাঙ্গুল। মেয়েমানুষ—জন্মের পাপ! ভোরবেলা জানলা ভেঙে দেখা গেলমেঝেতে কালো কালো কদম ফুটে আছে!
চিঠি চিতার আগুনভালো আছো নীল?একটা মুখস্ত উত্তর,জানি। তারপর বরফগলা চোখ, মাথার মগজে গাঁথা সহস্র চুপচাপ কিছু চিৎকারআর ছিঁড়ে যাওয়া হৃৎপিণ্ড সেলাই করতে করতে দুদিকেই বিচ্ছিন্ন হয় মুঠোফোনের অদৃশ্য তার.. মেঘ জানে না চৈত্রবাহার কোথায় কেমন কোনখানেচিঠি মানেই চিতার আগুন মন জানে!
চুমুকপাটের ওপাশে কট্টর রোদ। বাতাসের নিমন্ত্রণেজানালায় বৃষ্টি। বারান্দায় গৃহকর্তার ঠোঁটে ঘরনিরতুমুল তুফান— সমূহ তচনচ। এই দৃশ্যে যুগলমাছপাখি হয়ে যাবে..
অপ্রেমআমার থেকে বেশি তোমাকে। —পৃথিবীতে এই বাক্য প্রথম শুনলাম! চাবুকের চেয়ে চুমুকের শব্দ বেশি জানো না! — নৈঃশব্দ্য দিয়ে জড়িয়ে ধরতে শুধু, আর? দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী ব্যথা, একসমুদ্র জলের নাচন আর যুদ্ধাহত পেখমের রক্তপল্লব তো খোলাই রেখেছিলাম। — কোথাও লেখা ছিলনা বিন্দুমাত্র। প্রতি বিন্দুতে ডুব দাও, দ্যাখোআর কোথায় কোথায় তোমার নাম লিখেছিলাম





কমেন্ট করুনঃ