হঠাৎ আকাশ ভাঙে। বিদ্যুৎ চমকায়। চিড় ধরে নিমিষে। দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পুব প্রান্তজুড়ে। তীব্র আলোর দুরন্ত চ্ছ্বটা। চোখ ধাঁধিয়ে অন্ধ জামাল। পরমুহূর্তেই গুড়ুম গুড়ুম! প্রায় মাথার ওপর বজ্রপাত। দু’চোখ ঝলসে যাওয়ার অবস্থা। শরীর কাঁপছে। থরথর করছে অস্তিত্বের শিকড়-বাকড়। যেনো উপড়ে আসবে মূল শুদ্ধু। হয়তো পৃথিবীটাই কক্ষচ্যূত হবে আজ! অথবা ছায়াপথের চৌকাঠ পেরিয়ে হাঁটা দেবে অনন্তের পথে। দুলছে ভ্রহ্মাণ্ড অনিশ্চিতের নাগরদোলায়।
মাঝ চৈত্র। চলছে কালবোশেখির উন্মাতাল আয়োজন। এলোমেলো পায়ে হাঁটছে জামাল। গতি অতি মন্থর। যেনো শামুকের বুকে হাঁটা। পা ফেলছে ইচ্ছের বিরুদ্ধে। মনে অসন্তোষের প্রলয়। ওলোট পালোট হচ্ছে প্রতি রক্তবিন্দু। দু’দিন পর ঈদ। এখনই ঝলমল করছে শিশুদের মুখ। মনে আনন্দের জোয়ার। ঈদেরদিন নতুন পোষাকে নাচবে প্রজাপতি ছন্দে। পক্ষান্তরে তার সন্তান নিলয়? সে কী করবে? মুখ লুকাবে ছেঁড়া কাপড়ে! পড়ে থাকবে ঘরের কোণে!! অন্ধকারে!!! অনেক ভেবে-চিন্তে সাহস করে গিয়েছিলো মালিকের কাছে। গোপনে একা। দেখা করে চোখের জলে সাহেবের পা ভাসিয়েছে। কিন্তু চিড়ে ভিজেনি। উৎসব-ভাতাতো দূরের কথা! জোটেনি পাওনা মাস মাইনেও। শিপমেন্ট আটকে গিয়ে নাকি গার্মেন্টসের অচলাবস্থা। কিন্তু মজুরদের ক্ষুধা? তাদের পরিবারের ঈদ? শ্রমিকরা এখানে ওখানে জট পাকাচ্ছে। ওদের মধ্যে আন্দোলনের গুনগুন। জামালের ভাল্লাগছে না কিছুই। মালিকের প্রত্যাখ্যানে তার মন ভেঙে গেছে। জটলা থেকে সে ছিঁটকে বেরিয়ে আসে বাইরে। ছেলেকে কথা দিয়েছে এবারের ঈদে নতুন জামা দেবে। তাই কাজ থেকে ফেরার পথে প্রায় দিনই সে মার্কেট হয়ে আসতো। দোকানে দোকানে ঘুরে পছন্দ করেছে কয়েকটি জামা। দরদাম প্রায় চূড়ান্ত। টাকা দেবে আর প্যাকেট বগলদাবা করবে। বাড়ি গিয়ে চমকে দেবে ছেলেকে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বিপরীত। এখন ফিরছে খালি হাতে। অপরাধের বোঝা কাঁধে। লড়ছে প্রকৃতি কাঁপানো ঝড়ের সাথে। হঠাৎ গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে ওঠে জামাল- ইয়াআল্লাহ্! সব লণ্ডভণ্ড কইরা দেও! আমার অন্তরডারে যিমুন ফালা ফালা করছে, সেইরকম দুইন্নাইডারেঅ উল্টায়া দেও। সবাই আমার মতোন নাইম্মা আসুক রাস্তায়। নাইলে সবাইরে সমান কইরা দেও ইয়া মাবুদ! তার কণ্ঠ চাপা পড়ে মেঘ-গর্জনের প্রচণ্ডতায়। কালো অন্ধকারে। চারদিকে ঝড়ের তাণ্ডব চছনছ করছে গোটা প্রকৃতি।





কমেন্ট করুনঃ