লাল কাকঁড়ার বিছানা
বাদাম, চানাচুর, চিপস, পানি, বরফ, গ্লাস
সব আয়োজন সম্পূর্ণ
দুটো বোতল লাল চোখ মেলে তাকিয়ে আছে
বজরা নৌকার খোলে
নৌকা চলছে রাতের প্রথম প্রহরের ঢেউ কেটে
চুমুকে চুমুকে দুলে ওঠছে নাও
নাচছে জলের ঢেউ
পৃথিবীর অগ্নিকোণে আযান পড়ে এলো
বেটা ছেলে বাপ ডেকে উঠছে
ভোরের সূর্য ওঠার আগে
বাজান তুই এত ডাঙ্গর হলি
“কানামাছি ভোঁ ভোঁ যারে পাবি তারে চোঁ” তবু শিখলি না
আগুন মাসের অভাব তবে তুই কি করে পার হবি
নৌকা তখন অনেকদূর তটিনীর কূল থেকে
সোনার ময়নাদ্বীপে
কপিলা, আয় সোনার ফসল ফলি লাল কাাঁকড়ার বিছানায়
কপিলা এখনো জানে না-
টেস্টটিউব বেবি কি? কি বা ক্লাউড সিডিং ?
অথবা আয়রন ডোম কিংবা ড্রোন ক্যামেরা?
—
২০ই এপ্রিল ২০২৪, ফতুল্লা
পাথরকুচি
গাছ থেকে শেষ পাতাটিও ঝরে গেলো
শিকড় থেকে শেষ মাটিটুকুও ধসে গেলো
নদীর জলে।
পাতাটি ভাসতে ভাসতে গভীর স্রোতে গহ্বরে হারিয়ে গেলো
মাটিটুকু স্রোতের টানে জলের সাথে মিশে গেলো
গাছটি শুধু থুবড়ে পড়ে আছে গড়িয়ে গড়িয়ে একটা নদীর তীরে।
একটা কৈ মাছ প্রথমে এসে ঠোট দিলো
গাছটির ছালে
একগুচ্ছ পিঁপড়ার ডিম ভেসে গেল মাছের পেটে
ওপাড়ায় খবর হওয়া মাত্র
একদল চিংড়ি এসে বাসা বুনলো
একটা নলা মাছও এসে পড়লো গাছটির ছায়ার নিচে
একটা সাপও আসলো ডাকবাক্সের চিঠির মতো করে
চৈত্রের শেষে জল যখন নেমে গেলো নদীর তলায়
গাছটির শুধু ফসিল পড়ে আছে
ঐ হারিয়ে যাওয়া পাতাটি আমি, এই ফসিলটি আমার মা
আমি পাতা থেকে জন্ম নেওয়া সন্তান
নাম পাথরকুচি
আর ফসিল আমার জন্মের জীবাশ্ম…
—
১৮ই এপ্রিল ২০২৪, ফতুল্লা
তবু আমি পিতৃহন্তার অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত
জুয়ার টেবিল থেকে
শেষ ট্রাম্পকার্ডটি ছুঁড়ে দিয়ে
শপথ করে ছিলাম
তোমাকে খুন করে ফেলবো
আজ দীর্ঘ ঊনচল্লিশটি বছর
কেটে গেল
কিন্তু তুমিই আমার একমাত্র জীবন্ত বিশ্ববিদ্যালয়
গভীর থেকে গভীরতর সমুদ্রের দিকে
সীগার্ল ওড়ে চলে
নোনাজল নেমে আসে কবরস্থানের গোরোখাতে
শহরের সুউচ্চ সুরম্য অট্টালিকার ওপর
বসে আছি
জীবনের শেষ জুয়ার দান নিয়ে
তুমি নও, তোমরা নও, আমার ব্যবচ্ছেদ
শৈশব টালমাটাল কোর্তা খাওয়া গাঙ
যৈাবন এলোমেলো ধূসরিত ছাইদানি
না, আমি সিডরের কথা বলছি না
আমি সুনামির কথা বলছি…
নীরব অন্ধকার আমার পৌঢ়ত্বের জিজ্ঞাসা
না, আমি ডেঙ্গুর প্রকোপতার কথা বলছি না
আমি লকডাউনের কথা বলছি
আমি পৃথিবীর নিস্তব্ধতার কথা বলছি
বার বার আমাকে কর্ণের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে
আমি সূর্যপুত্র, তবু আমার পরিচয় সুতপুত্র
আমি লঙ্কার রাবণ, নারীর কস্তুরির ঘ্রাণ
আমাকে পঞ্চবটীর বন উজাড় করে ফেলতে বাধ্য করেছে
“তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি সে কি মোর অপরাধ”
আমি জিউস, তবু আমি ইউফ্রেতিসের প্রেমে অন্ধ
সফোক্লিসের রাজার অন্ধচোখ
তবু আমি পিতৃহন্তার অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত
—
৫ই এপ্রিল ২০২৪, ফতুল্লা
লাস্ট ডিস্টিনেশন
তোমার সাথে বিকেলবেলা একসাথে বসবো
আমার দীর্ঘ জীবনের কামনা
সবুজ ঘাসের চাদর ফেলে
মাথার ওপর থাকবে শান্ত নীল প্রজাপতি আকাশ
নদী ভড়া কস্তুরিফুলের আভা ছড়িয়ে পড়বে
তোমার আধুনিক অবয়ব সৌষ্ঠব থেকে…
দীর্ঘ বাদামী বর্ণের জীবন ফেলে এসেছি
শহরের গলিরমুখে;
কতোগুলো কুকুর ওখানে সকাল-সন্ধ্যা ঘেউঘেউ করে;
কাকগুলোকে দেখেছি
বারবার বঙ্গভবনের চারপাশে বীভৎস কন্ঠে কা কা করতে;
রাতের প্যাাঁচা চোখ মেলে থাকে দূরবীনে…
গ্রামীণ এক চিল শহর দেখতে এসে
মাথাঘুরে চিৎকাৎ
ডানায় ভেসে ফিরে এসে বলছে পানকৌড়িকে
তার শৈশবের শহর কোথাও নেই
এখানে ওখানে সবখানে
সব মানুষের মাংসের রেঁস্তোরা…
শিরিষ গাছের ফুরিয়ে আসছে পুরানো কুপির সলতের মতো
দ্বীপের মতো বাড়িগুলো শহরের ছাঁচে চোখ মেলে আছে
এই গুলিয়াখালী এই তারুয়া এই খাশিয়াপল্লী এই উত্তরা ইপিজেডের মতো;
আর হলো না ডাহুকের সংসার বোনা এই ডাকাতিয়ার পাড়ে
মাটির গভীর থেকে কেউ আর তুলছে না কাউনকথন
বুক পকেটে চন্দ্রযানের টিকেটÑ বিদাই সীমান্তের কাটাঁতার ।
—
২০ই মার্চ ২০২৪, ফতুল্লা
নীলাক্ষী
আমের মুকুল দেখলেই কেমন জানি একটা টক মিস্টির গন্ধ পাই
গ্রীস্মের এই তাপদাহের পোড়া শরীরে;
কদমফুল দেখলেই কেমন জানি ভিজতে ইচ্ছে করে
বর্ষার ব্যাঙের ঘীতের মতো;
কাশফুল দেখলেই ইচ্ছে করে একটু নরম নরম ছোয়াঁর আলিঙ্গন
শরতের এই মেঘ এই রোদ্দুর মনে;
কস্তরিফুলের অঘ্রাণ আমাকে ধ্যানমগ্ন করে ভীষনভাবে
হেমন্তের সোনবরন ধানের মতো আমার নবান্নের উঠান জুড়ে;
কাচি হলুদ চোখ দুটি ভরে যায় সর্ষেফুলের ছেয়ে যাওয়া হলুদে
যখন শিশিরে ধরে রাখে শীতের চাদর;
শিমুলের লজ্জা লালে রঙ্গিন হয়ে যাই আমি
যখন কোকিল ডাকে;
আমি মেতে আছি ষড়ঋতুর মন্ত্রে…
আমাকে চরিত্রহীন কেনো বলো
হে নীলাক্ষী, তুমি এত নীল কোথায় খুঁজে পাও… –
—
২০শে জানুয়ারী ২০২৪, ফতুল্লা
মহাসমুদ্র
মাঝে মাঝে চাঁদকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে
কেন তুমি আসো আমার অন্ধকার ভাঙ্গতে
জিজ্ঞেস করি নি
যদি চাঁদ ভয় পেয়ে যায়
আর না আসে ঐ নীল গগন প্রান্তে
তবে তুমি কেমন করে অন্ধকারে পথ চলবে
আমি সূর্যকে বলেছিলাম ডুবে যেতে
ও ডুবে গিয়েছিল পশ্চিমে
ও আর কোনদিন পশ্চিম দিক থেকে ফিরে আসেনি
আমি জানি জানতে পারিনি
এ তুমি ছিলে আমার রাঙা গৌধূলী
পৃথিবীর সব রঙ ছড়িয়ে ছিটিয়ে চলে যায় অন্ধকারে
সেদিন থেকে আমি অন্ধকার ভালোবাসি
তুব আমি জোসনার গান বুনি
কোনএকদিন যদি তুমি ফিরে আসো ঐ পশ্চিম দিগন্ত থেকে
সেদিন আমি আমার সমস্ত প্রেম নিবেদন করে যাবো
না তুমি রবে না আমি
জলে আর জলে মিশে আমরা এক মহাসমুদ্র হবো
—-
১২ই সেপ্টেম্বর ২০২৩, ফতুল্লা
শেয়ার করতে:





কমেন্ট করুনঃ