সার্কাস
সার্কাস তাবুর মধ্যে এক নাচয়ালি আপেল ছুঁড়ছে
আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছাড়া
লোকালয়ে লন্ডভন্ড ঝড়
এবং তা থামার পর নিশ্চিত ফায়ারব্রিগেড আসবে
জাদুকর তুমি ঘড়ির ডায়ালে ঢুকে সেকেন্ডের কাঁটা ধরে ঝুলে ঝুলে সূর্যাস্তে নামছো
খাঁচার মধ্যে শুধু লড়াইয়ের মোরগ দুটি অস্তকাল মুছে মুছে উদয় ডাকছে
বুড়োবাঘ শুয়ে আছে ওর দাঁতে ব্যাথা
টুথ-পেস্ট দিয়ে আর দাঁত মাজবে না
সকালের সংবাদ
লাফিয়ে নামছে অজস্র আলোর বল এবং ছড়িয়ে যাচ্ছে
নানা দিকে
যার দু’একটি এসে ঢুকলো আমার চোখের ভিতরে
অসুখে পেরুনো শৈশব একটি সামান্য ফুটবলও যেভাবে পাইনি
ঘাস থেকে মুখ তুলে গরুটি হাম্বা শব্দে ডেকে উঠছে
ওর ঝকঝকে দাঁত মাজা টুথপেস্ট দিয়ে
উঠোনের ডাবগাছ, এক এরোপ্লেন দম্পতি কবে যেন
বাসা বেঁধেছিলো
দেখি সে বাসায় দুটো ডিম ফুটে ছানা বেড়িয়েছে;
রোঁয়া ওঠা কচি ডানা
ভোঁ ভোঁ শব্দে ভরে আছে সমস্ত সকাল
শমসের ডাকাত আসছে
শেষ বিকেলের দিকে জঙ্গল বাড়িটিতে
সন্ধ্যা নেমে আসে
বাদুরের উড়ে যাওয়া
গা ছমছম করা পেঁচারা ডাকছে
শুকনো পাতার পাহাড় সরিয়ে শমসের ডাকাত
হাতে তুলে নিচ্ছে ওর বন্দুক
আজ রাতে কার বউ গহনা হারাবে !
ডিম
সকালে নাস্তার টেবিলে দু’একটি বিস্কুট
এক কাপ চা
তার চেয়ে বড় হয়ে দেখা দিলো
একটি সেদ্ধ ডিম
আমি তাতে নুন মেখে খাবো
তার আগেই ডিম ফুটে
সেদ্ধ পাখির ছানা বেড়িয়ে পড়েছে
ডানা মেলতে ডাকছে না-লেখা আকাশ
প্রাতর্ভ্রমণের কবিতা
গাছের মাথায় রোদ বসে। গাছের নিচে
আমি পায়চারি করা লোক
খু্ঁটি বাঁধা মিনতি মাসির গরু, এরপর সাঁওতালপাড়া
ফেলে দূরে যাবো…
দূর বলছি যাকে
সেও খুব দূর নয়
যে কারণে চার্চের পাদ্রিসাহেব পু্ঁথি-পুস্তকসহ
বাইকের স্টার্ট নিয়ে চলে গেল
পাকা ও মাটির সরু রাস্তাগুলো
এঞ্জিন চালিত ভ্যানে হৈ চৈ
ভাবছি, আমিও কি বাহুর নিচে
দুখানা এঞ্জিন বসাবো!
ফাল্গুনের কবিতা
পাখিদের এই বন। আর এক ভাল্লুক মেয়ের প্রেমে
বনের গভীরে পথ হারিয়েছি; সবুজ লতাপাতা শরীরে জড়িয়ে
আমি এক হেঁটেচলা গাছ
আজ প্রথম ফাল্গুনদিনে বনের গভীরে
কেউ কাঠ কাটছে
দূর হতে তার শব্দে ভেসে আসছে
ধারালো কুঠার
শ্রাবণের কবিতা
গান গাইছে আমনের বীজতলা
এবার শ্রাবণ ভাল
রোদ আর বৃষ্টি মিশিয়ে দারুণ এক রেইনকোটে বাইক
হাঁকাবো সোজা রেইন বো গ্যালারি
প্রণাম মনষ্ক বাঁশবাগান নত হচ্ছে
তার পাশে আমাদের ন্যাশনাল পার্লামেন্ট
ধানখেত, ডোবার জমানো জলে মুখ দেখে
রাষ্ট্রপতি হাসছেন
পিঁপড়ে
কালো পিঁপড়গুলো মুখে সাদা ডিম নিয়ে
কোথায় যাচ্ছে?
এই প্রশ্নে আমাদের বয়সী দাদিমা
প্লাবনের আভাস রেখে যান
তাহলে আবারও প্রশ্ন; ঝাঁক ঝাঁক পিঁপড়ের মধ্যে
কোন পিঁপড়েটি দুর্যোগ বিশারদ
কোন পিঁপড়েটি আবহাওয়াবিদ
কবিতা লিখতে হলে তার কাছে
জল ও হাওয়ার জ্ঞান জেনে নিতে হবে
অ্যাডলফ হিটলারের ঘোড়া
ধানখেতের আলে কেউ ফেলে গেছে একজোড়া চটি
ঘাস কাটতে আসা অ্যাডলফ হিটলার ভাবছেন; জটিজোড়া হয়তো কোন খেয়ালি মেঘের
গতকাল ধানখেতে রাত্রি কাটিয়ে খুব ভোরে চটি খুলে আকাশে উড়েছে
আসলে জানে না; কবির এই চটিজোড়া
স্বযং কবিই খুলে
ওই দূরে ঘাসে শুয়ে আছে
এখন সন্দেহরা কানে কানে তোমাকে বলছে; কবিকে না চিনতে পেরে
ঘাসের সঙ্গে কেটে
অ্যাডলফ হিটলার তার ঘোড়াটিকে খেতে দেন কি না
লাভস্টোরি
আয়না ভেঙে গেলো। সামান্য শব্দ হল প্রাসাদের গভীরমহলে। বাঁশি হাতে নেমে এলো পারদের অতলে লুকিয়ে রাখা লোক। এই বার এই কথা রাষ্ট্র হয়ে যাবে
প্রতিজন প্রেমিকামাত্র রাষ্ট্রপতির মেয়ে। যে মেয়েরা পড়ে এক চাষিপূত্রের প্রেমে
২
বিমান বিধ্বস্ত হল। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ভাঙাচোরা স্টিলের টুকরো। ক্যাবলস ও প্লাস্টিকের নাড়িভুঁড়ি। আর খুব মর্মান্তিক; পড়ে থাকা প্রেমিক প্রেমিকার ছিন্নভিন্ন দেহ। দমকল কর্মী এসে এতো কিছু উদ্ধার করে নেবে। ফেলে যাবে জ্বালানি ও ল্যুব্লিক্যান্ট তরলের ঝাঁজ
যুগল রক্তধারা গড়িয়ে মিলিত হবে একে অপরের সাথে





কমেন্ট করুনঃ