দুজনই কুর্দি। দুজনই সুন্নি মুসলমান। দুজনেরই সমাধি সিরিয়ায়। একজনের দামেস্কে, আরেকজনের কোবানিতে। তাদের মধ্যে অমিল প্রচুর, মিলও কম নয়। একজন ধর্মযুদ্ধে গাজি। আরেকজন এ সময়ের ক্রুসেডে শহিদ। আয়লান তো বর্তমান ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধেরই বলি; তাকে শহিদই বলব। সালাদিন বেঁচে থেকে মুসলমানের মুক্তি দিয়েছিলেন; আয়লান মারা গিয়ে মুক্তি না দিলেও অনেক মুসলমানকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। লাখ লাখ শরণার্থী যে ইউরোপে আশ্রয় নিতে পেরেছে, তা তো আয়লানের জন্যই। তা নাহলে তাদেরকে আসাদের, নুসরাদের, আইএসের, মার্কিন বাহিনীর গুলি-বোমা খেয়ে মরতে হতো; মরতে হতো ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবিতে, কিংবা অনাহারে, অসুস্থ হয়ে।
দ্বাদশ শতকে ক্রসেডারদের বিতাড়িত করে পবিত্র ভূমি জেরুজালেম জয় করেছিলেন সালাদিন। সারা বিশ্বের মুসলমানেরা সালাদিনকে নিয়ে এখনো নস্টালজিক হয়। নিপীড়িত মুসলমানরা অধীর আগ্রহে আরেকজন সালাদিনের আগমণের প্রত্যাশায় দিন গুজার করেন। সালাদিন ধর্মে সুন্নি মুসলিম। জাতিতে পাহাড়ি বা কুর্দি। কিন্তু তিনি মুক্তি চেয়েছিলেন সমগ্র মুসলিম জাহানের। মুসলমানদের আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে পেরেছিলেন। তার কাছে শিয়া-সুন্নি আলাদা কোনো বিষয় ছিল না; সবাই মুসলিম। তিনি সুন্নি মুসলমান হয়েও সে সময়ের ফাতেমীয় শিয়া শাসনের প্রধান উজিরের পদ অলঙ্কিত করেছেন, সেখান থেকেই তার উত্থান। এরপর ইরাক থেকে সিরিয়া, ফিলিস্তিন সব জায়গায় তার জয়পতাকা পতপত করে উড়েছে। অথচ তার নিজ জাতি কুর্দিরা এখনো পরাধীন। তাদের নেই রাষ্ট্র, নেই মানবিক মর্যাদা; মৃত্যুতেই যেন তাদের মুক্তি।
কুর্দিদের যন্ত্রণার ইতিহাস নতুন নয়; প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ওসমানিয়া শাসকদের অদূরদর্শী নীতি এবং ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীদের ক‚টচালের কারণে কুর্দিরা তাদের নিজস্ব ভূখন্ড ও রাষ্ট্র থেকে বঞ্চিত হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ওসমানিয়া শাসনের পতন হয়। এর আগে ১৯১৪ সালে ইউরোপের চার পরাশক্তি ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি ও জার শাসিত রাশিয়ার মধ্যকার গোপন সাইকস-পিকো চুক্তিতে ওসমানিয়া সাম্রাজ্যের কে কোন ভূখন্ড দখলে নিবে তার পরিকল্পনা হয়। ১৯১৭ সালে রাশিয়াতে লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকরা ক্ষমতায় এলে সাইকস-পিকো চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশ করে দেয়। লেনিনের ভাষ্য ছিল দখলদারিত্ব নয়, প্রত্যেকটা জাতিকে তার আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার দিতে হবে। সাইকস-পিকো চুক্তির ধারাবাহিকতায় ১৯২০ সালের আগস্টে সেভর চুক্তিতে ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদীরা একই পরিকল্পনা আঁটে। সেভর চুক্তিতে কুর্দিদের জন্য একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়নে জোরালো কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জয়ী ইউরোপের দেশগুলো। পরে মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে গ্রিক বাহিনীকে পরাজিত করার পর ১৯২৩ সালের লুসান চুক্তির মধ্য দিয়ে আধুনিক তুর্কি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ২৪ জুলাই সুইজারর্যান্ডের লুসান শহরে অনুষ্ঠিত হওয়া ওই চুক্তি স্বক্ষরের আগে ইউরোপের নেতারা মোস্তফা কামালকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, কুর্দিদের জন্য একটি আলাদা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল দেওয়া যায় কিনা। মোস্তফা কামালের সাফ জবাব ‘ও কখা মুখেও আনবেন না, এটা ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়বে।’ লেনিনের অর্থ ও অস্ত্র সাহায্য নিয়ে মোস্তফা কামাল তুর্কি বিপ্লব সফল করলেন। অথচ লেনিনের যে দাবি প্রত্যেকটা জাতিকে তার আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার দিতে হবে তা থেকে কামাল সরে আসলেন। তবে কামালকেও বেশি দোষ দেওয়া যাবে না। তার লড়াই ছিল মূলত আনাতোলিয়া ও রোমেলিয়ার অধিকার ফিরে পাওয়ার। লুসান চুক্তির মধ্য দিয়ে তিনি সেই ভূখন্ড ফিরে পেয়েছেন। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ওসমানীয় সাম্রাজ্যের বেদখল হওয়া অনেক ভূমি ইউরোপীয়রা ভাগাভাগি করে নেয়; তারা পারত কুর্দিদের জন্য আলাদা একটি ভূখন্ডের ব্যবস্থা করতে, যেমনটা করা হয়েছিল আর্মেনিয়ানদের জন্য। তারা সেটা করল না।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর কুর্দিদের দীর্ঘ বঞ্চনার ইতিহাস নতুন মাত্রা পায়। গত শতকের নব্বই দশকে প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বড় বুশ ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে কুর্দিদের সামনে বাড়িয়ে দেন। কাতারে কাতারে কুর্দি যোদ্ধারা জীবন দিতে থাকেন। রাসায়নিক বোমা মেরে হত্যা করা হয় হাজার হাজার কুর্দিকে। পরে ২০০১ সালে ছোট বুশের সময় ইরাক দখলের মধ্য দিয়ে কুর্দি গণহত্যার অভিযোগে সাদ্দামকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। অথচ কুর্দিদের প্রত্যাশিত মুক্তি অধরাই থেকে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসল না। এখন কুর্দিরা হত্যার শিকার হচ্ছে সিরিয়ায়, ইরাকে, তুরস্কে। কুর্দিদের মাথা কাটছে আইএস, তুরস্কের সরকারি বাহিনীর গুলি-বোমার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে তারা। কুর্দিদের দমনে ইরাকে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে তুরস্ক। অথচ সংকটের মূলে যে আইএস, তাদের দমনে তুরস্কের ভূমিকা খুবই সামান্য।
তুরস্কের এক কুর্দি মা সালিহ বুক চাপড়ে বলছেন, তার ১৮ বছর বয়সী ছেলে আইয়াজ আইএসের বিরুদ্ধের লড়াই করতে গিয়েছে, যারা মানুষের মাথা কেটে ফেলছে; অথচ তুরস্কের সেনাবাহিনী আমার ছেলেকে গুলি করে মেরেছে। তার লাশটি পর্যন্ত ফেরত দেয়নি তারা। এটা রীতিমতো অপমান। সালিহর মতো অসংখ্য অপমানিত মা তুরস্কে বুক চাপড়াচ্ছে। তাদের আর্তনাদ কারো কান পর্যন্ত স্পর্শ করছে না।
অপমানের আরেক প্রতীক ভূমধ্যসাগরের তীরে পড়ে থাকা লাল শার্ট ও নীল প্যান্ট পরিহিত শিশু আয়লানের নিথর দেহটিও। এ অপমান মানবজাতির। ‘সভ্য’ মানুষের দিকে তাক করা তার সেই জুতাজোড়া সেই ‘সভ্য’ মানুষদের প্রতি ছুড়ে দেওয়া ঘৃণা। এ ছবি বিশ্ববিবেককে চপেটাঘাত করছে।
আয়লানের ওই ছবি অনেকগুলো প্রশ্ন নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হয়েছে। তার দেহ ওখানে ভেসে আসল কেন? কারণ নৌকা ডুবিতে মা-ভাইয়ের সঙ্গে সে-ও সাগরে তলিয়ে গেছে। তারা সাগরে তলিয়ে গেল কেন? কারণ জীবন বাঁচাতে আশ্রয় লাভের জন্য অন্য কোনো নিরাপদ দেশে পাড়ি জমাতে চেয়েছিল। নিজ ভূখন্ড ছেড়ে কেনইবা তারা ঝুঁকি নিয়ে আরেক দেশে যাবে। এর সব কারণই মোটাদাগের, সূক্ষ্য দাগটি আমাদের অগোচরেই থেকে যাচ্ছে। কিংবা আমরা চোখ বন্ধ করে আছি। এর মূল সংকট সিরিয়ার শাসক বাশার আল আসাদকে নিয়ে। আমেরিকা চায় আসাদকে সরাতে। ইউরোপ সায় দিচ্ছে আমেরিকাকে। কেউ দ্বিমত করলেও আমি আমেরিকাকে ইউরোপই বলব। আসাদকে সরানোর দরকার পড়ল কেন? কারণ ওই ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ দ্বিতীয়পর্বের যে ক্রসেডের ডাক দিয়েছিলেন ছোট বুশ ইরাক আক্রমণের মধ্য দিয়ে। আফগানিস্তানেও তাই ঘটেছে। আফগানিস্তান আক্রমণের লক্ষ্য ওসামা বিন লাদেন ছিলেন না; লাদেন উপলক্ষ মাত্র। লক্ষ্য তেলের বিশাল মজুদ কাস্পিয়ান বেসিন থেকে আফগানিস্তান হয়ে দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপন। মার্কিন কোম্পানির ওই পাইপলাইন স্থাপনে তালেবান সরকার অস্বীকৃতি জানায়। ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়েছে, দেশটিকে ধ্বংস করে দিয়েছে মার্কিনিরা। লিবিয়ায় গাদ্দাফির উচ্ছেদ এবং সেখানে বর্তমান সংকট সেই একই মার্কিন তেল-নীতির ফল। মধ্য-আফ্রিকার প্রজাতন্ত্রগুলোতে অস্থিরতার মূল কারণ সেখানকার খনিজসম্পদগুলো। এরই ধারাবাহিতকায় বর্তমান সিরীয় সংকট।
সময়ের পরিক্রমায় সবকিছুরই সংজ্ঞা পাল্টায়। ইউরোপের খ্রিষ্টান যাজকেরা এক সময় ক্রসেডের ডাক দিয়েছিলেন পবিত্র ভূমি রক্ষায়। এখনকার ছদ্ম সাম্রাজ্যবাদীদের ক্রসেডের ডাক কোনো ভূমি নয়; ভূমিকা না করেই বলা যায়, ভূমির গভীরে লুকিয়ে থাকা জ্বালানী তেল। এই তেল এখন পবিত্র ভূমির চেয়েও পবিত্র। কারণ এ তরল বস্তু ছাড়া পশ্চিমাদের শিল্পসভ্যতা টিকে থাকতে পারবে না। তাছাড়া সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর রাশিয়া শুধু পরাশক্তির অভিনয়ই করে যাচ্ছিল; সেই অভিনয় থেকে বেড়িয়ে রাশিয়া এখন বাস্তব চরিত্র নিচ্ছে, এটা আমেরিকা সহ্য করবে কেন। আসাদের সঙ্গে যেহেতু রাশিয়ার সুসম্পর্ক, সুতরাং আসাদকে সরাতেই হবে। এর মধ্য দিয়ে রাশিয়াকেও শিক্ষা দেওয়া যাবে। আর এর জন্যই উগ্র ধর্মান্ধগোষ্ঠী আল-কায়দা সমর্থিত নুসরা ফ্রন্টকে অস্ত্র দিয়ে, অর্থ দিয়ে, প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহায্য করছে যুক্তরাষ্ট্র।
সম্প্রতি আল জাজিরা অনলাইনে এক মতামতে ব্রিটেনের সাবেক সেনাকর্মকর্তা ক্রিসপিয়ান কুজ যিনি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন লিখেছেন, ‘আয়লান কুর্দির মৃত্যু ইউরোপের নীতির কারণে হয়নি। এটা শরণার্থী সমস্যা থেকে উদ্ভব। আর এ সমস্যা মধ্যপ্রাচ্যের সৃষ্টি।’ কুজ সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের বিষয়টি এড়িয়ে আইএস দমনে ইউরোপকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার দাবী জানিয়েছেন। তার কথায় সত্যতা রয়েছে তবে তা অর্থসত্য, যা মিথ্যার চেয়ে ভয়ঙ্কর। সিরিয়ায় গোলযোগের সুযোগ নিয়েই দেশটির প্রায় অর্ধেকটা ভূখন্ড আইএস তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তাদের অগ্রযাত্রা কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। কিংবা থামাতে দেওয়া হচ্ছে না। আমেরিকা আইএসের লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালাচ্ছে সত্য, তবে তা লোক দেখানো। আবার রহস্যজনক কারণে আইএসের হাতে যেসব আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে, তাও আসছে আমেরিকা থেকে। আমেরিকার এই দ্বৈতনীতি না বুঝতে পারলে এই সংকট থেকে উত্তরণের কোনো পথ নেই।
যারা মনে করছে আয়লান কুর্দির ছবি ইউরোপের ঘুম ভাঙিয়েছে, অনুমান করছি তারাও ঘুমের মধ্যেই রয়েছেন। ইউরোপ আসলে একটি চোখ মেলে বাঁকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ঘুম তাদের পুরোপুরি ভাঙেনি। ছবিটি প্রকাশ হওয়ার পর তারা অনেক শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে; এটা মধ্যপ্রাচ্যনীতি নিয়ে তাদের পাপের সামান্য প্রায়শ্চিত্ত। সিরীয় সংকট থেকে উত্তরণে সঠিক পন্থা নিতে না পারলে কিছু শরণার্থী আশ্রয় দিয়ে যতই মানবিকতার পরিচয় দিক, আদি পাপ থেকে তাদের নিস্তার নেই। সমস্যার গভীরে না ঢুকলে এর সমাধানও আসবে না। আর ইউরোপকেই এর কার্যকরী ভূমিকা নিতে হবে। অবশ্যই আমেরিকার নীতি থেকে তাদের সরে আসতে হবে। বন্ধ করতে হবে নুসরাসহ আসাদবিরোধী অন্য জঙ্গিদের দেওয়া অর্থ ও অস্ত্র সাহায্য। আইএস দমনে কোনো নাটক নয়, সত্যিকার অর্থে সম্মিলিত শক্তি প্রয়োগ করতে হবে।
এছাড়া আফ্রিকার খনিজসমৃদ্ধ দেশগুলো থেকে মার্কিন কোম্পানিগুলো চলে না আসলে সেখানকার অস্থিরতা থামবে না। এসব না থামলে ইউরোপমুখি অভিবাসীর স্রোতও থামানো যাবে না।
বর্তমান এ অবস্থায় ভুক্তভোগী ইউরোপ। আটলান্টিকের পশ্চিমপাড়ের দেশটিতে এর আঁচরও লাগেনি। সুতরাং আমেরিকার যুদ্ধনীতির দায় কেন ইউরোপকে নিতে হবে?
ইউরোপের দেশগুলো অভিবাসী ঠেকাতে সীমান্ত কাঁটাতার এবং প্রয়োজন হলে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। এসব করে সংকটের উত্তরণ তো হবেই না, নতুন নতুন সংকট তৈরি করবে। মূল সমস্যায় আঘাত না করে এসব ব্যবস্থা নিলে ইউরোপকে সামনে আরো বড় ধরনের খেসারত দিতে হবে।
এখানেই শেষ নয়। আয়লানের ছবি যে বোধের জন্ম দিয়েছে, তার মৃত্যু আমাদের যে অপরাধী করেছে, তার সত্যিকারের ন্যায়বিচার হবে কুর্দিদের মুক্তি মিললে। আয়লানের আত্মা শান্তি পাবে তার স্বজাতি কুর্দির জন্য স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের ব্যবস্থা করে দিতে পারলে। আইএস নির্মূল করা গেলেও কুর্দিদের স্বাধীনভূমির স্বপ্নকে বন্ধ করা যাবে না। কুর্দি সমস্যার এখন তুরস্ককেও গ্রাস করে ফেলবে। আখেরে এর ভুক্তভোগী হতে হবে ইউরোপকেই। সব সংকটের মূলে যেহেতু ইউরোপ, এর সমাধানে তাদেরই উদ্যোগী হতে হবে। অহমিকা বাদ দিয়ে, আত্মসর্বস্বনীতি ত্যাগ করে মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে যদি তারা এগিয়ে আসে, তবেই পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসা সম্ভব।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিশুতীর্থ কবিতায় একজন প্রশ্ন করেছেন, এখন আমাদের পথ দেখাবে কে? পূর্বদেশের ঋষি বলেন, আমরা যাকে হত্যা করেছি, সেই আমাদের পথ দেখাবে। শিশু আয়লানকে তো আমরা হত্যাই করেছি; সে কি পথ দেখাতে পারবে শান্তির, কল্যাণের, মানবতার? আমরা আশা করতে পারি শিশু আয়লানের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বর্তমান অন্ধকার যুগের সমাপ্তি ঘটবে, জন্ম দিবে আরেকটি নতুন সূর্যের, আরেকটি নবজাতকের, আরেকটি স্বপ্নের।
শিশুতীর্থ কবিতা থেকে কয়েকটি পঙক্তি দিয়ে শেষ করছি…
প্রভাতের একটি রবিরশ্মি রুদ্ধদ্বারের নিম্নপ্রান্তে তির্যকয়ে পড়েছে।
সম্মিলিত জনসংঘ আপন নাড়ীতে নাড়ীতে যেন শুনতে পেলে
সৃষ্টির সেই প্রথম পরমবাণী মাতা, দ্বার খোলো।
দ্বার খুলে গেল।
মা বসে আছেন তৃণশয্যায়, কোলে তাঁর শিশু,
উষার কোলে যেন শুকতারা।
দ্বারপ্রান্তে প্রতীক্ষাপরায়ণ সূর্যরশ্মি শিশুর মাথায় এসে পড়ল।
কবি দিলে আপন বীণার তারে ঝংকার, গান উঠল আকাশে
জয় হোক মানুষের, ওই নবজাতকের, ওই চিরজীবিতের।





কমেন্ট করুনঃ