দৃশ্যের ভিতর
দৃশ্য গুলো যখন হাঁটে
মনে হয় স্ফীত ভ্রমণ তোমার দিকে
অপরাহ্নে অপেক্ষা করার
কেউ ছিলো না, তবুও শরতের চিঠি ;
একাকী স্বরের বিষণ্ণতা
কোথায় পুড়ছো তুমি?
শহরের টানেল ছেড়ে ম্যানগ্রোভ বন
মহারানীর রক্তচক্ষু শাসন,
কিংবা ঢাকা থেকে আল আকসা
মানুষ মরছে নিদারুণ।
দৃশ্য গুলো যখন হাঁটে
আমার ভিতর কুঁকড়ে ওঠে ঘৃণায়।
শুভাকাঙ্খী
আপনারা আসতে বললেই
আমি চলে আসি, সাদা ভাতের গন্ধ
মেখে মাথায় পেতে নিই ভিক্ষা,
আমার সন্ধানে ছিলো
হাওয়াই শার্ট, আমার সন্ধানে ছিলো
বিকেলের অনিকেত অবসর,
কিন্তু জীবনের পিঠে
ক্রমাগত হাতুড়ি পেটাচ্ছে সময়,
সেখানে ফুলের দাম হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে।
দেহ গাছ
নীল গন্দমের ছুরি
কেটে নিলো সফেদ বরফের হিম
সেখানে জমাটবদ্ধ হাতে
আত্মগোপন করেছে সংশয়।
উপত্যকায় জেগে আছে ঢুলুঢুলু চোখ
স্তন ঘেরা চরাচর —
হাড়ের শিরা জড়িয়ে ধরে নাভিমূলের উৎসুক,
ফুসফুসের বাতাস চক্র
আহত আতাফলের শিরোনামে,
মর্ত্যের ছাপাখানায়
মুদ্রিত হবে অসংখ্য — দেহ গাছে।
নির্বাসন
শহরতলি ঘিরে রাখে আরেকটা শহরতলি
বাতাসের তীব্র নিঃশ্বাস
খামচে ধরে আন্ত:ফেরত হাইওয়ে,
প্রেমিকার চুম্বনগুলো
সুউচ্চ টাওয়ারের রশি ধরে ঝুলে পড়ে,
এখন প্রতিটি চরিত্র
আর ঊণ মানুষের আকার ছোট হতে হতে
উড়ে যায় বেলুনের কয়েকশো ঝাঁক।
গলি-ঘুপচি পথে নেমে আসে
একচোখা রাতের বাদুড়,
যারা অন্তরীণ হলো মনে রেখো
তাদের কোনো মোকাম ছিলো না,
তবুও বিধ্বস্ত উপত্যকায়
মাশরুমের মতো জীবন্ত ছিলো তাদের মাটি,
আমাদের নির্মিত ইতিহাস
শুধু সেখানেই শায়িত আছে
যেখান থেকে আরো একবার উত্থিত হবে
নৈরাজ্যের থর থর সব কবিতা।
কসম
পবিত্র ভূমির কসম
যারা অচিরেই শহীদ হবে
তারা ফিরে আসবে
এই গাজা উপত্যকায়।
প্রতিটি এপিটাফের তর্জমায়
বুলেটের খোসা থেকে
বারুদের অম্ল ঘ্রাণ হতে
পিতার লাশের উপর
শিশুরা কুড়িয়ে নিচ্ছে
আগামী মৃত্যুর ইশতেহার।
যারা আজ ফিরে গেছে
তারা কখনো দেখে নি
স্বাধীনতা হলো রক্তাক্ত রুহের আয়াত
স্বাধীনতা হলো লাব্বাইক ধ্বনি!
পবিত্র ভূমির কসম
যারা অচিরেই শহীদ হলো
তারা ফিরে আসবে
এই গাজা উপত্যকায়।
দোহাই
এরপর আমরা ঘুরে আসবো বাঁকা পথ
পৃথিবীর প্রথম আদিবাসী
যেভাবে হেঁটেছিলো বৃক্ষের স্মারকে
তারা এসে ঠিক শায়িত হবে নক্ষত্রের নিচে,
কারচুপি হয়ে গেছে সেই পথ
এখনও জঠরে লেগে আছে যার
আদিম গন্ধে ভরা দুগ্ধ বরণ দাগ
ঘনঘোর ছায়ায় এসে থমকে গেছে,
এবার আওয়াজ করো মা ;
তোমার সন্তানেরা ঘুম থেকে উঠবে।





কমেন্ট করুনঃ