হাফিজ রশিদ খান
সজীব চাকমা (জন্ম ১৯৬৯) তাঁর মাতৃভাষা চাকমা ও বাংলা উভয় ভাষাতেই স্বচ্ছন্দে লেখেন কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প ও রাজনৈতিক কথকতা। তাঁর মনোজগতের সংবেদনশীলতা ও তার ব্যাপ্তি আমাকে বেশ স্পর্শ করে পাঠক হিশেবে। রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন স্থানে তাঁর শান্ত, আতিথ্যমণ্ডিত সান্নিধ্য পাওয়ার মাধ্যমে এ আমি তা সহজে অনুভব করতে পেরেছি। এর সবই বিগত শতকের নব্বই দশকের বিভিন্ন ছিন্নপর্বের কথা। তাঁর আপনসত্তার আদিবাসী জীবন ও সেই জীবনের প্রতি তাঁর জন্মগত অনুরাগ বা পক্ষপাতিত্ব অতি স্বাভাবিক ব্যাপার হলেও সে বিষয়ে তাঁকে সবিশেষ উদ্বেগের সঙ্গে ভাবতে দেখেছি তখনও। তবে তিনি তা খুব একটা খোলসা করতে চান না। পাছে আমাদের কাব্য ও গানময় সচ্চিদানন্দের ভুবন চোট পায় ওতে! এই একটু বাড়তি উদ্বেগতাড়িত ভাবনাটি নিঃসন্দেহে সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা বা সামাজিক-রাজনৈতিক তৎপরতাজাতÑ তাঁর এই অবস্থানটি মালুম করতে আমার সামান্যও বেগ পেতে হয়নি। আবার ওই সচেতনতার কাঁটা সংশ্লিষ্টজনের কাঁধে যে বাড়তি দায়-দায়িত্ব চাপিয়ে রাখে সর্বক্ষণ, এও বুঝতে অসুবিধে হয় না কারো।
একেই বুঝি সামাজিক দায়বদ্ধতা বলে। ফলে আদিতে একজন কবি ও ভাবুক মানুষ হয়েও তাঁকে ওই বড় ভারে নুয়ে থাকতে হয় মাটিবর্তী মানুষের কাছাকাছি। তবে এও বলা থাক অকপটে, আমি এই বস্তুসংরাগময় সজীব চাকমার চেয়ে সেই সজীব চাকমা অর্থাৎ কবি সজীব চাকমাকেই যেন বেশি জানি, বুঝি। সেই জানায় উষ্ণতা অনুভব করি বলেই হয়তোবা। কেননা তিনি প্রথমত এবং প্রধানত কবিতার নন্দনলোকেরই অভিযাত্রী। মনে পড়ে, পার্বত্য অঞ্চলে খুব ধুন্ধুমার রাজনৈতিক ঘনঘটাময় উত্তাল সময়েও আমরা নিভৃতে কবিতার কথা বলতে পেরেছি হৃদয় ও চৈতন্যের সকল দুয়ার হাট করে খুলে দিয়ে। আমাদের মিথোজীবিতাই তা অকপটে বলিয়ে নিয়েছে। দেশের দুঃখে, দেশের মানুষের দমবদ্ধ কষ্টে আমাদের কাব্যিক উচ্চারণ চোস্ত রাজনৈতিক ভাষণকেও ছাড়িয়ে যেতে পেরেছে বা অনায়াসে তাকে প্রজ্ঞার পরিপাকে আনতে সক্ষম হয়েছে নিজেদের মতো করেই। কবিতার পথে হাঁটবো বলে আমাদের যে-আরক্ত চেহারা, সেখানে সমাজ-সংসারের জ্বালা-যাতনার ছায়া বা ছাপ ছিল না বা থাকে না কোথাওÑ তা কি হয়, কখনও হয়েছে?
কবিতার মতো সংক্রামক শিল্পবোধ জীবনের কোন্ অবস্থানকে তার প্রভাববলয় বা পক্ষপুটের বাইরে রেখেছিল, বা বাইরে রাখতে পারে? আমরা তো হলাহলাপায়ী সেই নীলকণ্ঠই। যারা ‘জীবনমন্থন বিষ’ নিজেই পান করে আগে এবং অমৃত যা ওঠে তা দান করে যায় সমাজে, অখিল মানবের হিতৈষণায়।
দুই
নব্বই দশকের দিকে সজীব চাকমা ‘দৈনিক রাঙামাটি’র নির্বাহী সম্পাদক থাকাকালে তাঁর সঙ্গে আমার প্রাগুক্ত যোগাযোগ বা সম্পর্কটি গড়ে ওঠে। ওই কাগজে আমার বেশ কিছু কবিতাও ছাপেন তিনি। বর্তমানে সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী সজীব চাকমা আদিবাসী ও আদিবাসী অধিকার বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। অধ্যাপক নন্দলাল শর্মা সম্পাদিত ‘চাকমা কবিতা’ সংকলন, হেমল দেওয়ান, পল্লব চাকমা ও হিরনমিত্র চাকমা সম্পাদিত ‘চাঙমা শ্রেষ্ঠকবিতা’য় স্বনামধন্য চাকমা কবিগণের সঙ্গে সজীব চাকমার কবিতার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় সনিষ্ঠ সজীব চাকমা ‘নিউহিল’, ‘হিলগার্ড’, ‘রিঝি’, ‘তারুণ্যের চোখে এমএন লারমা’ নামের লিটল ম্যাগাজিন ও সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে রাঙামাটির ঐতিহ্য সচেতন সংগঠন ‘জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিল’-এ সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাঙামাটির রেগা প্রকাশনী থেকে তাঁর প্রথম দ্বিভাষিক কাব্যগ্রন্থ ‘ফুল্ল তা ধগে তে ফুদি যোক’ (ফুলটি তার মতো করেই ফুটুক) বের হয়। ৪৮টি কবিতায় সজ্জিত কাব্যটি দ্বিভাষিতার কারণে পরিসর বেড়ে ১২২ পৃষ্ঠায় রূপ নিয়েছে। এখানে বৃহত্তর বাংলাভাষী পাঠকসমাজের কাছে তাঁর অনুভূতিসঞ্জাত চাকমা ভাষার কাব্যিক উচ্চারণমালা বাংলা ভাষার মাধ্যমে পৌঁছে দেবার প্রয়াসটি খুবই ইতিবাচক, দায়িত্বপ্রবণ এবং যোগাযোগপ্রত্যাশী বলে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয়। বস্তুতই বর্তমান লেখকও তাঁর কবিতার মাধ্যমে চাকমা ভাষা, সেই সমাজের নিভৃত জীবনের আশা-নিরাশা ও দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পরিচয় পেয়ে উপকৃত, উদ্বেলিত ও আন্দোলিত হয়েছি। কাব্যটিতে মূলভাবরূপে পরিকীর্তিত হয়েছে বাগানে বা অরণ্যজাত বিভিন্ন প্রজাতির রঙদার ফুলের স্ব স্ব অবস্থান নিয়ে ফুটে থাকা ও সৌরভ বিলিয়ে যাওয়ার স্বাভাবিক অধিকারের প্রসঙ্গ। এ যেন পার্বত্য জনপদের জনবৈচিত্র্যের মধ্যে কাক্সিক্ষত সংগতি প্রতিপাদনের আবেদন ও আকাক্সক্ষা। সেই সঙ্গে তাতে সৌন্দর্যবোধের একটা নিবিড় সম্পর্ক যে গাঁথা রয়েছে অলক্ষে, তাও বোঝায়। এ কাব্যে কবি সজীব চাকমা এই বিশ্বে মানবের টিকে থাকা তথা তাদের অস্তিত্বরক্ষার পক্ষে জোরালো বয়ান নির্মাণ করেছেন। বলাবাহুল্য, এই কাব্যিক বয়ানে মানবিক জীবনধারার প্রবহমানতাকে কবি কী চোখে দেখে থাকেন এবং সেই সঙ্গে নিজ পরিপাশের প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁর ভেতরে কেমন সংবেদনায় কাজ করে চলে প্রতিনিয়ত, সেই পরম্পরাজ্ঞানও ফুটে উঠেছে প্রত্যেক পংক্তিতে। কাব্যটি থেকে একটি কবিতাপাঠ করি :
এ পিত্তিমি আমার
এ পিত্তিমি তমার
ও ভেই লক
ও বোন লক;
অজল এই মুরো কার
হ্লে এই বেক ঝার
এই জুম এই কলক
এই ছাবা এই ছদক?
এই দেবা এই মাদি
চোগ মেলি চোগ হাদি
যিদু থেই যিদু যেই
এই ছড়া এই গাঙ
এই বিজক এই নাঙ
লিগি যেই লিগি যেই।
আমি মানেই
পিত্তিমি সাজেই
স্ববনে কামে ঘামে;
জিংকানী বাজেই
মানেই উচ রাঘেই
উজন্দি যেন থামে।
কোচপেই কোচপেই
এই ফুল এই পেক এই মানেই
যিয়ান সত্য যিয়ান দোল,
কোচপানা থোক
লাঙ মেয়্যা থোক
মিছে আর অদোলত নহোনেই হোল। :: এই পিত্তিমি আমার, পৃ. ৪১।
কবিতাটির বাংলায়ন :
এই পৃথিবী আমাদের
এই পৃথিবী তোমাদের
হ্য্যঁ ভাইয়েরা
হ্যাঁ বোনেরা
উঁচু এই পাহাড় কার
সবুজ এই বনবাদাড়
এই জুম এই উপত্যকা
এই ছায়া এই আলোকচ্ছটা?
এই আকাশ এই মাটি
চোখ মেলি চোখ বুজি
যেখানেই থাকি যেখানেই যাই
এই ছড়া এই গাঙ
এই ইতিহাস এই নাম
লিখে যাই লিখে যাই আমি মানুষ
পৃথিবীকে সাজাই
স্বপ্নে কর্মে আর শ্রমে
জীবনবাজি রাখি
মনুষ্যত্ব বজায় রাখি
এগিয়ে চলা যেন না যায় থেমে
ভালোবাসি ভালোবাসি
এই ফুল এই পাখি এই মানুষ
যা কিছু সত্য যা কিছু সুন্দর
ভালোবাসা বেঁচে থাকুক
প্রেম বেঁচে থাকুক
মিথ্যে আর অসুন্দর যেন না হয় বিভ্রান্তিকর। :: এই পৃথিবী আমাদের, পৃ. ৪২।
সজীব চাকমার আরেকটি ছোট্ট কবিতার উদ্ধৃতি দিচ্ছি। চাকমা ভাষায় যার শিরোনাম ‘উল্ল’ :
আমি দ ন’চেই
উল্ল অহ্বার
জনমান চেয়েই
ফুল্ল লবার। :: পৃ. ১১।
বাংলায়ন :
আমরা তো চাইনি
বৈরী হতে
আজীবন চেয়েছি
ফুলটিই নিতে। :: বৈরী, ওই।
এই ছোট্ট কবিতাটি যে-উজ্জ্বল বারতা ধরে আছে, সেখানে সমগ্র পৃথিবীর আদিবাসী সমাজের মনোদেশের শতাব্দীলালিত আর্তি ও আকাক্সক্ষাগুলো যেন গ্রীবা বাড়িয়ে দিয়েছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। তাঁদের সম্প্রীতিময় সহাবস্থানের এমন অব্যর্থ ও নান্দনিক উচ্চারণ পাঠকের চিত্তকে প্রবলভাবে দ্রবীভূত ও চঞ্চল করে তোলে। জোর ও শক্তি-সন্ত্রাসের ভেতরের খলচেহারাগুলো এখানে, এই ছোট্ট, মন্ত্রপ্রতিম উচ্চারণে বিপুলভাবে নগ্ন হয়ে ওঠে। এ কবিতা স্মরণ করিয়ে দেয় সাম্প্রতিক কালের মার্কিন ভিন্নধারার বুদ্ধিজীবী নোয়াম চসস্কিকে। ২০০১ সালের ৯/ ১১ তারিখে ‘টুইন টাওয়ার’ ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে’Ñ চমস্কি’র ভাষায়Ñ ‘তথাকথিত অনিঃশেষ যুদ্ধের শুরু করে’। চমস্কি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে এই যুদ্ধ শুরু হয় ১৭৮৩ সালে, যখন সদ্য স্বাধীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘মুক্তি’ ও ‘সভ্যতার’ নামে আমেরিকার আদিবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে।’ চমস্কি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ‘প্রথম ৯/ ১১, ২০০১ সালে ঘটেনি। ঘটেছিল ১৯৭৩ সালেও, যেদিন মার্কিন সহায়তায় চিলিতে বামপন্থী আলেন্দে সরকারকে সরিয়ে একটি সামরিক সরকারকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল।’
:: প্রথম আলো ॥ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১।
উল্লিখিত কবিতাটি পাঠের পর মনশ্চক্ষে বিশ্বব্যাপী আদিবাসী তথা প্রান্তিক মানুষগুলোর ওপর আগ্রাসী ক্ষমতামদমত্তদের কালো অবয়বগুলো ভয়ংকরভাবে ভেসে ওঠে রক্তলোলুপতার লকলকে জিহ্বা নিয়ে। শান্তিপ্রিয় মানুষগুলোর ওপর দাম্ভিক, স্বার্থকলুষ মনোবৃত্তির সেই আগবাড়ানো ফেসাদে ধিক্কারের অনল লাগিয়ে দেয়। এ কবিতা ‘অনেক কথা যাও যে বলে কোনো কথা না বলি’র অফুরান শক্তি বিস্তার করে অন্তরতলে। প্রসঙ্গত আরও মনে পড়ে, আরব ঔপন্যাসিক আবদেল রহমান মুনিফ-এর ‘এখন এখানে’ (১৯৯২) উপন্যাসের নায়কের উক্তি : ‘হতে পারে আমাদের দেশ পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর দেশ নয়। আরও সুন্দরও জায়গা নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু সেসব জায়গায় তুমি বিচ্ছিন্ন, অসংলগ্ন। আর এখানে যাই তুমি করো তা আসে তোমার অন্তর থেকে এবং সঞ্চারিত হয় অন্যদের অন্তরে। আর এর ফলেই তোমার সঙ্গে চারপাশের যা কিছু তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তোমার। এখানে সবকিছু তোমার জন্যে। এটা হচ্ছে সেই আয়না যেখানে তুমি নিজেকে দেখতে পাও এবং যেখানে অন্যরা দেখতে পায় তোমাকে। যে-শেকড় থেকে উত্থিত হয়েছ তুমি এবং যে-মাত্রিকতায় তুমি বিস্তৃত করো তোমার সত্তাকে এবং এর মধ্য দিয়ে জীবনকে জাগিয়ে রাখো নিরন্তর। শত-সহস্র খুঁটিনাটি বিষয় তোমার মধ্যে এই অনুভব জাগিয়ে দেয় যে, তোমার রয়েছে একটা অবলম্বনের বোধ, সংশ্লিষ্টতার বোধ, বিরামহীনতার বোধ।’
তিন
২০০২ সালের ২০ মে সজীব চাকমা দৈনিক রাঙামাটির পক্ষ থেকে আমার কিছু কবিতা চেয়ে চিঠি লেখেন। তাঁর ডাকে সাড়া দিলে তিনি আমাকে ফিরতি জবাবে একটি চিঠিতে জানান :
হাফিজ রশিদ খান
শ্রদ্ধাস্পদেষু
গত ২৯ মে ও ১২ জুন পরপর আপনার দু-খানা চিঠি (একগুচ্ছ কবিতাসহ) পেলাম। আপনার আন্তরিক ও হৃদয়স্পর্শী চিঠিতে আমি পুলকিত। এই চিঠি ও দৈনিক রাঙামাটিতে কবিতা পাঠানোর জন্য আপনাকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। পাশাপাশি যথাসময়ে ও যথাযথভাবে আমি চিঠির উত্তর দিতে পারিনি বলে ক্ষমাপ্রার্থনা ও দুঃখপ্রকাশ করছি। আসলে লিখব-লিখব করেও নানা টানাপোড়েনে লেখা হয়ে উঠছিল না। তাছাড়া আমার মনে হয়, একটি ভালো চিঠি লেখা একটি ভালো কবিতা বা ছোটগল্প লেখার মতোই। আমি কবিতাচর্চা করতে পারছি না বেশ কয়েক বছর তো হলোই। আর চিঠি লেখালেখিও হয় না বললেই চলে।
আপনি লেখালেখির কথা বলেছেন। পাহাড়িবন্ধুদের নিয়ে লিটলম্যাগে সাহিত্য তৎপরতার কথা জানিয়েছেন। এ আপনার মহত্ত্বের তাগিদ। আসলে আপনার প্রবন্ধগ্রন্থটি পাওয়ার আগেই আমি আপনাকে চিনতাম বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার বদৌলতে। মংক্যশোয়েনু নেভীকেও জানি, তিনিও লেখেন বলে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বা পাহাড়িদের খরাপীড়িত লেখালেখির জগতে তিনি লেখেন বলে তাঁর ব্যাপারেও আগ্রহ আমার কিছুদিনের। বছর দুয়েক আগে অনিয়মিত একটি ম্যাগাজিন ‘হিলগার্ড’ বের করার সময় তাঁর ঠিকানা আমি খুঁজেছি। এখনও তাঁর সাথে পরিচয় বা যোগাযোগ গড়ে ওঠেনি। আপনি আমাকেও লেখার অনুরোধ জানিয়েছেন। এজন্য আমি কৃতজ্ঞ এবং গভীরভাবে অনুপ্রাণিত। আমি অবশ্যই চেষ্টা করবো লিখতে। আসলে লেখালেখির প্রতি আমার ভক্তি, টান এবং রাঙামাটির যেকোনো বয়সী লেখকদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ থাকলেও আমি নিজে লেখালেখিতে মনোনিবেশ করতে পারি না নানা কারণে।
ও হ্যাঁ, রাঙামাটিতে ‘বিজু’তে প্রকাশিত ‘রিঝি’র সম্পাদক আমি। তবে কিছুটা লজ্জাবোধ করছি এ কারণে যে, সংকলনটি অত্যন্ত তাড়াহুড়োর মধ্যে বের করায় এতে রয়ে গেছে নানা মুদ্রণত্রুটি ও অসম্পূর্ণ সম্পাদনার ছাপ। আসলে ‘বিজু’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করাটাই শেষ পর্যন্ত হয়েছে সার। আর, পাঁচ-ছয় মাস হলো মাত্র আমরা ‘জুম্মলেখক ফোরাম’ গঠন করেছি। ফোরামের আহ্বায়ক করা হয়েছে লেখক ডা. ভগদত্ত খীসাকে। আর সদস্যসচিব আমি। আপনি আমাকে শিগগির ‘উপবন’ পাঠাবেন বলেছেন। আমি সানন্দে প্রতীক্ষা করছি। পেলে বাধিত হবো। আর প্রথম চিঠিতে ‘জুমপাহাড়ের ওম’ নামে আপনার কাব্যগ্রন্থটি বিভিন্ন লাইব্রেরিতে দিতে পাঠানোর কথা বলেছেন। আপনি নিশ্চয়ই পাঠাতে পারেন। আমি অবশ্যই সহযোগিতা করবো।
শুভকামনায়
সজীব চাকমা।
নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক রাঙামাটি
রাজবাড়ী রোড, রাঙামাটি : ৪৫০০
তারিখ : ২১ জুন ২০০২।
এসব স্মৃতিময় অতীতের গর্ভে সাঁতরাতে গিয়ে দেখি কবি সজীব চাকমাকে নিয়ে লিখেছিলাম নিচের কবিতাটি, সম্ভবত তাঁর সম্পাদিত ছোটোকাগজ ‘রিঝি’ হাতে পাবার পর :
খোঁপায় গেঁথেছ সুলক্ষণা রিঝি
ভাবছ আমাকে প্রেমিকÑ নিতান্ত হিজিবিজি
এই চোখ সম্পূর্ণ আকাশ
তোমার নিকটে গেলে কোমলতর সেÑ অনুগত ঘাস
বনের গভীরে গড়া মন-জুমঘরে
তুমি রাঙাবি দ্রৌপদী হয়ে এসো স্বয়ম্বরে
হৃদয়ের জব্দ ও মলিন সুতো যতো
রিঝির মনস্ক টানে মুক্তি দিয়ো এলানো চুলের মতো …
:: ‘রিঝি’, এই সুন্দর আমাঙ হারাবো না : হাফিজ রশিদ খান, পৃ. ৩১ ॥ প্রকাশকাল : ২০০৬ :: চিঠিতে যে-প্রবন্ধগ্রন্থের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি আমার প্রথম গদ্যগ্রন্থ ‘আমাদের কবিতা ও আদিবাসী প্রসঙ্গ’; প্রকাশকাল : ফেব্রয়ারি ২০০১, প্রকাশক : কাজী মূসা, শেখ মুজিব সড়ক, দেওয়ানহাট-চট্টগ্রাম :: মংক্যশোয়েনু নেভী : কবি ও প্রাবন্ধিক; বান্দরবান পার্বত্য জেলা সদরের বাসিন্দা ::: সজীব চাকমার কাছ থেকে চিঠি ও তাঁর সম্পাদিত ছোটোকাগজ ‘রিঝি’র একটি সংখ্যা একত্রে পেয়েছিলাম :: ‘রিঝি’ : চাকমা শব্দ : দুর্লভ পার্বত্য অর্কিড, দেখতে অনেকটা চিরুনির মতো।
+++





কমেন্ট করুনঃ