ধাঙড়
আকন্ঠ ধন্যেশ্বরী গিলে ধাঙড় মেয়ে
চৈত্রের এ মধ্যরাতে
কালী মন্দিরের আঙ্গিনায়
গাইছে গান…
শুনে মুগ্ধ মন ভাবে
জীবন আসলে তেমন মূল্যবান¬¬ কিছু নয়!
এক জীবনে জানাই হয় না কত কত সুর শব্দ
অন্যের অনুভব বুঝবার সামর্থ্যও
থাকে না কোনো মানুষের
কিংবা কারো মতাদর্শের পুরো মর্ম
পৃথিবীব্যাপি এত এত ধর্ম সত্ত্বেও
সত্যত্বার প্রশ্ন চিরকাল পৃথিবীতে?
বিধায় চার্বাক জন সুর মিলায়নি
কারো কোনো কাল্পনিক সুরে
হয়ে ওঠে অসুর সে ধর্মাচারিদের কাছে।
কবি নিজেও ধর্মাচারি না হওয়ায়
কোনো কোনো গান ওল্টো বুঝে অর্থ
আর ধন্যেশ্বরীকেই ঈশ্বর মনে হলে তার
মাতাল বলো না!
মাতালের গান পাতাল বা নরকেরই হবে কেন!
তোমরা যারা স্বর্গ চেয়ে আকাশে যেতে চাও
মর্তকে না চিনেই ভাগ করো সুর-অসুরে,
খুঁজে নিও কোনোদিন থাকে কি-না
সুরের মগ্নতায় অসুর কোনো?
সুরের প্রশ্নে অসুর নগ্ন সত্য!
কোনো নির্লজ্জ চোখ
শব্দগুলো এমনতর পরিহাস্য হয়ে থাকলো
গল্পটা আর বলাই যাবে না,
বোকা বোকা পথচারিও ভাবেনি
আচানক থমকে যাবে পথ
থমকে যাবে বনজ ভালোলাগা মায়াবী সময়
ঝরাপাতার নিবিড় নিবাসে।
পালকের মৌনতা ছুঁয়ে
বিহগ যে গহিনে আত্মঘাতী হয়
তার খোঁজ পায় না কেউ!
দাবানলে পুড়তে থাকলে বন
ইমন রাগের সন্ধ্যায়
বৃষ্টির মূর্ছনা তুলবে তোমার স্মৃতি
রাতের নিঝুম আন্ধারে একটি ট্রেন
হুইসেল বাজিয়ে চলে যেতে যেতে
জলের খেলা দেখবে কারো চোখে
চোখগুলো আসলেই নির্লজ্জ খুব।
অশ্লীল খুব
আমার নাকি মুখ ভালো না, চোখ ভালো না
উল্টো দেখি সবকিছুকে
ক্ষমতার ঝলকমাড়া লোকের প্রতি
আমার নাকি বকাঝকা অশ্লীল খুব,
তাদের উন্নয়নের বিপক্ষে যাই লংমার্চে
না বুঝেই কি রাজনীতিটা?
ঘৃণায় শেষে দীর্ঘ সময় চুপ মেরেও
ফল হলো না। ইতর রাষ্ট্রে ইতরামিটা
এখনও চলছে ভীষণ নগ্নভাবে,
ওরা সব পাতি নেতা
কোনো কিছু না করেই চায়
মিডিয়ায় মুখ দেখিয়ে পরিচিতি
খ্যাত হতে নেতা নামে,
সারা দেশেই এঅবস্থা
প্রান্ত থেকে কেন্দ্রতক আঃ চোতমারানা!
কবি ৩
কবির যে দুর্বোদ্ধতা শব্দে বা নীরবতায়
কজন আর বুঝে
কবিতা বহুমাত্রিক বিধায়
শব্দরা বিবিধভাবে সাজে
আর কারো নীরবতাও কখনো নীরব থাকে না
বহুবার কবিতায় হয়েছে বলা।
দহনেও সৌন্দর্য থাকে
প্রকারান্তে দেখা হলো কম না
আগুনের সঙ্গে বসবাস লাগে বুঝতে সেসব,
ছাইভস্ম অনেক উড়িয়ে
শূন্যতাকে একমাত্র আপন ভাবলে
দেখবে কবি এক আজব জীব।
পরকিয়াকে তোমরা ভিন্ন নাম বলতে
কামনার অনিন্দ্য সুন্দর সব
সুদৃশ্য ফ্রেমবদ্ধ ছবি শুধু আজ,
অবদমিত সময় হতে তোমাদের উঠে আসার
পরোকিয়াকে তোমরা ভিন্ন নাম বলতে
শর্ত জুড়ে দিতে নির্ধারীত মানচিত্র ধরে চলা…
কবি যে কি চিজ কবিতার আয়োজনে
বুঝে তা কমজনই,
যমের সাথেও তার প্রেম হয়
প্রয়োজনে পরকিয়াও!
সময়ই আবার ভাঙে তারে
কবি শেষতক কবিতা কবিতা করে মরে।
জলেও জ্বলে আগুন
বৃথাই যায় দিন
তাদের এসব দিনগুলো যে কাঁধের উপর গুরুত্বহীন ঝোলা
দ্বীন-ভিক্ষারীর। এমন কিছু দিনেও জমে গল্প অনেক
সুবিধাবাদী চিন্তাভরা যাপন জুড়ে, জীবন জুড়ে।
নানাবিধ আড্ডা সভা সেমিনারে
তাদের বড় ব্যস্ততা
তত্ত্ব ঝারে মুখে মুখে কথিত এক খাটি প্রেমের
কন্ঠস্বরে আওয়াজ বড় টগর-বগর!
শোনো নাগর, এই যে এ বাণিজ্যিক নগর তোমার
কে না জানে তার কালো জলের নদীর কথা
নদীটি আজ মরে মরে বর্জ্যদোষে-দখলদোষে
স্বপ্নদোষেও!
স্পষ্ট করেই বলি
নদীকে নিয়ে স্বপ্ন কোনো না দেখাও স্বপ্নদোষ
স্বপ্ন ছাড়া বৃথা দিনে তুমিও নাগর ব্যর্থ মানুষ…
আমার নদী মাতৃক দেশ
নদীর মত মানুষ, ভাঙ্গা-গড়ার জীবন
তাদের যাপন জলেও জ্বলে আগুন,
আগুন আগুন খেলার মানুষ আগুন নিয়েই আজ এখানে
সভ্যতাকে টেনে এনে এবং মানুষ,
মানুষ যাবে দূর বহুদূর।
শেয়ার করতে:





কমেন্ট করুনঃ