প্রচার পরিক্রমার এই সময়ে শারেফ আহমাদ একজন নিভৃতচারী গল্পকার। প্রপাগান্ডার এই মজলিশ থেকে তিনি সজ্ঞানে নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন। যাপন করতে চেয়েছেন স্বনির্মিত চরিত্রের ভেতর।
তিনি জানেন মিথের অনিবার্যতা। প্রেজেন্ট করেন মিথের যৌক্তিকতায় আমাদের যাপনচিত্র এবং আমাদের নাগরিকত্বের উল্লম্ফন। তার মানে কি আমরা এখনো ট্রাইবাল থেকে বের হতে পারলাম না? নাকি এটি আমাদের মনোজগতের সেই স্লো-পয়জনিক প্রবৃত্তি, মহাজাগতিক সেই কণা যাকে আমরা বয়ে চলেছি শতাব্দির পরিক্রমায়। আমরা জানি না।
কবরস্থান ভেঙে মসজিদ রোডে ব্লক বি’র যে বাড়িটি নির্মিত হল, সেখানে কেন বলা হচ্ছে সময়ের নিষ্পাপ পদচারণায় চাপা পড়ে যায় ক্রোধের আর্তচিৎকার ? এবং মাটি ফুঁড়ে বেরোয় আলোর ঝলকানি? কিংবা কেন আমরা একটি পরাজিত সৈনিককে এই জমিতে আবিষ্কার করতে পছন্দ করি ? এবং বলতে চাই ধ্যানস্থ অবস্থায় সাড়ে তিন হাত তলোয়ারটির উপর টুপির অংশবিশেষে তার স্বেচ্ছা মৃত্যুর কেচ্ছা। আমরা কি প্রতিনিয়তই একজন মহানায়কের শূন্যতা অনুভব করি? কিংবা একজন মহাপুরুষের ? এবং খুঁজে পেতে চাই একজন ইথিক্যাল ও মোরালিটির সাধু পুরুষকে। আর দেখতে চাই একজন সৈনিকও পরাজিত হয়ে সাধুর শিষ্যতে গ্রহণ করতে চায় । এবং আমরা দেখতে ভালোবাসি মৃত্যুও একজন সাধুর নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করে। এবং আমরা বুঝে নিতে চাই জন্মের উপহার ও মৃত্যুকে বরণ করার মেটাফোর। এবং নিজেকে সমর্পনের মেজাজটি আমরা ভেতরে লালন করতে থাকি। আর তাই আমরা অভিশাপকে আবিষ্কার করি। বলতে চাই- আইনুদ্দিন-মইনুদ্দিনের পরিবার মারা যায় শকুনের অভিশাপে।
এবং আমাদের জৈবিকতার আহারে নেমে আসতে হয় কখনো কখনো। আমরা হারিয়ে ফেলি চাপা স্বর, ভীত নিঃশ্বাস ও স্বনির্মিত সেই আশ্রয়স্থলটিকেও। রাতের তিন প্রহর পর্যন্ত জিকির করা লাল শালুতে ঢাকা সেই কবরখানাটি কতগুলি ঝোপঝাড়, কিছু উঁচু গাছ ও আগাছার আশ্রয়বাসে রূপান্তর হয়। এবং রূপান্তর হতে হয় সেই দেড়শতবর্ষী কড়ই গাছটিকে সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি দেয়ালে। আর এক সময়ের স্বচ্ছ পানির খালটি রূপান্তর হয় পীরপুর মহল্লার সমস্ত আবর্জনার একমাত্র নির্ভারস্থল হিসাবে। সাথে আমাদের কল্পনার দোষে শকুনেরা লোপাট হয়ে যায় ‘এ বি কোম্পানি লি:’-এর বড় হরফে। তবুও ভীতগ্রস্থতায় আমরা প্রত্মতত্ত¦ দৃষ্টিতে দেখে চলি ব্লক-বি’র দোতলা বাড়িটির অস্থি মজ্জা কাঠামো।
“… সাম্প্রতিক মানুষকে তুলে ধরার তাগিদে নিটোল গপ্পো ঝেড়ে তাঁরা তৈরী করছেন নানা সংকটের কাঁটায় ক্ষতবিক্ষত ছোটগল্পের খরখরে নতুন শরীর।” (বাংলা ছোট গল্প কি মরে যাচ্ছে? -আখতারুজ্জামান ইলিয়াস)
শারেফ আহমাদ সমালোচকদের পিঠ চাপড়ানো থেকে সরে আসা সেই উদ্দীপ্ত যুবক। যে কি না সমকালীন সময়ে মানুষের প্রবল ধাক্কা খাওয়াকে উপযুক্ত শরীরে উপস্থাপনের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন এবং তাতে ছোট গল্পের মুমূর্ষ শরীরে প্রাণসঞ্চারের চেষ্টা অব্যাহত।
নি¤œবৃত্ত জনগোষ্ঠি পাপে বিশ^স্থ থাকে, সাথে সে পাপ করার সাহসও দেখায়। উচ্চবিত্ত ঈশ্বরের বিরুদ্ধে নির্বাচন করে স্বৈরশাসকের ভ‚মিকায়। আর মধ্যবিত্ত ? নৈতিকতার একটি ঝকঝকে পোষাক কেনার কষরত করে চলে আজীবন। অবশেষে পলায়নপর জীবনের উপঢৌকন হিসাবে একটি ফ্ল্যাট পান। অতিতের বাঁচিয়ে চলা জীবনের বারবার ফাঁসিতে ঝোলার দৃশ্যগুলো দেখতে থাকেন শখের বাগান করা বেল্কুনির ইজিচেয়ারটায়। সে বিশ্বাস করে বাঁচিয়ে চলা এই কৌশলের ফজিলতেই তার পৃথিবীর সমস্ত উপভোগ্যে পানাহারের বরকত নিয়োজিত। কিন্তু ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বি হতে গিয়েও সে পারে না। এমনকি সমর্পনেও তাঁর লাজুকতা প্রকাশ পায়।
জীবত্বের উশৃঙ্খলকে শৃঙ্খলিত করার ভেতর দিয়ে প্রকাশিত হতে থাকে মানুষের অসহায়ত্ব। মানুষ সমর্পনের বেদি হিসাবে গ্রহণ করে ঈশ্বরকে। যদিও স্রষ্টা-সৃষ্টির দূরত্বে তার নিরবধি পথ চলা। আর সেই নিরবধি পথ চলার ভেতর দিয়েই সে ভৌগলিক সীমারেখায় হস্তক্ষেপের দুঃসাাহস অর্জন করে। সংষ্কার পন্থায় পরিচ্ছন্নতার একটা ছাঁচ তৈরী করে। কিন্তু সেখানে সকল আকৃতি স্থান পায় কি ? আর তাই শারেফ আহমাদের সৃষ্ট চরিত্র বিন্নিকে আমরা ভোগ্য পণ্যে পরিণত হতে দেখি। এ থেকে আমাদের নিস্তার নেই। আমাদের জীবত্বের উশৃঙ্খলা মাথা চারা দিয়ে ওঠে। সালাউদ্দীন ওরফে সালু, যে কিনা যৌবনের নিষ্পাপ অনুভূতিগুলো একমাত্র বিন্নির জন্য ব্যয় করেছে সেও অবশেষে শরাফত চেয়ারম্যান, লোকমান, মনির, শওকত, গেসুদের মতো পণ্য ভেবেই বিন্নিকে গ্রহণ করে। শারেফ আহমাদের সারকাজমের ভেতর আমরা পাই নারীর প্রতি নরের প্রতিশোধ নেয়ার মাধ্যমটি। বিন্নি-শওকতের হাসি-ঠাট্টাকে প্রেমের উচ্ছাস হিসাবে সালু গ্রহণ করে। সালুর মাথা থেকে হারিয়ে যায় শওকত বিন্নির একজন খদ্দের মাত্র। শওকতকে খুশি করাই বিন্নির কাজ। সালু প্রতিশোধের নেশায় বিন্নিকে ভোগ করে আর দশজনের মতোই। আর বিন্নির অশ্রুজলের ভেতর দিয়ে শারেফ আহমাদ জানান দেয় একজন ভোগ্য নারীর পুরুষের প্রতি অব্যক্ত বয়ান- সালু, তুমিও ব্যাডা মানুষ। আর সালু মধ্যবয়েসে এসে নিজের ছোট মেয়ের মুখে বিন্নির মুখায়ব খুঁজে পায়। এবং চেঁচিয়ে উঠে বলে, “বিন্নি বিন্নিরে আমারে তুই মাফ কইরা দিস, বিন্নি আমার বিন্নিরে…”
মানুষ যে ভৗগলিক সীমারেখায় হস্তক্ষেপের দুঃসাাহস অর্জন করে সংষ্কার পন্থায় পরিচ্ছন্নতার ছাঁচ তৈরী করল সেখানেই শারেফ আহমাদের থিওলজিক্যাল দৃষ্টি আমাদের জানান দেয়Ñ আদিম অস্তিত্ববাদের জন্মান্তরের প্রবাহমানতা। আমরা জেনে যাই রাষ্ট্র নায়করাও চার্চের শরণাপন্ন হতে বাধ্য। এবং এও সত্য যে গদা হাতে ইকবাল নামের ছেলেটি, যার মগজ কাফের, মুরতাদ, নাস্তিক, নাফারমান, মালাউন, ইহুদি, নাসারা, বিধর্মী, মূর্তিপূজক শব্দ-সাগরের ভেতর হাবুডুবু খাচ্ছে এবং ভাবছে তীরে উঠেই তার শহীদি আত্মা চিরায়াত স্বর্গের দুয়ারে পৌঁছে যাবে, সে দেখতে পেয়েছিল জিহাদ নামের এক ছেলেকে কুমিল্লার হোটেলে সকাল থেকে রাত অবধি নোংরা টেবিল পরিষ্কারের দৃশ্য। শারেফ আহমাদ আমাদের সামনে ইথিক্যাল-মোরালিটির বাজারকে উন্মুক্ত করে তোলেন। কতগুলো মিছিল, কতগুলো কলাম আর কতগুলো গবেষনাপত্র আমাদের জানান দেয় শ্রেনী-বৈষম্যের আঁতুড় ঘরের গন্ধ। আমরা ব্রাহ্মণ্যবাদের জালে আটকা পড়তে থাকি। এবং ফতোয়াবাজে প্রকাশ হতে থাকে ‘এ গড অব স্মল থিংস’। ফলতঃ আমাদের স্প্রিচুয়্যালিটি নির্বাসিত হতে থাকে। শারেফ আহমাদ আমাদের সামনে সামাজিক বৈচিত্রকেও তুলে ধরতে সক্ষম হন। সক্ষম হন দ্বন্দ্বকে পরিষ্কার করতে। যা কিনা মানব সভ্যতা হাজার বছর ধরে রপ্ত করে চলে এসেছে। আমরা মেনে নেই জিহাদ একটি ধ্বংসের অস্ত্র, জিহাদ একটি মুক্তির অস্ত্র। কিন্তু আমাদের প্রকৃত মুক্তি মিলবে বিনিময় প্রথায়।
গল্পের বাজারে চিন্তাশীল পাঠক হতাশ হন নতুন চরিত্রের অভাবে। নামগুলো শুধু পাল্টে যায়। অভ্যাস, রীতি, মেজাজ, তাপ-উত্তাপ সবই যেন কপি পেস্টের আওতায়। প্রেমের অনুভূতিতেও গভীরতম অসুখটি তারা নির্বাচন করতে যেন অক্ষম। তাহলে শারেফ আহমাদ কি নতুন কোনো চরিত্র আমাদের সামনে উপস্থাপন করেন ? নতুন কোনো ব্যথা ? সমাজের গজিয়ে ওঠা নতুন কোনো শাখার কি হদিস দেন? কিংবা নতুন কোনো কর্তনের আর্তনাদ ? শারেফ আহমাদের সৃষ্ট চরিত্রগুলো আমাদের কাছে রোমান্টিজমের হাওয়া বয়ে আনেন না। তাঁর চরিত্রগুলোকে আমরা ছুঁতে পারি, স্পর্শ করতে পারি। চরিত্রের সাথে কোলাহল মুখর জম্পেস আড্ডা দিতে পারি, বেনসন লাইট থেকে গোল গোল ধোঁয়া ওড়াতে পারি, চায়ের টেবিলে থাপ্পর মেরে প্রশাসনকে গালি দিতে পারি, সিস্টেমকে লাথি মারার স্পর্ধা রাখতে পারি। এমনকি রাত্রির নিস্তব্ধতার ভেতর দীর্ঘশ্বাসের বাতাসও আমাদের কানে এসে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু কেন ? কারণ তিনি আমাদের সামনে তুলে ধরেন চরিত্রের নৃতাত্তি¡ক পরিচয়। দরুণ আমরা অপরাপর মিশে যেতে পারি।
‘মামুন হোসাইন’ গল্পটিতে আমরা মামুন হোসাইন নামেরই তিনটি চরিত্রের সন্ধান পাই। প্রথম মামুন হোসাইনকে আমরা দেখতে পাই অনুভূতির আকাশে মুক্ত বিহঙ্গের মতো চরে বেড়াতে। কিন্তু তারপর ? অনুভ‚তির সর্বোচ্চ চূড়াকে স্পর্শ করেও কেন তাঁর ভেতর পরাধীনতার সুখ বাসা বাঁধে ? এমিলি ডিকন্সের কবিতা কেন স্টিভ জবসের প্রতিদিন ট্রাফিক সিগন্যাল ভাঙার জরিমানা হয় ? আমরা জানি না। কিন্তু আমরা দেখি। আমরা দেখি আমাদের ভেতরকার মামুন হোসাইনকে। কিন্তু আসলেই মামুন হোসাইন কে ? ‘মামুন হোসাইন আমাদের শহরে ঘোলা আকাশে ম্রিয়মান একটি তারার মতো উজ্জ্বল হয়ে বিকিরণ করে আমাদের এক ঘেয়ে ক্লান্ত জীবনে।’
গল্পের দ্বিতীয় মামুন হোসাইন হিসাবে আমার খুঁজে পাই কথাসাহিত্যিক মামুন হোসাইনকে। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস যেমন বলেছিলেন, “আমি ২৪ ঘন্টার লেখক। আমি যা কিছু দেখেছি একজন লেখকের চোখ দিয়ে দেখেছি।” শারেফ আহমাদ কি আমাদের একজন লেখকস্বত্বার সাথে মোলাকাত করাতে চান ? কিংবা একজন লেখক, যে কিনা সমাজের ক্ষতগুলো সবার আগে টের পান এবং ক্ষতগুলোকে নগ্ন ভাবে আমাদের সামনে মেলে ধরেন। আমরা জানি প্লেটো তার পলিসিতে কবিদের রাখতে চাননি। প্লেটো, আপনাকে আমাদের আধুনিক সমাজ থেকে একটি প্রবাদবাক্য- অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে ? এবং আমরা মামুন হোসাইনের বক্তব্য থেকে কতিপয় শব্দ বুক পকেটে করে বাসায় আনি। অতঃপর রাত্রির নির্জনতার ভেতর কতগুলি কুকুরের ঘেঁউ ঘেঁউ ধ্বনিকে পেছনে ফেলে মেলাতে থাকি ‘পুরষ্কার না তিরস্কার, নোবেল, টলস্টয়, সাম্রাজ্যবাদ, আমলাতন্ত্র, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, প্রান্তিক মানুষের জীবনরেখা, পেছন ফিরে দেখা এবং নিরবতা…’। এবং শারেফ আহমাদ আমাদের মগজে প্রবেশ করিয়ে দেন বাদামী রঙের ভিন্নতা। আমাদের ক্যানভাসে একে একে প্রলেপ পড়তে থাকে হালকা বাদামি, গাঢ় বাদামি, ধূসর বাদামি, উজ্জ্বল বাদামি, ম্রিয়মান বাদামি, অস্পষ্ট বাদামি, অ্যাবস্ট্রাক্ট বাদামির চিত্রকল্প। আমাদের ভাঙা হাড়ে ব্যান্ডেজের লেয়ার পড়তে থাকে একে একে। এবং আমরা নিখোঁজ হওয়ার সাধনায় ব্রত হই।
আমরা যখন আধুনিক সমাজের নগরগুলোতে সারারাত্রি আলোার ব্যবস্থা করে আমাদের পরাশ্রয়ী নগ্নতাকে উদযাপন করে চলেছি, তখন শারেফ আহমাদ আমাদের সমাজের কান্ডকে ধরে সমস্ত জোর দিয়ে একটি ঝাঁকি মারেন। আমরা যারা শাখার পত্রবিন্যাসে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে নিজেদের খেয়ালে এতোদিন বসে ছিলাম তারা নড়ে চড়ে বসতে বাধ্য হই, কেউ কেউ পতিতও হই।
আমরা দেখি গল্পের তৃতীয় মামুন হোসাইনের জন্মে নিরানব্বই জন ফকির মিসকিনদের ভেতর এলাকার ইমাম, চেয়ারম্যান, জোতদার, ইটখোলার ব্যাবসায়ী, পাড়া প্রতিবেশীদের আল্লাহকে উৎসর্গকৃত গরুর মাংশে মধ্যাহ্নভোজন সাড়তে। মামুন হোসাইনের বাবা ছেলেকে কোরআনের হাফেজ বানানোর খোয়াব দেখে। মামুন হোসাইন মায়ের পরম আদর এবং বাবার স্নেহমিশ্রিত শাসনের কওমী মাদ্রাসার শিক্ষায় বেড়ে ওঠে। মামুন হোসাইন জীবনের ক্ষণস্থায়ীত্বকে আবিষ্কার করে নবীর যাপন, পরকালের অনন্ত জীবন, হাসরের ময়দান, কিয়ামতের লক্ষণ, বেডিং, কাপড়ের পুটলি নিয়ে মসজিদে মসজিদে ঘুরে বেড়ায়। আমরা শারেফ আহমাদের কথায় জানতে পারি-
“মামুন হোসাইন সুদূরের অতিথি পাখি
মামুন হোসাই বিপন্ন লক্ষী পেঁচা
মামুন হোসাইন থিক থিক ঘরে ফেরা চড়ুই
না হলে লাক্স সাবান
সাম্পান
খেজুর।
যদি কোনোটার মাঝেই মামুন হোসাইনকে চিনতে পারা না যায়, তবে একটা কথাতে নিশ্চিত হতে পারেন- তাদের প্রত্যেককেই আপনারা মামুন হোসইন নামে চিহ্নিত করতে পারবেন।”
‘যে কথা শেষ খুঁজে পায় না’ গল্পগ্রন্থটিতে মোট ৪ টি গল্প রয়েছে। ৪ টি গল্পই পরষ্পর থেকে যোজন যোজন দূর বিচ্ছিন্ন। তবুও আমরা শারেফ আহমাদের মেটাফোরিক কারিশমায় সংযোগ স্থাপন করতে সামর্থ্য হই, জানতে পারি এই সমাজের বর্তমান হাল হকিকত। তাহলে শারেফ আহমাদ কি সময়োত্তীর্ণ শিল্প উপহার দিতে পারলেন না ? তার জন্য নিশ্চয়ই আমাদের আরও অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। এবং শিল্পের সার্বজনীন সত্য এটাও যে, ক্লাসিক শিল্পে সময়ের গভীরতম ক্ষতগুলো নগ্নভাবে উপস্থিত থাকে। আমরা মূলত সময়ই রচনা করে যাই সময়োত্তীর্ণ পথে।





কমেন্ট করুনঃ