আমি মৃত বলছি
আমি মৃত বলছি
এই ঘাসের জমিনের নিচে বহুকাল আগে ঘুমিয়ে যাওয়া এক মৃত বলছি
আমি যখন শৈশবের বালক, কত বার মনের উল্লাসে এখানে গড়াগড়ি খেয়েছি
ঘুমিয়েছি কতবার
তার ইয়ত্তা নেই।
পাশে প্রজাপতির সংসার ছিল
ছিল জোনাকির মিছিল।
আমি মৃত বলছি
এই ঘাসের জমিনের নিচে বহুকাল আগে ঘুমিয়ে যাওয়া এক মৃত বলছি
আমি যখন কৈশোর ডিঙ্গিয়ে নতুন যৌবনে পা রেখেছি
এখানে আমি এক কন্যাকুমারীর ঘ্রাণ পেয়েছি।
কত খুনসুটি, কত ন্যাড়াপোড়ার গল্প, কত ভানবাসী মানুষের ছবি, চিৎকার, চেঁচামেচি
আর দেখেছি
চারণভূমি পার হয়ে
বেদেদের ডাহুক জীবন
ছুটছে, ছুটছে, শুধু ছুটছে রাতের আঁধার কেটে
দুর্বার রানারের মতো ।
আমি মৃত বলছি
এই ঘাসের জমিনের নিচে বহুকাল আগে ঘুমিয়ে যাওয়া এক মৃত বলছি
একটা মহাপতঙ্গ
হ্যাঁ, একটা মহাপতঙ্গ
এসেছে
এসেছে দুর্ভিক্ষ কবলিত মানুষের খাবার নিয়ে
আমি যখন দেখতে পেলাম, একি আমি মৃতদের দলে পড়ে গেলাম
তোমরা কি কেউ বলতে পারো!
তবে কে ছিল এই মহাপতঙ্গ?
কী ছিল তার পেটের ভিতর?
তবে বলো—
এই ঘাসের জমি এখন কার? আমাদের?
আমাদের দুঃখী গাভীগুলো শুকনো খড় খেতে খেতে এখন ক্লান্ত প্রায় ।
আমাদের ঘাসের জমি কেঁটে তোমরা
তোমরা জীবিতরা আজ
শহীদ মিনার গড়েছো
স্মৃতিসৌধ গড়েছো
স্ট্যাচু অব লিবার্টি গড়োছো
গড়েছো বহুকাঙ্খিত সোনার ফসল
সংবিধান।
তবু কেন আমার পাশে ঘুমায় ভূমিহীন মানুষের মুখ
ওরা কি চিল! কাক! ভূখন্ডবিহীন!
তবে কেন ঘুমায় আমার পাশে যত বঞ্চিত মানুষের দল
যাদের ভূমি, তোমাদের আজ খাদ্য
যাদের রক্ত, তোমাদের আজ পিপাসার জল।
আমাকে বলো, আমাকে বলো,
এই শহীদ মিনার, এই স্মৃতিসৌধ, এই স্ট্যাচু অব লিবার্টি শুধু ক্রংক্রিটের স্তূপ!
আমি মৃত বলছি
এই ঘাসের জমিনের নিচে বহুকাল আগে ঘুমিয়ে যাওয়া এক মৃত বলছি ।
তবে আসন্ন
প্রতিটি গোরস্থান, প্রতিটি শশ্মান, প্রতিটি সমাধিক্ষেত্র প্রসববেদনা নিয়ে বলে ওঠবে
বজ্র নিনাদ কণ্ঠে
আমি জননী, আমি জননী
এই নাও দিলেম আবার আমার রক্তকবরী,
এই দেখো আমার চৌরাশি লক্ষ যোনীর রুদ্রমূর্তি ।
কী করবে
কী করবে তখন তোমরা?
তোমরা জীবিতরা!
কোনো গোরস্থান থাকবে না তখন, থাকবে না কোনো শশ্মানভূমি
এমন কি থাকবে না কোনো সমাধিক্ষেত্র
কোথায় লুকাবে তোমরা
কোথায় পালিয়ে যাবে তোমরা
আমি মৃত বলছি
এই ঘাসের জমিনের নিচে বহুকাল আগে ঘুমিয়ে যাওয়া এক মৃত বলছি ।
—
৬ই মে ২০২৪
ফতুল্লা
মুখোশ
একটা, শুধু একটা দিয়াশলাই কাঠি
একটা ঘর, একটা জনপথই নয়— পুরো পৃথিবী পোড়াবার সমর্থ পৌরুষ
অনায়াসে বুনতে পারে দগ্ধময় কাব্যের শত সহস্র পঙক্তিমালা
অথচ গোটা একটা দিয়াশলাই বক্স বুকে নিয়ে বসে আছি
পারছি না তবু জ্বালিয়ে পোড়িয়ে ভস্ম করে দিতে
আমার চন্দন মাখানো মুখোশ …
মুখোশ, তোমাকে অভিনন্দন, আমাকে নিয়ে এলে এতদূর
অথচ আমার গন্তব্য আরশিনগর, জলে ছাওয়া নীল আকাশ
বৃষ্টির জলে, বৃষ্টির জলে এখনিই ধূয়ে যাক আমার মুখোশ ।
—
১১ জুলাই, ২০২৪
ফতুল্লা
জবাফুল
ঐ জবাফুলের লালটুকটুকে রঙকে
কোথায় বসাবেন
একাউন্টেন্ট সাহেব
পিএন্ডএল?
ব্যালেন্স শীটের টেনজিবল না ইন্টেনজিবল অ্যাসেটের পাশে?
আইএএস কত? আইএফআরএস কত?
অডিটর সাহেব
কোথায় খোঁজবেন
জবাফুলের ঐ মেঠো শিকড়কে
আইএসএ কত? কোড অব ইথিক্স কত?
কী দিবেন রিপোর্ট অডিটর সাহেব—
কোয়ালিফাইড? আনকোয়ালিফাইড?
বিজ্ঞ
ট্যাক্স কনসাল্টেন্ট
বলুন কোথায় দেখালে সবুজ পাতা পাবো
ঐ লাল রঙা জবাফুলের ঘ্রাণ থেকে
সেকশন কত? সিউিউল কত? এসআরও কত?
কবি বলুন,
কেমন সুন্দর দেখায়—
একটি কবরের ওপর ফুঁটেথাকা লাল টকটকে জবাফুল?
মাত্রাবৃত্ত? অক্ষরবৃত্ত? স্বরবৃত্ত? টানা গদ্য?
বলুন,
কী পেলেন প্রত্নতাত্ত্বিকগণ
পঞ্চাশ বছর খুঁড়ে
কী প্রকাশ করবেন—
শিকড়? বাকল? ঝরাপাতা? ঝরাফুল?
পথের মোড়ে দাঁড়াইলেই দেখি—
জবাফুলের রঙে লেখা লাল বর্ণমালায়
“সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত
উন্নয়ন কাজ চলিতেছে”
জবাফুল এবার তুমিই বলো
তুমি কোথায়?
মাধবীবেনীর খোঁপায়?
বনবিবির কুঞ্জে?
মৃতের গোরস্থানে?
বলো, লাল টুকটুকে জবাফুল
তোমার সিএস, আরএস, বিএস কত?
—
১২ই জুলাই ২০২৪
ফতুল্লা
আবু সাঈদ
আজ আমার বার বার বিক্ষিপ্তভাবে মনে আসছে,
নবারুণ ভট্টাচার্যের সে বিখ্যাত কবিতার পঙক্তিটি
“এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না” ।
আজ আমার বার বার মনে জেগে উঠছে ভিষণ
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহের সে বিখ্যাত কবিতার পঙক্তিটি
“আমি কিংবদন্তির কথা বলছি” ।
আমি দেখতে পাচ্ছি নূরুলদীনকে
নিলক্ষার নীল আকাশ থেকে
কালো অন্ধকার পূর্নিমায়
ডাক দিচ্ছে
“জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়”
এই
২০২৪ সালে।
আমি দেখতে পাচ্ছি নুর হোসেনকে
কোমরে বাঁধা শার্ট,
উদোম শরীরে বুকে-পিঠে সে কালজয়ী সাদাঅক্ষর উৎকীর্ণে
বলছে
“স্বৈরাচারের নিপাত যাক, গনতন্ত্রের মুক্তি পাক”
এই
২০২৪ সালে।
আবু সাঈদ
আবু সাঈদ
তোমার ছাতির মতো মেলা ধরা বুক
আমার হৃদয় পাঠ করছে শামসুর রাহমানের সে বিখ্যাত পঙক্তি
“বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়” ।
তোমার গর্জে ফুঁসে ওঠা বুক
আমার ভিতরের আমি মন্ত্রপাঠ নিচ্ছে
সুকান্তের সেই অঝর অমর পঙক্তিটি
“সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী / অবাক তাকিয়ে রয়ঃ
“জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার/ তবু মাথা নোয়াবার নয়।”
সাঈদ,
তুমিই আজ আমাদের নূর হোসেন, নূরুলদীন
তোমার রক্তগঙ্গার ঢেউয়ের সারিতে আজ সমুদ্র উত্তাল,
পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্রের এই পলিদ্বীপে;
ঢেউ তুলেছে নবগঙ্গা:
আদনান, আসিফ, রাফি, ওয়াসীম;
তুলেছিল ঢেউ বায়ান্নের সাগরে—
সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউল।
“স্যার! এই মুহূর্তে আপনাকে ভীষণ দরকার, স্যার”
তোমার এই আকুতি পৌঁছে যাক—
৬৯-এর অগ্নিঝরার বিক্ষুদ্ধ দিনে
মিছিলের সামনে ছাত্রদের ঢাল হয়ে দাঁড়ানো
সে বটবৃক্ষ
স্যার শামসুজ্জোহার কাছে
আর ওমনি কবর থেকে ওঠে আসুক লক্ষ-লক্ষ, কোটি- কোটি শামসুজ্জোহা
চীনের গ্রেট ওয়াল হয়ে…
রাজপথ আজ ধ্বনিতে ধ্বনিতে জয়ধ্বনি করছে:
” তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার
কে বলছে? কে বলেছে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার ”
—
১৭ই জুলাই ২০২৪, ফতুল্লা
লাল সবুজ পতাকা
হেলাপড়া দুপুরের গল্প
এমন হবে
লাল টকটকে
কে জানতো?
আমরা একটি ফুলের হাসির জন্য যুদ্ধ করেছি
আমরা কারার ঐ লোহ কবাট ভাঙ্গার জন্য রক্ত দিয়েছি।
আমাদের দেখার কথা ছিলো
বসন্ত
কথা ছিলো
আমরা ভালোবাসবো ভাঁটফুল,শাপলাফুল, জুঁই, চামেলী, কামিনী, সব মালবিকা
কথা ছিলো
তুমি যদি একমুঠো ভাত খাও, আমিও একমুঠো খাবো ।
এ কি গল্প আমি লিখতে বসেছি
দুপুরের নির্জনতায় বসে
গাঢ় রক্তের সাগরে
কী কবিতা বুনতে বসেছি
দুপুরের তপ্ত রোদে
তাজা রক্তের গ্লাসে ।
এক একটি গল্পের নাম:
আবু সাঈদ, আদনান, রাফি, আসিফ, ওয়াসিম
ভেজা নালরঙা শার্ট, বুকখোলা জীবন উৎকর্ণ হাসি
এক একটি কবিতার নাম:
আবু সাঈদ, আদনান, রাফি, আসিফ, ওয়াসীম
অমরত্বের হাসি, জাগ্রত চৌরঙ্গি ।
তরমুজের মদের মতো সব লাল—
মায়ের বুকখালি হাহাকার, পিতার কলিজা ফাঁটা চিৎকার
ভাইয়ের কামারের দোকানের হাফুরের মতো জ্বলে ওঠা ফোঁস ফোঁস ধ্বনি
বোনের গগন বিদীর্ণ শোকের কারবালার মাতম
ওঠে এসো সব সূর্য সন্তান
বুকের ছাতিতে আগুন জ্বেলে
রক্তে আজ আগুন লেগেছে
জেগেছে আজ আবার লাল সবুজ পতাকা ।
—
১৮ই জুলাই ২০২৪, ফতুল্লা
রণ পুষ্পমালা
ঘরে থাকবার দিন নয় অদ্য
মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে
কোমরে শক্ত কাচা দিয়ে
চলে আয়্ যুদ্ধের ময়দান
চলে আয়্ রাজপথে আবাল বৃদ্ধ তরুণ নওজোয়ান ।
আমরা দলিত, আমরা নিরস্ত্র
আমাদের পিঠ ঠেকে গিয়েছে
পিছনে বদ্ধ দেওয়ালে, সম্মুখে মৃত্যুভয়
তবু আয়্
আয়্ বাহুতে শক্তি নিয়ে
আয়্ বুকে সাহস নিয়ে
মনে রাখ্
আমাদের বাহুই অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র রাইফেল
আমাদের রাঙ্গা চোখই মিসাইল, গ্রেনেড
আমাদের বুকই বুলেট প্রুফ লাইফজ্যাকেট ।
আমাদের মন্ত্র আমাদের বুকের তাজা রক্ত
আমাদের মন্ত্র আমাদের ঐক্য
আমাদের মন্ত্র আমাদের স্বপ্ন ।
না । কিছুতেই না । কিছুতেই দেবো না ।
আমাদের রক্ত বৃথা যেতে
আমাদের রক্ত বানের জল নয়, জলের দরে গড়িয়ে যাবে
আমাদের রক্ত মেহনতি মানুষের শ্রমে ঘামে নির্মিত
আমাদের রক্ত পুঞ্জীভূত মান অভিমান রাগ ক্ষোভের বিস্ফোরণ
আমাদের রক্ত স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় উজ্জীবিত ।
আয় ছুটে, ছুটে আয়্
মরনকে তুচ্ছো করে, মরনকে ঢাল করে
কি লাভ বল্ বেঁচে, মরণকে বরণ করে ।
আয়্ ছুটে আয়্
প্রাণপণ মুক্তিপণ নিয়ে
দ্যাখ্ পথে কত প্রাণ ঝরে গ্যাছে হায়নার ছোবলে
আর নয়, আর নয় — বসে থাকা
দরজা জানালায় খিল দিয়ে
কানে তুলা দিয়ে
চোখে কাঠের চশমা দিয়ে
আয়্ ছুটে
জীবনের গান নিয়ে
বাজা দামামা, উড়া নিশান, ফোঁসে ওঠ্ জলোচ্ছ্বাসের মতোন ।
দাবানল হয়ে আয়্
অগ্নিগিরি হয়ে আয়্
আয়্ ভুমিকম্প হয়ে
পণ কর্, করো পণ এ সংগ্রাম চলবেই, চলবেই অবিরাম ।
বিজয়ের পুষ্পমালা নিতে হবে মনুষ্য শিরে
যথটা রক্তের প্রয়োজন দিবো অর্ঘ্য
আয়্ আয়্ আয়্ ছুটে, ছুটে আয়্ রণপণ নিয়ে, জীবন নিয়ে ।
—-
৩১শে জুলাই ২০২৪
ফতুল্লা
শ্রাবণের বৃষ্টিধারা
রাজপথে তুমুল বৃষ্টি ঝরায়ে শ্রাবণ এসে থেমেছে
পুব দিগন্তে
তীর্যক আলো আর সম্ভাবনার দ্যুতিতে…
কাকগুলোর কা-কা স্বর নেই আর
হায়েনাগুলোর তীক্ষ্ণ দাঁত বেতো হয়ে আছে
ঘাড়গুঁজে পড়ে থাকা ইঁদুরের মতো
কোথাও আর দেখা নেই সেই পুরোনো গলাচিলা শকুন
আকাশ আজ সম্পূর্ণ মেঘমুক্ত
চলো আজ, তুমি আমি কদমফুলের মতো স্নিগ্ধ হই, লাবণ্য ছড়িয়ে দেই অবারিত
দ্যাখো আমাদের কুঁড়িগুলো কী সুন্দর রঙ্গিন
এই আসন্ন বসন্তে
শিমুল, পলাশ, কৃষ্ণচূড়া
—-
৮ই আগষ্ট ২০২৪
শহীদ মিনার
সব নদীর জল এক হয়ে আজ বঙ্গোপসাগরে পড়েছে
এই বঙ্গোপসাগরের নাম
শহীদ মিনার।
জলের ঢেউয়ে ঢেউয়ে দেখতে পাবেন—
উজ্জ্বল এক আকাশ ভরা নক্ষত্রের মেলা
এখানে কে নেই—
ভাড়াটানা বাদ দিয়ে আজ রিকশাওয়ালা এসেছে
হেঁটে হেঁটে বিক্রি করা বাদ দিয়ে আজ ফেরিওয়ালা এসেছে
এসেছে শহীদ জননীরা
এসেছে আজ বীর মুক্তিযোদ্ধারা
এসেছে পিতা—
যার সন্তান বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছে কালো পিচঢালা রাজপথে
এসেছে বোন—
কোনো রোদনের জন্য নয়
এসেছে ভাই—
কোনো শোক করবার জন্য নয়
এখানে আছেন,
ছাত্র-শিক্ষক-জনতা
চাকরিজীবী, পেশাজীবি, শ্রমজীবী, বহু অগণিত নক্ষত্র
আছেন—
কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী ও কলাকৌশলী
আছেন—
বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী
আছেন—
আপামর বাংলার কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর
আরো আছেন—
শহীদ মিনার কবিতার
সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউল পঙক্তিমালা
আছেন—
স্মৃতিসৌধ মহাকাব্যের সকল মহা নায়কেরা
আছেন—
লাল সবুজ পতাকার
তিরিশ লক্ষ শহীদের রক্তিম মুখ, দুই লক্ষ বীরাঙ্গনার বজ্রনিধন কন্ঠ
আছেন—
এক নুর হোসেন
স্বৈরাচার উপন্যাসের অমর নায়ক
কে নেই এখানে—
আছে ফুসকাওয়ালা, আছে বাদামওয়ালা, আছে চটপটি বিক্রেতা
আছে শিশু, আছে কিশোর, আছে প্রেমিক-প্রেমিকা যুগল
সব নদীর জল এক হয়ে আজ বঙ্গোপসাগরে পড়েছে
এই বঙ্গোপসাগরের নাম
শহীদ মিনার।
এ বাংলা মায়ের প্রথম প্রসব সন্তান।
বুকে শত সমুদ্রের রুদ্রকালভৈরবী গর্জন নিয়ে
আকাশ ফাটা বজ্রদীপ্ত কন্ঠে ডাক দিচ্ছে আবার
তেতাল্লিশের নুরুলদীনের মতো এই বাংলায়
“জাগো বায়ে, কোনঠে সবায়”
—
৪ঠা আগষ্ট ২০২৪
গণঅভ্যুত্থান
– পাখিদের অরণ্যে!
– গো-বাথানে!
– স্বর্গরাজ্যে!
– ফসলের ঘুমে!
কোথায় নেই দ্রোহ? বিদ্রোহ?
অরণ্য জেগেছে আজ সিংহরাজার বিরুদ্ধে
একটাই দাবি—
হরিণেরা কেনো গুম হয়ে যায়, শিকার হয়ে যায়
ডোরাবাঘ, জলকুমিরের দাঁতে, নখে?
ঈগলের কাছে আরজি ছোটো ছোটো পাখিদের
সাপেরা কেনো বার বার হিস্ হিস্ শব্দ করে হানা দেয়—
আমাদের তা দেওয়া ডিমের সংসারে?
গৃহস্থের গাই-গোরুর অভিযোগ—
আমাদের ওলান, আমাদের দুগ্ধ, আমাদের বাছুর
তবু কেনো উপোস আমাদের বাছুর?
ইন্দ্র ভয়ে আছন্ন সদা
এই বুঝি এলো, ঘনিয়ে এলো স্বর্গের আয়ুর্বেদিক জীবন
দে লাগাই, লাগাই দে সমুদ্র মন্থন খেলা, খেলা
মাঠে বসেছে পৌষধানের গল্প, কবিতার আসর
ইঁদুরের দাঁত কুটকুট করে আবৃত্তি করছে
“সময়ের বোরোধান”
দ্রোহ! বিদ্রোহ!! বিদ্রোহ! দ্রোহ!!
তবু দেখি
অরণ্যে সিংহ, মাঠে ইঁদুর, স্বর্গে ইন্দ্রনাথ, পাখিদের রাজ্যে সাপ
স্ব-স্ব আসনে অধিষ্ঠান ।
একটা গণঅভ্যুত্থান, একটা গণঅভ্যুত্থানে
অরণ্যে সাদা পায়রা, মাঠে বাতাসে দোলানো বোরোধান
পাখিদের পাতায় বোনা নীড়
অক্ষত শান্ত,
শান্ত স্বর্গের দেবতা ।
শুধু বাদ যাক সমুদ্র মন্থন-মন্থন খেলা
নতুবা বারবারই অভ্যূত্থান হবে, অভ্যূত্থান— গণঅভ্যুত্থান
—
১৮ই আগষ্ট ২০২৪





কমেন্ট করুনঃ